চলুন ঘুরে আসি, বিশ্বের দ্রুতগামী ট্রেনগুলোয় করে…
প্রথমেই পৃথিবীর সব থেকে বড় বিস্তৃত এলাকা চীনের দিকে। চীনে রয়েছে দুইটি দ্রুতগামী ট্রেন।
সাংহাই মাগরেড
সিআরএইচ ৩৮০
জাপানিরা কেনো পিছিয়ে থাকবে। তাদের রয়েছে
‘শিংকানসেন ই-৫’ নামের একটি দ্রুতগামী ট্রেন। এই ট্রেনটির ঘন্টায় গতিবেগ
১৯৯ মাইল। এই ট্রেনটিকে ‘ডাব-বিলড প্লাটিপাস’ নামেও ডাকা হয়। কারণ এর
সামনের দিকটা প্লাটিপাস প্রাণীর আকৃতির মতো। শুধু গতির ঝড়ই নয়। এর ভেতরে
রয়েছে বিদ্যুৎ চালিত ৪৫ ডিগ্রি কোণে ঘুরতে সক্ষম গ্র্যান ক্লাস লেদার শেল
চেয়ারসমূহ। এটা হনশু দ্বীপের উত্তরাঞ্চলীয় আওমরি ও টোকিওর মধ্যবর্তী ৪১৯
মাইল ব্যাপী টি হকু চলাচল করে।
ঘন্টায় ১৯৯ মাইল গতিবেগ সম্পন্ন একটি
ট্রেন ফ্রান্সেও রয়েছে। ফ্রান্সের এই ট্রেনটির নাম ‘টিজিভি পোস’। ১৯৮১ সালে
চালু হওয়া এই ট্রেনটি চালু হয়। ২০০৭ সালে এটিকে আধুনিকায়ন করা হয় এবং
পরীক্ষামূলকভাবে চলাকালে ঘন্টায় ৩৫৭-২ মাইল অতিক্রম করে বিশ্ব রেকর্ড
সৃষ্টি করে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় রয়েছে ঘন্টায় ১৯০ মাইল
গতিসম্পন্ন ‘কেটিএক্স-টু’ নামের একটি ট্রেন। তবে এটির রেকর্ড গতিবেগ ঘন্টায়
২১৭ মাইল। হিউন্দে কোম্পানীর এই ট্রেনটি ৭ মিনিটের মধ্যে ০ থেকে ১৯০ মাইল
গতিতে চলতে সক্ষম এবং ১.২ মিনিটের মধ্যে থামতে সক্ষম। দ্রুতগামী এই ট্রেনটি
মাত্র ৩ ঘন্টারও কম সময়ে সিউল থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী বুশান ও
মকপোতে পৌঁছতে পারে।
ব্রিটেন, ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের মধ্যে
চলাচলকারী ‘ইওরোস্টার ক্লাস-৩৭৩’ ট্রেনটির ঘন্টায় গতি ১৮৬ মাইল। এই দীর্ঘতম
ও দ্রুতগামী ট্রেনটি ব্রিটিশ দ্বীপসমূহ সহ ছাড়াও চ্যানেল টানেল দিয়ে তিনটি
আন্তঃদেশীয় সুন্দর স্টেশনের মধ্যে চলাচল করে। স্টেশনসমূহ হচ্ছে লন্ডনের
সংস্কারকৃত ‘প্যাংক্রাস স্টেশন’, প্যারিসের ‘গেয়ার দ্যু নর্দ’ এবং
ব্রাসেলসের ‘সাউথ স্টেশন।’ এছাড়া ট্রেনটি প্যারিসের ভিজনী ল্যান্ড-এ থামে।
অ্যাভিগনন ও ফ্রেঞ্চ আপ্লস-এ এর মৌসুমী রুটও রয়েছে।
‘এইভ সিরিজ ১০৩’ নামের ঘন্টায় ১০৩ মাইল
গতিবেগ সম্পন্ন একটি দ্রুতগামী ট্রেন রয়েছে স্পেনে। তবে এর রেকর্ড স্পীড
২৫০ মাইল। স্পেনের এক সময়ের সবচেয়ে শ্লথ ও কম দক্ষ রেলওয়ে এখন ইওরোপের
সর্ববৃহৎ দ্রুতগামী নেটওয়ার্ক-যা ১৯০০ মাইল ব্যাপী চলাচল করে। স্পেনের
সবচেয়ে বড়ো নগরীতে তার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত।
আর সবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালীর
আবিষ্কারক ইলোন মাস্ক ঘন্টায় ৭০০ কিলোমিটার বেগে চলতে সক্ষম এমন এক ট্রেন
আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই ট্রেনটি সৌরশক্তির মাধ্যমে চলাচল করবে।
এটি লসএঞ্জেলস থেকে সিলিকন ভ্যালীতে পৌঁছবে মাত্র ৩০ মিনিটে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন