বুধবার, ২৮ মে, ২০১৪

দাঁতের ব্যথায় ঘরোয়া সমাধান

মাঝরাতে আচমকা ঘুম ভেঙ্গে গেল, প্রচণ্ড দাঁত ব্যথা। এত রাতে আপনার ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়ার সুযোগ নেই,বাসায় নেই কোন ওষুধ-পত্রও। এদিকে দাঁতের ব্যথায় প্রাণ যাবার উপক্রম। কী করবেন? উপশমের উপায় কিন্তু হাতের কাছেই পেয়ে যেতে পারেন একটু খুঁজলে। কিভাবে? আসুন,জেনে রাখি।

প্রথমেই হালকা করে ব্রাশ করে নিন, চাইলে ফ্লসও করতে পারেন। অনেকসময় দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাদ্যকণাই কারণ হতে পারে আপনার যন্ত্রণার। সেক্ষেত্রে উপকার পাবেন। এবার সুবিধা মত অনুসরণ করুন নিচের পদ্ধতিগুলোর একটি।


১)লবণ পানিতে কুলকুচি করুন
-
দাঁতের ব্যাথায় দারুণ কাজ করে লবণ পানি। এমনকি ডাক্তা্ররাও এটি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন প্রায়ই। এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে আধা চা চামচ লবণ গুলে নিন। মুখের ভেতরে পানি নিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন, কুলিকুচি করে ফেলে দিন। এভাবে করতে থাকুন পরপর কয়েকবার ।

২)লবঙ্গ গুঁড়ো করে ব্যথাযুক্ত দাঁতের উপর দিন
-
এটি বেশ পুরনো কিন্তু সহজ একটি পদ্ধতি । লবঙ্গ থেঁতলে বা গুঁড়ো করে সামান্য পানি বা অলিভ অয়েল মিশিয়ে পেস্টের মত করে যে দাঁতে ব্যথা করে সেটার উপর লাগিয়ে রাখুন ।

৩)ভ্যানিলা এক্সট্র্যাক্ট ব্যবহার করুন
-
কেক বা মিষ্টি জাতীয় খাবার তৈরির জন্য অনেকেই আমরা ভ্যানিলা এক্সট্র্যাক্ট বাসায় রাখি। এটিই আপনাকে বাঁচিয়ে দিতে পারে চরম যন্ত্রণা সহ্য করার হাত থেকে। একটি কটন বাড কিংবা তুলোর বল ডুবিয়ে নিন এক্সট্র্যাক্টের শিশিতে। এরপর ব্যাথাযুক্ত দাঁতের ওপরে চেপে ধরে রাখুন ।

৪)কর্পূরে মিলবে ব্যথামুক্তি
-
কিছুটা কর্পূর তুলোয় লাগিয়ে আক্রান্ত স্থানে ব্যাবহার করুন। তবে সতর্ক থাকুন। বেশি পরিমাণে কর্পূর অসাবধানতাবশত গিলে ফেললে ক্ষতি হতে পারে ।

৫)ভিনেগার ব্যবহার করুন
-
তুলোর বল বা কটন বাডে ভিনেগার লাগিয়ে আগের মতই (উপরোক্ত পদ্ধতিতে) ব্যবহার করুন ।

৬) দাঁতের ফাঁকে কিছুক্ষণ ধরে রাখুন আদার টুকরো
-
এক টুকরো আদা ভাল করে ধুয়ে মুখের যে পাশের দাঁত ব্যথা সে পাশে রেখে চিবুতে থাকুন ।

৭) পুদিনা পাতার উপকার গ্রহণ করুন
-
ফ্রিজ থেকে ফ্রেশ পুদিনা বের করে ধুয়ে নিন। এরপর চিবিয়ে নিন কিছুক্ষণ ।

৮) শসা টুকরো করে দাঁতের উপর রাখুন
-
শুধু সালাদের জন্যই নয়, শসার ন্যনহার উপযোগিতা বুঝতে পারবেন দাঁতের ব্যথাতেও। ঠান্ডা শসা টুকরো করে রাখুন দাঁতের উপর। ঠাণ্ডায় দাঁত শিরশির করার সমস্যা থাকলে ফ্রিজ থেকে বের করার পর কিছুটা সময় অপেক্ষা করে ব্যবহার করতে পারেন ।

৯)বেকিং সোডা ব্যবহার করুন
-
একটি কটন বাড পানিতে ভিজিয়ে নিয়ে সোডার কৌটায় ডুবিয়ে নিন। খুব সহজেই বেকিং সোডা লেগে যাবে কটন বাডটিতে । এবার দাঁতের উপর লাগিয়ে নিন। আরাম পাবেন।

১০) গরম চা পান করুন
-
এক কাপ চা বানিয়ে আস্তে আস্তে খেয়ে নিন । গরম চা দাঁতের ব্যথায় উপকার তো দিবেই, উপকারে আসবে অব্যবহৃত থাকা টি-ব্যাগ কিংবা চা পাতাটুকুও। পাতলা পরিষ্কার একটুকরো কাপড়ে মুড়িয়ে নিন অবশিষ্ট চা পাতা, নয়তো সরাসরি ব্যবহার করুন টি-ব্যাগটিকেই । দাঁতের ফাঁকে রেখে দিন বেশ কিছুটা সময় ।

**** উপরোক্ত সবগুলো পদ্ধতিই আপনার সাময়িক আরামের জন্য । সম্পূর্ণ নিরাময় এসব থেকে পাওয়ার আশা করবেন না কিন্তু! মনে রাখবেন,দাঁত ব্যথা মানেই কোন একটি বিশেষ কারণে সমস্যা। সেই কারণটি খুঁজে বের করে উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে পারেন একজন ডাক্তারই। যন্ত্রণাময় সময়টুকু কাটিয়ে খুব তাড়াতাড়ি যোগাযোগ করুন একজন ডেন্টিস্টের সাথে। দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বুঝুন, সুস্থ দাঁতে হাসুন প্রাণ খুলে ।


SOURCE LINK

রবিবার, ২৫ মে, ২০১৪

সার্টিফিকেট-নম্বরপত্র বা প্রবেশপত্র হারিয়ে গেলে করণীয়

সার্টিফিকেট হারিয়ে ভীষণ চিন্তায় পড়ে যান অনেকেই। কী করবেন, কিভাবে সার্টিফিকেট ফিরে পাবেন তা বুঝতে পারেন না। সার্টিফিকেট বা এ ধরনের মূল্যবান শিক্ষাসংক্রান্ত কাগজপত্র হারালে বা নষ্ট হয়ে গেলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই।

প্রথমে যা করবেন
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. ফাহিমা খাতুন জানালেন, সার্টিফিকেট, নম্বরপত্র বা প্রবেশপত্র হারিয়ে গেলে দেরি না করে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এর জন্য প্রথমে আপনার এলাকার নিকটবর্তী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে। জিডির একটি কপি অবশ্যই নিজের কাছে রাখতে হবে। এরপর যেকোনো একটি দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে নাম, শাখা, পরীক্ষার কেন্দ্র, রোল নম্বর, পাসের সাল, বোর্ডের নাম এবং কিভাবে আপনি সাটিফিকেট, নম্বরপত্র অথবা প্রবেশপত্র হারিয়েছেন তা সংক্ষেপে উল্লেখ করতে হবে।

এরপর শিক্ষা বোর্ডে
থানায় জিডি ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আপনাকে যেতে হবে যে বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিয়েছেন সেই শিক্ষা বোর্ডে। শিক্ষাবোর্ডের ‘তথ্যসংগ্রহ কেন্দ্র’ থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহের পর নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে। এরপর নির্ধারিত ফি সোনালী ব্যাংকের ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে বোর্ডের সচিব বরাবর জমা দিতে হবে। টাকা জমা হওয়ার পর আবেদন কার্যকর হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে মূল ব্যাংক ড্রাফট, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির কাটিং ও থানার জিডির কপি জমা দিতে হবে।

আবেদনপত্রে যা পূরণ করতে হবে
আবেদনপত্র পূরণের ক্ষেত্রে প্রথমেই উল্লেখ করতে হবে আপনি কোন পরীক্ষার (মাধ্যমিক না উচ্চমাধ্যমিক) কী হারিয়েছেন এবং কী কারণে আবেদন করছেন। আবেদনপত্রের বিভিন্ন অংশে ইংরেজি বড় অক্ষরে এবং বাংলায় স্পষ্ট অক্ষরে পূর্ণ নাম, মাতার নাম, পিতার নাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম, রোল নম্বর, পাশের বিভাগ/জিপিএ, শাখা, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, শিক্ষাবর্ষ এবং জন্মতারিখসহ বিভিন্ন তথ্য লিখতে হবে। পরবর্তী অংশে জাতীয়তা, বিজ্ঞপ্তি যে দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে সেটির নাম ও তারিখ এবং সোনালী ব্যাংকের যে শাখায় ব্যাংক ড্রাফট করেছেন সে শাখার নাম, ড্রাফট নম্বর ও তারিখ উল্লেখ করতে হবে। আবেদনপত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানের সুপারিশের প্রয়োজন হবে। এতে তার দস্তখত ও নামসহ সিলমোহর থাকতে হবে। আর প্রাইভেট প্রার্থীদের আবেদনপত্র অবশ্যই গেজেটেড কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও নামসহ সিলমোহর থাকতে হবে।

ব্যাতিক্রম আছে
নষ্ট হয়ে যাওয়া সনদপত্র/নম্বরপত্র/একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টের অংশবিশেষ থাকলে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে না বা থানায় জিডি করতে হবে না। এ ক্ষেত্রে আবেদনপত্রের সঙ্গে ওই অংশবিশেষ জমা দিতে হবে। তবে সনদে ও নম্বরপত্রের অংশবিশেষে নাম, রোল নম্বর, কেন্দ্র, পাশের বিভাগ ও সন, জন্ম তারিখ ও পরীক্ষার নাম না থাকলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। আর বিদেশি নাগরিককে ব্যাংক ড্রাফটসহ নিজ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

কত টাকা লাগবে
সাময়িক সনদ, নম্বরপত্র, প্রবেশপত্র ফি (জরুরি ফিসহ) ১৩০ টাকা। এ ছাড়া ত্রি-নকলের জন্য ১৫০ টাকা এবং চৌ-নকলের জন্য ২৫০ টাকা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে জমা দিতে হয়।

উৎস: দৈনিক কালের কণ্ঠ

আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরের গোপন সংকেত বা মানে জানুন!

বাংলাদেশী হিসাবে আমাদের অনেকের ই জাতীয় পরিচয় পত্র আছে। অনেকে এটাকে ভোটার আইডি কার্ড হিসাবে বলেন যেটা সম্পুর্ণ ভুল। এটা ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্র।

আপনারা দেখবেন এটার নীচে লাল কালি দিয়ে লেখা ১৩ সংখ্যার একটা নম্বর আছে যাকে আমরা আইডি নম্বর হিসাবে জানি।

কিন্তু এই ১৩ সংখ্যার মানে কি?

১। এর প্রথম ২ সংখ্যা - জেলা কোড। ৬৪ জেলার আলাদা আলাদা কোড আছে। ঢাকার জন্য এই কোড ২৬।

২। পরবর্ত্তি ১ সংখ্যা - এটা আর এম ও (RMO) কোড।

সিটি কর্পোরেশনের জন্য - ৯
ক্যান্টনমেন্ট - ৫
পৌরসভা - ২
পল্লী এলাকা - ১
পৌরসভার বাইরে শহর এলাকা - ৩
অন্যান্য - ৪

৩। পরবর্ত্তি ২ সংখ্যা - এটা উপজেলা বা থানা কোড

৪। পরবর্ত্তি ২ সংখ্যা - এটা ইউনিয়ন (পল্লীর জন্য) বা ওয়ার্ড কোড (পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের জন্য)

৫। শেষ ৬ সংখ্যা - আই ডি কার্ড করার সময় আপনি যে ফর্ম পূরণ করেছিলেন এটা সেই ফর্ম নম্বর।

বর্তমানে আবার ১৭ ডিজিট ওয়ালা আইডি কার্ড দেয়া হচ্ছে যার প্রথম ৪ ডিজিট হচ্ছে জন্মসাল!

 SOURCE LINK

মুরগীর বার-বি-কিউ বানানোর পদ্ধতি

খেতে সুস্বাদ আর রান্না করার সুবিধার কথা বিবেচনা করে স্কাউটরা তাবুবাসের সময় একদিনের জন্য হলেও তাবুতে মুরগি পুরিয়ে বার-বি-কিউ/কাবাব বানিয়ে থাকেন। সকলের সুবিধার্থে মুরগির বার-বি-কিউ তৈরী করার উপকরণ ও প্রণালী নিম্নে দেয়া হল।

(৮-১০ জন মানুষের জন্য)
১) মুরগীর মাংস > ২-৩ কেজি
২) সিরকা/টক দই > ১/৪ কাপ
৩) সয়াসস > ৩ চা চামচ
৪) আদা বাটা > পরিমান মত
৫) রসুন বাটা > পরিমান মত
৬) পেয়াজ বাটা > পরিমান মত
৭) হলুদ গুরা > আল্প পরিমানে
৮) মরিচ গুরা > প্রয়োজন মত
৯) গরম মসলার (দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ) > পরিমান মত
১০) সয়াবিন তেল > আধা কাপ
১১) কাঁচা মরিচ > ইচ্ছা হলে কুচি কুচি করে দিতে পারেন
১২) রান্নার জন্য এক থেকে দের কেজি কয়লা লাগবে। সাধারন কাঠকয়লার দাম কেজি প্রতি ১৫-২০ টাকা আর সোনা কয়লা ৪০-৫০ টাকা (এই কয়লায় তাপ অনেক বেশি)। ঢাকার প্রায় সব কাঁচা বাজারে এই কয়লা কিনতে পাবেন। বিশেষ করে কামারের দোকানের আশে পাশে কয়লা কিনতে পাওয়া যায়।
১৩) চুলাঃ কাবার বানানোর বিশেষ চুলা কিনতে পাওয়া যায়। নিউ মার্কেটে এই চুলা পাবেন, সাইজ আনুসারে দাম পরবে ১২০০-২০০০টাকা। চুলা না থাকলে বড় কড়াই ব্যাবহার করতে পারেন অথবা স্কাউটিং কায়দায় মাটিতে গর্ত করে চুলা বানিয়ে নিতে পারেন। শিক এর জন্য রিক্সার চাকার স্পোক ব্যাবহার করতে পারেন, স্থান ভেদে প্রতি পিসের দাম পরবে ৩-৫ টাকা। ভ্যানের স্পোক বেশি মোটা হয়, দাম ৮-১০ টাকা।

প্রস্তুত প্রণালীঃ
প্রথমে মুরগির মাংসগুলো কাটা চামচ অথবা চাকু দিয়ে কেঁচে দিন এতে করে মাংসের ভেতরে মসলা ঢুকতে সুবিধা হবে। তারপর মাংসের সাথে ভিনেগার আর সয়াসস ভাল ভাবে মিশিয়ে ১ ঘন্টার জন্য রেখে দিন। এক ঘন্টা পর অন্যসব মসলা ভাল ভাবে মিশিয়ে ২ থেকে ৩ ঘন্টা রেখে দেবেন। এই ফাকে চুলোর মাঝে কয়লা জ্বালিয়ে নিন। মাংস মেরিনেট হবার পরে শিকের ভেতর মাংস ঢুকিয়ে অথবা শিক দিয়ে নেট বানিয়ে মসলা মাখানো মাংস চূলার উপর বসিয়ে দিন।
মনে দিনবেন কয়লা জলন্ত অবস্থায় থাকলেও কয়লায় যেন আগুন না জ্বলে (!?)। কয়লায় আগুনের শিখা থাকলে মাংস পুড়ে যাবে। কয়লায় একটু পরপর পাখা দিয়ে বাতাস করুন এতে করে কয়লা নিভে যাবে না। অনবরত বাতাস দিয়েন না তাহলে কয়লা দ্রুত পুরবে এবং এতে কয়লা বেশি লাগবে। একটু পরপর মাংসের টুকরা গুলো উল্টিয়ে দিন। মাংসের সব পাশই যেন পোড়ানো হয় সে দিকে খেয়াল রাখবেন। মাংস উল্টানোর আগে ছোট একটা ব্রাশ দিয়ে মাংসের গায়ে সয়াবিন তেল মাখিয়ে দিতে পরেন। এতে করে মাংস পুড়বে না। মাংসের রঙ লালচে বাদামি হয়ে গেলে নামিয়ে ফেলুন।

----------সংবিধিবদ্ধ সর্তকীকরণ----------

* কয়লার আগুন সাবধানে ব্যাবহার করবেন। খুব বাতাসে কয়লা জ্বালাবেন না।
* দাহ্য পদার্থ আর খরকুটো আগুন থেকে দূরে রাখুন।
* রান্না শেষ হলে সব কয়লাপানি দিয়ে নিভিয়ে ফেলুন।
* আর শেষ বিষয়টি হল যে একজন স্কাউট হিসেবে তাবুবাসের সময় প্রকৃতির দিকে খেয়াল রাখবেন। প্রকৃতির ক্ষতি হয় এমন কিছু করবেন না। খাবার শেষে/ রান্নার পর ময়লা ঠিক জায়গায় ফেলুন।

বার-বি-কিউ উপভোগ করুন ...SOURCE
LINK

কিভাবে হিসাব করবেন আপনার জন্য প্রযোজ্য আয়কর?

সেপ্টেম্বর মাস এলে দেশের সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক মহলে আয়কর সম্পর্কে অনেক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। এ মাসে ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতা গণ তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দিয়ে থাকেন। দেশের জনসংখ্যা অনুপাতে টি আই এন ধারীর সংখ্যা আশানুরূপ নয়। কারন আয়কর দেয়ার ঝক্কি ঝামেলা ও কম নয়। অনেকের নিকট আয়করের হিসাব মেলানো চিরতার রসের মত তিক্ত মনে হওয়ায় তারা এ পথে পা মাড়ান না। বিখ্যাত বিজ্ঞানী আইন্সটাইন পর্যন্ত বলেছিলেন – ‘ পৃথিবীতে সবচেয়ে জটিল বিষয় হচ্ছে আয়করের হিসাব' ; অবশ্য আয়কর প্রদানের পদ্ধতিগত জটিলতা নিরসনে এন বি আর ইদানিং বিভিন্ন রকম পদক্ষেপ নিয়েছে। কর অঞ্চল পুনর্বিন্যাস,আয়কর রিটার্ন জমা দেওার ফরম সহজীকরন , আয়কর মেলার আয়োজন, শ্রেষ্ঠ আয়করদাতাদের সম্মাননা প্রদানসহ অনলাইনে আয়কর প্রদানের প্রশংসনীয় উদ্যোগে ধীরে ধীরে সর্বসাধারণের মধ্যে আয়কর প্রদানের প্রতি আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। করদাতাদের সুবিধার্থে অনলাইনে চালু করা হয়েছে ইনকাম ট্যাক্স ক্যালকুলেটর। এটা ব্যবহার করে যে কেউ অতি সহজে নির্ণয় করে ফেলতে পারবেন নিজের জন্য প্রযোজ্য ট্যাক্সের পরিমান।

এখানে ক্লিক করুন


এ বছর সীমিত পরিসরে চালু হলেও আগামী বছর থেকে পুরো দমে চালু হয়ে যাবে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুবিধা। । আশা করা যায় এতে আয়কর প্রদানের প্রতি জনগণের উৎসাহ উদ্দীপনা আরও বাড়বে। দেশের উন্নতি ও প্রবৃদ্ধি অক্ষুণ্ণ রাখতে আমাদের মধ্যে যারা আয়কর প্রদানে সক্ষমতা অর্জন করেছেন তাদের উচিত সময়মত নিজে আয়কর জমা দেওয়া এবং এ ব্যাপারে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করা।


এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই ই –টি আই এন নম্বর নেয়ার বিষয়ে এন বি আর এর নির্দেশনা রয়েছে। এ জন্য এন বি আর এর ওয়েবসাইটে(
http://www.incometax.gov.bd) গিয়ে রেজিস্ট্রেশন / রিরেজিস্ট্রেশন অপশনে গিয়ে ইউজার আইডি , পাসওয়ার্ড নির্ধারণ পূর্বক নিজের মোবাইল নম্বর , ই-মেইল ঠিকানা দিতে হয়। এরপর মোবাইল নম্বরে একটা এক্টিভেশন কোড আসে যা অনলাইনে সাবমিট করলে একটা ফরম আসে। এ ফরমে আপনার ব্যক্তিগত তথ্যাদি পূরণ করে সাবমিট করলেই আপনি পেয়ে যাবেন অটো জেনারেটেড ১২ ডিজিট বিশিষ্ট ই টি আই এন সার্টিফিকেট। তবে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে আপনার প্রদত্ত তথ্যের সাথে জাতীয় পরিচয় পত্রের তথ্যের গড়মিল থাকলে সেটা গ্রহন করা হবেনা। জাতীয় পরিচয় পত্রে যাদের নামের বানান ভুল রয়েছে তাদেরকে পড়তে হবে বিপত্তিতে। অবশ্য আয়কর মেলায় এ সংক্রান্ত ভুল ত্রুটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সার্ভার কাজ না করাতে কিছুদিন ই টি আই এন রেজিস্ট্রেশন/ রিরেজিস্ট্রেশনে সমস্যা হচ্ছিল। তবে ইদানিং সে সমস্যা আর নেই বলে জানা গেছে। এখন ই টি আই এন সনদে ভুল হলেও তা সংশোধনের সুযোগ থাকছে মেলায়।
যারা এখনো ই টি আই এন নিতে পারেননি তারা করমেলায় এসে
একটি ফরম পূরণ করে দিলে/জাতিয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি দিয়ে দিলে কর কর্মকর্তারাই আপনাকে নতুন ই টি আই এন সনদ পাইয়ে দেবেন।

ই টি আই এন রেজিস্ট্রেশন



এখন যারা মনস্থির করেছেন আয়কর দেবেন কিন্তু কিভাবে আয়কর হিসাব করতে হয় জানেন না কিংবা যারা কর আইনজীবীর সহায়তা ছাড়া আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারেন না, তাদের জন্য আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াস। আমি উদাহরণ দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করব কিভাবে আয়করের হিসাব করতে হয়। নিচের ছকটি মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করুনঃ


• নাম: ব্লগার সামু

• পদবী : সাধারন ব্লগার

• ঠিকানাঃ ভার্চুয়াল দুনিয়া



মনে করি,

• ব্লগারের বাৎসরিক বেতনঃ ২, ৯৩, ৪০০ টাকা
• ব্লগারের বিনিয়োগঃ ১, ১৯, ৩২০ টাকা

• করমুক্ত আয়ের সীমাঃ ২,২০,০০০০ টাকা ( ব্লগার সামু সম্ভবতঃ পুরুষ, নারী হলে হবে ২, ৫০,০০০টাকা)

• সুতরাং করযোগ্য আয়ঃ (২, ৯৩, ৪০০- ২,২০,০০০) = ৭৩,৪০০ টাকা

• ধরে নিলাম ব্লগারের আর কোন আয় নেই, সুতরাং আরোপ যোগ্য আয়কর = মোট আয়ের ১০% = ৭৩,৪০০ এর শতকরা ১০ ভাগ= ৭৩৪০ টাকা

• কর রেয়াত= মোট আয়ের ( স্বীকৃত ভবিষ্যৎ তহবিলে বার্ষিক চাঁদা ব্যতিত) ৩০% এর ১৫% এবং বিনিয়োগ এর ১৫% অথবা ১,৫০,০০০০০ টাকার ১৫% এ তিনটার মধ্যে যাহা কম।

• মোট আয়ের ৩০% এর ১৫%= (২,৯৩৪০০-৭২,০০০) = ২,২১,২০০ টাকার ১৫% =৯,৯৬৩ টাকা

• বিনিয়োগ এর ১৫%= ১৭,৭৯৮ টাকা
• সুতরাং কর রেয়াত=৯,৯৬৩ টাকা

• অতএব ব্লগার সামুর বর্তমান অর্থ বছরে প্রদেয় কর= আরোপ যোগ্য আয়কর- কর রেয়াত = (৭৩৪০-৯৯৬৩)= -২৬২৩ টাকা।

কিন্তু ন্যুন তম কর হল ঃ
সিটি কর্পোরেশন এলাকায় - ৩,০০০ টাকা
উপজেলা পর্যায়ে -২, ০০০ টাকা
ইউনিয়ন পর্যায়ে - ১,০০০ টাকা

বিনিয়োগের খাত সমূহঃ

• জীবন বীমার প্রিমিয়াম

• সরকারি কর্মকর্তার প্রভিডেন্ট ফান্ডের চাঁদা
• স্বীকৃত ভবিষ্যৎ তহবিলে নিয়োগকর্তা ও কর্মকর্তার চাঁদা
• কল্যান তহবিল ও গোষ্ঠী বীমা তহবিলে চাঁদা
• যে কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও তফসিলি ব্যাংকের ডিপোজিট পেনশান স্কিমে বার্ষিক সর্বোচ্চ ৬০,০০০.00 টাকা বিনিয়োগ।
• সঞ্চয় পত্রে বিনিয়োগ
• আই পি ও এর মাধ্যমে কোম্পানির শেয়ার, স্টক, মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট বা ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগ
• বাংলাদেশ সরকার ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ
• একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ক্রয়ে বিনিয়োগ

দান

যাকাত তহবিলে দান

বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত কোন দাতব্য হাসপাতালে দান
প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে স্থাপিত প্রতিষ্ঠানে দান
আগা খান ডেভেলপমেন্ট ফান্ডে দান
আহসানিয়া ক্যান্সার হাসপাতালে দান
সরকার কর্তৃক অনুমোদিত জনকল্যাণ মূলক বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দান।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে নিয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের কোন প্রতিষ্ঠানে দান

জাতির জনকের স্মৃতি রক্ষার্থে নিয়োজিত জাতীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান
এখন উপরোক্ত ফরম্যাট ব্যবহার করে আপনি সহজেই বের করে নিতে পারেন আপনার জন্য প্রযোজ্য কর।


করদাতাদের জন্য বিশেষ জ্ঞাতব্য বিষয়ঃ

• চলতি বছরের নীট সম্পদ থেকে পূর্ববর্তী বছরের প্রদর্শিত নীট সম্পদ বিয়োগ করে নীট সম্পদ বৃদ্ধি নিরুপিত হয়। নিরুপিত নীট সম্পদ বৃদ্ধির সাথে বার্ষিক ব্যয় ( আই টি -১০ বি বি অনুযায়ী) যোগ করে সম্পদের মোট পরিবৃদ্ধি নিরুপিত হয় যা করদাতার প্রদর্শিত উৎসের বিপরীতে মোট প্রাপ্তি দ্বারা সংকুলান যোগ্য / সমন্বয় যোগ্য হতে হবে।


• প্রদর্শিত মোট প্রাপ্তির পরিমান অপেক্ষা সম্পদের মোট পরি বৃদ্ধি বেশি হলে অতিরিক্ত অংশ টুকু আয়কর অধ্যাদেশ ১৯/৩৩ ডি ধারা মোতাবেক করদাতার অন্যান্য সূত্রের আয় হিসাবে গণ্য হয়ে মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে যার উপর প্রযোজ্য হারে কর আরোপ হবে।


• সার্বজনীন স্বনিরধারনী পদ্ধতিতে আয়কর দেয়া সুবিধাজনক। এ ক্ষেত্রে করদাতা নিজে হিসাব করে যা – ই আয়কর দেন তা কর কর্মকর্তা কর্তৃক কোন প্রকার প্রশ্ন ব্যতিরেকে গ্রহন করা হয়।


• বিদেশ থেকে প্রাপ্ত আয় কর মুক্ত, তবে বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত সুদ কর যোগ্য।


• পূর্বে প্রদর্শিত কোন সম্পদ যেমন বাড়ি , গাড়ি, জমি বিক্রয় করলে যদি লাভ হয় তবে লাভের উপর আয়কর দিতে হবে।


• কেউ যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হন, তবে উপ কর কমিশনের নিকট লিখিত আবেদন করে ৩ মাস সময় বর্ধিত করতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে সার্বজনীন স্ব নির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করা যাবে না। 

SOURCE LINK 

মঙ্গলবার, ২০ মে, ২০১৪

মোটরসাইকেল কেনার পূর্বে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো অনুসরন করুন

১.বাজেট প্রস্তুতিঃ
যে বাইক আপনি কিনতে পারবেন না, সে বাইকের স্বপ্ন দেখবেন না । একটি বাজেট করুন।আমার পরামর্শ হল সবসময় ৫০০০ টাকা অতিরিক্ত রাখবেন । ধরা যাক আপনি ২০০,০০০ টাকা দিয়ে একটি বাইক কিনবেন । তাহলে বাজেট করুন ২০৫০০০ টাকা ,কারণ ২০০,০০০ টাকা দিয়ে বাইক কেনার পর আপনাকে থেফট অ্যালার্ম সিস্টেম,কসমেটিকস কেয়ার আইটেম ,কভার,রেইন ক্লথ, হেলমেট ইত্যাদি কিনতে হবে ।

২.আপনার বাজেটের মধ্যে কেনা যাবে এমন বাইকের সংক্ষিপ্ত তালিকা করুনঃ

আপনার বাজেটের সাথে মিলিয়ে বাংলাদেশে পাওয়া যাবে এমন বাইকের সংক্ষিপ্ত তালিকা করুন । যদি এ তালিকা লম্বা হয় তাহলে আপনার পছন্দ অনুযায়ী ছোট করুন ।একটি বাইকের সুন্দর লুক দেখেই পছন্দ করবেন না ।

৩.বাইক আছে এমন কারো পরামর্শ নিনঃ

চারদিকে তাকান , আপনার বন্ধু, আত্মীয়,প্রতিবেশী যে কারো একটি বাইক থাকতে পারে । একজন বাইকের মালিক সবসময় আপনাকে বাইক সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতাই জানাবে । আপানার কাঙ্খিত বাইক সম্পর্কে তাদের কাছ থেকে জিজ্ঞেস করুন । যদি কেউ এমন কোন বাইকের মালিক হয় যেটা আপনার সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিল তাহলে তার কাছে যান এবং ভ্রমণের অভিজ্ঞতা, খুচরা যন্ত্রাংশের দাম, সার্ভিস এসব নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করুন।

৪.পছন্দের বাইকটি একবার পরীক্ষামূলকভাবে চালানঃ

যদি বাংলাদেশে কেনার পূর্বে একটি মোটরসাইকেল পরীক্ষামূলকভাবে চালাতে চান তাহলে আপনি শোরুম হতে সে সুযোগ পাবেন না । বাংলাদেশের শোরুমগুলোতে “ টেস্ট ড্রাইভ ” সুবিধাটি নেই । আপনি আপনার বন্ধু ও আত্মীয়দের কাছে যান যাদের কাছে আপনার পছন্দের বাইকটি আছে । একটি “টেস্ট ড্রাইভ” আপনাকে বাইক চালানোর সঠিক অনুভূতি দেবে এবং এটি আপনাকে পছন্দের বাইকের তালিকা ছোট করতেও সাহায্য করবে । একটি ব্যাপার মনে রাখবেন, একটি ভ্রমণ আপনার সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে ।

৫.আমি কি মাইলেজের ক্ষেত্রে ছাড় দিব ?

এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে বাইকের ব্যবহার এবং ব্যবহারকারীর বয়সের উপর । আপনি যদি সৌখিন চালক হন তাহলে মাইলেজের ব্যাপারে ভাববেন না । যদি আপনি মধ্যবয়সী হন এবং আপনার উদ্দেশ্য যদি হয় অফিস থেকে আসা-যাওয়া বা শহরের বাইরে যাওয়া তাহলে মাইলেজ একটি বড় বিষয় । সাধারনত ৫০-১৩৫ সিসির বাইকগুলো তাদের মাইলেজ এবং দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাবহারের জন্য জনপ্রিয় । অফিসগামী লোকজন এ ধরনের বাইক ব্যাবহার করে থাকেন।

৬.সর্বাধিক বিক্রিত মোটরসাইকেলটি পছন্দ করুনঃ

নিজে নিজে ভাবুন যে আপনি একটি মোটরসাইকেল কোম্পানির মালিক এবং পণ্যের বেশী বিক্রির কারণে আপনার প্রচুর লাভ হচ্ছে, তাই আপনার মোটরসাইকেলের কোয়ালিটি ও নতুন প্রযুক্তির উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট টাকা রয়েছে । তাই এই প্যারার মূল বিষয় হল সর্বাধিক বিক্রিত বাইকটি নেয়া । কারণ অধিকাংশ ব্যাবহারকারী যারা তাদের বাইক নিয়ে সন্তুষ্ট তারা কখনো বোকা হতে পারেন না । ২০১১ সালে বাজাজ পালসার ১৫০সিসি ছিল বাংলাদেশের সর্বাধিক বিক্রিত মোটরসাইকেল ।

৭.সার্ভিস সেন্টারের অবস্থানঃ

এমন বাইক পছন্দ করুন যেটার সার্ভিস সেন্টার আপনার বাড়ির কাছে । একটি বাইক এখন ভাল, কিন্তু কখন এটা সমস্যা করবে তা আপনি বলতে পারেন না ।ধরা যাক আপনি থাকেন দিনাজপুরে কিন্তু আপনার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল কোম্পানির সার্ভিস ষ্টেশন গাজীপুর যেটা প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে । এটাকেই বলে প্রকৃত ঝামেলাকর অবস্থা ।

৮.খুচরা যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতাঃ

আমার এক বন্ধু হোন্ডা সিবি৬৫০(CB 650) মোটরসাইকেল কিনেছিল । কিন্তু ইঞ্জিনের একটি সাধারন যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার পর একটি চমৎকার বাইক হতে এটি একটি জঞ্জালে পরিনত হয়। এই বাইকের কোন যন্ত্রাংশ বাংলাদেশে নেই । তাই সতর্কতার সাথে বাইক পছন্দ করবেন যেটার খুচরা যন্ত্রাংশের দোকান রয়েছে এবং সাথে সাথে কেনার ক্ষেত্রেও ছাড় দেবে।

৯.শরীরের সাথে বাইকের অবস্থানঃ

ধরুন আপনি ৬ ফুট লম্বা এবং চালাচ্ছেন একটি ছোট বাইক যেমন হোন্ডা ৫০সিসি । যেটা দেখতে হাতির ইঁদুরের উপর চড়ার মত। তাই যে বাইকটি আপনার উচ্চতার সাথে মানানসই,যেটা আপনাকে ভ্রমণের সময় সুন্দর লুক দেবে সেটি পছন্দ করুন ।

১০.আপনার পছন্দ অনুযায়ী নিনঃ

সবসময় শুনুন আপনার “হৃদয়” কি বলে………হা…হা…হা… হ্যাঁ এটা সত্যি । শুধুমাত্র বাজেটের কথা চিন্তা করে বাইক কিনবেন না । পাশাপাশি আমার পরামর্শ হল কিছু সময় অপেক্ষা করুন এবং আপনার পছন্দের বাইকের জন্য টাকা জমান । যদি শুধুমাত্র বাজেটের কথা চিন্তা করে বাইক কেনেন তাহলে এটা কখনো আপনাকে সন্তুষ্ট করতে পারবে না । কিছুদিন পর অবশ্যই আপনি বাইকটি বিক্রি করে দিবেন এবং পছন্দের বাইকটি কিনতে যাবেন। মাঝখান দিয়ে আপনি একটি বড় অঙ্কের টাকা হারাবেন। তাই আপনার পছন্দ অনুযায়ী বাইক কিনুন।

এগুলো বাংলাদেশে মোটরসাইকেল কেনার ক্ষেত্রে অবশ্য পালনীয় নির্দেশনা যা আপনাকে আপনার স্বপ্নের বাইক পেতে সাহায্য করবে । উপরের সবগুলোর মধ্যে আমি জোর দিয়ে বলব “আপনার পছন্দ অনুযায়ী নিন……………।” নিরাপদ থাকুন এবং ঠাণ্ডা মাথায় বাইক চালান । 

 মিজানুর রহমান (মিজান)

শুক্রবার, ১৬ মে, ২০১৪

প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করুন

আমাদের দেশে প্রতি পাঁচ জনে একজন ব্লাড প্রেসারে ভুগছে। হাই ব্লাড প্রেসার হওয়ার অন্যতম কারণ হলো পটাশিয়াম ও হাইসোডিয়াম খাবার। পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন লেবু, কমলালেবু, কলা, টমেটো, ডাবের পানি খেতে হবে। কোলেস্টেরল সমৃদ্ধ খাবার যেমন ক্রিম, মাংস, ডিমের কুসুম, মাখন, ফ্রেঞ্জ ফ্রাইজ সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলতে হবে। প্রচুর পরিমাণ ফল ও সবজি খেতে হবে। ফ্যাট জাতীয় খাবার কখনোই খাবেন না। তেল, ঘি, মসলা এড়িয়ে চলতে পারলে আরও ভালো হয়।

নিয়মিত এক্সারসাইজ ম্যাজিকের মতো কাজ করে ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণ করতে এবং যাঁদের এখনও এই সুখী রোগটি চেপে ধরেনি তাঁদের এর থেকে শত হাত দূরে রাখতে। প্রতিদিন নিয়ম করে ১২০ গ্রাম টক দই খান। এতে মজুত ক্যালশিয়াম ব্লাড ভেসল ভালো রাখে। ফলে প্রেশারও নিয়ন্ত্রণে থাকে। কড়া কড়া ওষুধ খাওয়ার থেকে রোজ একটা করে কলা খেলে বেশি সুস্থ থাকবেন। বাড়তি ওজন মানেই হার্টের উপর বাড়তি চাপ। ফল উচ্চরক্তচাপ। তাই সব সময়ে চেষ্টা করুন ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার। কাঁচা বাদাম মানে যে বাদামটি বালুতে ভাঁজা হয়নি। প্রতিদিন ৪-৫ টি কাঁচা বাদাম আপনাকে রাখবে প্রেশার থেকে কয়েক শ হাত দূরে।


একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০/৮০ মি.মি. মার্কারি। লো ব্লাড প্রেসার অবশ্যয় ঝুকিপূর্ণ কিন্তু তা হাই ব্লাড প্রেসার অপেক্ষা নয়। বিভিন্ন কারণে লো ব্লাড প্রেসার হয়ে থাকে এর মধ্যে হলো -পানিশুন্যতা, ডায়রিয়া, অত্যাধিক বমি হওয়া, খাবার সময়মত না খাওয়া, হরমনের ভারসাম্যহীনতা, রক্তশুন্যতা কিংবা রক্তক্ষরণ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। নিম্ন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খাবার স্যালায়িন সবসময়ই গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জন্মগতভাবে যাদের হার্ট বা হৃদপিণ্ডে ছিদ্র আছে, কিডনিতে সমস্যা, ভাল্ভের সমস্যা আছে তাদের উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বেশি। এছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা দেখা যেতে পারে।


সকলের রক্তচাপ এক রকম নয়। এমন কি একই ব্যক্তির রক্তচাপ সব সময় এক রকম থাকে না। দিনের বিভিন্ন সময়ে রক্তচাপ বাড়া-কমা করে। শারীরিক পরিশ্রম করলে কিংবা উত্তেজনা হলে রক্তচাপ বেড়ে যায়। চা- কফি পান করলে কিংবা ধূমপানের পরেও রক্তচাপ বাড়ে। দিনের বিভিন্ন সময়ে রক্তচাপ বাড়া-কমা করে। শারীরিক পরিশ্রম করলে কিংবা উত্তেজনা হলে রক্তচাপ বেড়ে যায়। বিশ্রাম নিলে কিংবা ঘুমালে রক্তচাপ কমে যায়।


রক্তচাপের কারণে শরীরের ৪টি জায়গা আক্রান্ত হয়।

মস্তিষ্ক : উচ্চ রক্তচাপের কারণে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে। একে বলে ব্রেইন স্ট্রোক। এতে শরীরের একদিক বা যেকোনো অঙ্গ অবশ হয়ে যেতে পারে।
হার্ট : হার্টে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। এতে রক্ত চলাচলে সমস্যা হয়। হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
চোখ : ঝাপসা দেখে। চোখে রক্তক্ষরণের ফলে চোখ অন্ধ হয়ে যেতে পারে।
রক্তনালী : দেহের রক্তনালী চিকন হয়ে গেলে রক্তচলাচলে সমস্যা হয়। তাছাড়া পায়ে ঘা হওয়া এমন কি কালো দাগ ও ঘা হলে শুকাতে অনেক দিন সময় লাগে। 

রাজীব নুর

মঙ্গলবার, ১৩ মে, ২০১৪

বাণিজ্যিক পোল্ট্রি খামার পরিকল্পনা

আমাদের দেশে প্রাণীজ আমিষের অভাব খুবই প্রকট। আমিষের এ অভাব মেটাতে মুরগি পালনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান বিশেষ জরুরী। খুব অল্প সময়ে অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে সাম্প্রতিক সময়ে মুরগি পালন একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় কৃষি শিল্প হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সঠিক পরিকল্পনায় মুরগি খামার স্থাপনের মাধ্যমে মুরগি পালনকে লাভজনক করে তোলা যায়। মুরগি খামার দু’ধরনের হতে পারে। যেমন-পারিবারিক মুরগি খামার ও বাণিজ্যিক মুরগি খামার। পারিবারিক মুরগি খামারে অল্পসংখ্যক মুরগি পালন করে সে অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পরবর্তীতে বাণিজ্যিক মুরগি খামার গড়ে তোলা যায়। উৎপাদনের উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তি করে মুরগির খামার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। মাংস উৎপাদনের জন্য মুরগি পালন করলে একে বলা হয় ব্রয়লার খামার। আবার ডিম উৎপাদনের জন্য খামার করলে একে বলা হয় লেয়ার খামার। তবে যে খামারই স্থাপন করা হোক না কেন তা লাভজনক করতে চাইলে প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা, বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থাপনা ও সঠিক পরিচালনা।

বাণিজ্যিক মুরগি খামারের জন্য স্থান নির্বাচন
মুরগির খামার একটি স্থায়ী ব্যবস্থা। খামার বলতে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মুরগি প্রতিপালন করার জন্য নির্দিষ্ট স্থানকে বুঝায়। মুরগির খামার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে, যেমন ডিম উৎপাদন খামার, মাংস উৎপাদন খামার, প্রজনন খামার, ব্রিডার খামার, বাচ্চা উৎপাদন খামার ইত্যাদি। যে ধরনের মুরগি খামারই স্থাপন করা হোক না কেন সাফল্যজনকভাবে খামার পরিচালনার জন্য এর স্থান নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কৌশল। খামারের জন্য স্থান নির্বাচনের সময় নিচের বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে। যেমন-

খামারের স্থান উঁচু হওয়া উচিত। খামার এমন স্থানে গড়তে হবে যেখানে বন্যার পানি কখনও প্রবেশ করতে না পারে।
যে স্থানে খামার করা হবে সেখানকার মাটি বালু ও কাঁকর মিশ্রিত হতে হবে এবং মাটির পানি শোষণ ক্ষমতা থাকতে হবে।
খামার স্থাপনের জন্য নির্বাচিত স্থানে পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকতে হবে।
খামারের স্থানটি মানুষের বাড়িঘর থেকে দূরে কোলাহলমুক্ত জায়গায় হতে হবে।
যে স্থানে খামার করা হবে সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হতে হবে। মানুষের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত মূলপথ থেকে অন্তত আধা কিলোমিটার দুরে খামারের স্থান নির্বাচন করা উচিত।
যেখানে খামার করা হবে সেখানে বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।
খামারের স্থান নির্বাচনের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন আশেপাশে সস্তায় ও সহজে মুরগির খাদ্য ক্রয় করার সুযোগ-সুবিধা থাকে।
খামারে উৎপাদিত পণ্য, যেমন-ডিম, মুরগি ইত্যাদি সহজে বাজারজাতকরণের সুযোগ থাকতে হবে।
খামার স্থাপনের জন্য নির্বাচিত স্থানের মূল্য তুলনামূলকভাবে কম কি না সেটাও বিবেচনা করতে হবে।

বাণিজ্যিক মুরগি খামার পরিকল্পনায় বিবেচ্য বিষয়সমূহ
যে কোন খামার বা শিল্পে বাণিজ্যিকভাবে সফলতা লাভের জন্য চাই সুষ্ঠু পরিকল্পনা। বাণিজ্যিক মুরগি খামার ব্যবস্থাপনায় তিনটি মৌলিক চাহিদা পূরণের নিশ্চয়তা বিধান করতে হয়, যথা-
১. মুরগির খাদ্য,
২. বাসস্থান ও
৩. রোগ দমন। মুরগির খামার একটি বিশেষ ধরনের শিল্প।

তাই এ খামার প্রতিষ্ঠার জন্য মূল বিষয় ছাড়াও আনুসাঙ্গিক বিষয়গুলো বিশেষ বিবেচনায় রাখতে হয়। মুরগির খামার পরিকল্পনার সময় নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলো অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে।

১। জমির পরিমাণ
বার্ষিক যত সংখ্যক ডিম/ব্রয়লার উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে তদনুযায়ী লেয়ার/ব্রয়লার প্রতিপালনের ঘর এবং অন্যান্য সুবিধা, যেমন- অফিস, শ্রমিক ঘর, খাদ্য গুদাম, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের ঘর, সংরক্ষণাগার ইত্যাদি তৈরির জন্য মোট জায়গার সঙ্গে আরও প্রায় ১.৫ গুণ ফাঁকা জায়গা যুক্ত করে খামারের মোট জমির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।

২। মুরগির বাসস্থান
নিরাপদ ও আরামে থাকার জায়গার নাম বাসস্থান। বাসস্থান নিরাপদ রাখতে হলে নির্বাচিত স্থানের উপযোগী দ্রব্যসামগ্রী দিয়ে তা এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে ঝড়বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দূর্যোগে সহজে ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। বাসস্থানের অভ্যন্তরীণ চাহিদা, যেমন-পরিমাণমতো থাকার জায়গা, প্রয়োজনীয় সংখ্যক খাদ্য ও পানির পাত্র, তাপ ও আলো এবং বায়ু চলাচলের সুব্যবস্থা থাকতে হবে। পালনকারীর সামর্থ্যরে ওপর নির্ভর করে ঘর পাকা, কাঁচা বা টিনের হতে পারে। প্রজাতি বা স্ট্রেইন অনুযায়ী যতগুলো মুরগি রাখা হবে এদের মোট জায়গার পরিমাণ হিসেব করে ঘর তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি দুইটি ঘরের মাঝে ২৫-৩০ ফুট বা ততোধিক জায়গা আলো ও মুক্ত বাতাস প্রবাহের জন্য খালি রাখা দরকার।

ক) ঘর তৈরিঃ  বাজারজাত করার বয়স পর্যন্ত প্রতিটি ব্রয়লারের জন্য ১ বর্গফুট জায়গার প্রয়োজন। এভাবে হিসেব করে ব্রয়লার উৎপাদনের সংখ্যার উপর ভিত্তি করেই ঘরের সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে। সাদা খোসার ডিম উৎপাদনকারী প্রতিটি মুরগির জন্য ৩ বর্গফুট জায়গা এবং বাদামি খোসার ডিম উৎপাদনকারী মুরগির জন্য ৪ বর্গফুট জায়গা হিসেব করে থাকার ঘর তৈরি করতে হবে। এসব মুরগি খাঁচায়, মাচায় অথবা লিটার পদ্ধতিতে পালন করা যায়। পালন পদ্ধতির উপর নির্ভর করে ঘরের পরিমাণ ভিন্ন ধরনের হতে পারে। খাঁচা পদ্ধতিতে প্রতিটি উৎপাদনশীল মুরগির জন্য কেইজে ৬০-৭০ বর্গইঞ্চি জায়গা প্রয়োজন হবে। কাজেই এ হিসেবে খাঁচা তৈরি করা হয়। খাঁচার সারি লম্বালম্বিভাবে এক সারি বা একটার উপর আরেকটা রেখে ৩/৪ সারি করা যায়। আবার সিঁড়ির মতো করে সাজিয়ে উভয় পার্শ্বেও সারি করা যায়। প্রতিটি উৎপাদনশীল মুরগির জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার পরিমাণ মাচায় ১.২-১.৩ বর্গফুট এবং লিটারে ১.৫-১.৭৫ বর্গফুট। মুরগির দৈহিক ওজন এবং আবহাওয়াভেদে এই পরিমাপের পরিবর্তন হতে পারে। লিটার পদ্ধতিতে সাধারণত প্রতি ১০ বর্গফুট মেঝের জন্য ৫ কেজি লিটার প্রয়োজন হয়। এ পদ্ধতিতে পালন করতে মুরগির ঘরের মেঝে পাকা হলে ভালো হয়। কাঁচা মেঝের ক্ষেত্রে শক্ত এঁটেল মাটির মেঝে হলেও চলবে। তবে এ ধরনের মেঝে বর্ষাকালে স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যেতে পারে। শুকনো বালির মেঝের ক্ষেত্রে বর্ষাকালে সমস্যা হতে পারে।

খ) ঘরের চালা ও বেড়ার নমুনাঃ  বাংলাদেশের পরিবেশে দোচালা বা গেবল টাইপ চালই মুরগির জন্য বেশি আরামদায়ক। লেয়ারের ঘরের বেড়ার উচ্চতার পুরোটাই তারজালি দিয়ে তৈরি করতে হবে। বেশি বাতাস বা বেশি শীত হতে মুরগিকে রক্ষা করার জন্য বেড়ার ফাঁকা অংশ প্রয়োজনে ঢেকে দেয়ার জন্য চটের পর্দার ব্যবস্থা করতে হবে। ব্রয়লার লালন-পালনের সুবিধার্থে প্রথম সপ্তাহে ৯৫০ ফা থেকে কমাতে কমাতে ষষ্ঠ সপ্তাহে ৭০০ ফা-এ নামিয়ে আনার জন্য বেড়ায় বেশি ফাঁকা জায়গা রাখা যাবে না। কিন্তু প্রয়োজনীয় বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এজন্য দেয়ালের উচ্চতার ৬০% তারজালি দিয়ে তৈরি করতে হয়। তবে শীতের দিনে তারজালির এ অংশটুকু চটের বস্তা দিয়ে ঢাকার ব্যবস্থা করতে হবে।

গ) ডিম পাড়ার বাসাঃ  মাচা অথবা লিটারে পালন পদ্ধতিতে প্রতি ৫টি মুরগির জন্য ১টি করে ডিম পাড়ার বাসা সরবরাহ করতে হয়। প্রতিটি বাসা দৈর্ঘ্যে ১ ফুট, প্রস্থে ১ ফুট ও গভীরতায় ১.৫ ফুট হওয়া প্রয়োজন। খাঁচা পদ্ধতিতে পালন করলে আলাদাভাবে ডিম পাড়ার বাসা বা বাক্স লাগে না। খাঁচাগুলো ঢালসহ এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে করে মুরগি ডিম পাড়া মাত্রই ডিমগুলো গড়িয়ে গড়িয়ে খাঁচার সামনে গ্রিলের ফাঁক দিয়ে বাইরের বর্ধিত অংশ এসে জড়ো হতে পারে।

ঘ) আলোকায়নঃ  লেয়ারে দৈনিক (২৪ ঘন্টায়) আলোর প্রয়োজন হবে ১৬ ঘন্টা। কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা বছরের ছোট-বড় দিন অনুযায়ী দৈনিক ২.৫ ঘন্টা হতে ৪ ঘন্টা পর্যন্ত হবে। আলোর উৎস বৈদ্যুতিক বাল্ব। যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই সেখানে উজ্জ্বল হারিকেনের আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। বাল্বের শক্তি হবে ৪০ ওয়াট, আলোর রং স্বাভাবিক, আলোর তীব্রতা মৃদু (২০ লাক্স) হবে। ১টি বাল্বের আলোকায়ন এলাকা ১০০০ বর্গ ফুট। বাল্ব স্থাপনের এক পয়েন্ট হতে আরেক পয়েন্টের দূরত্ব হবে ২০ফুট। প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম যে কোনো উৎস থেকেই ব্রয়লার গৃহে আলোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রথম সপ্তাহে ব্রয়লার গৃহে খাবার ও পানি দেখার জন্য সারারাত আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। দ্বিতীয় সপ্তাহ হতে রাতের বেলায় মাঝে মাঝে আলো নিভিয়ে আবার জ্বালাতে হবে এবং এভাবে সারারাত মৃদু আলো জ্বালিয়ে রাখতে হবে। সাধারণত প্রতি ১০ বর্গফুটের জন্য ৫ ওয়াট পরিমাণ আলো প্রয়োজন।

৩। মুরগির খাদ্য ব্যবস্থাপনা
খাদ্যের গুণগত মান, খাদ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা, খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ, প্রতি কেজি খাদ্যের দাম, খাদ্য হজমের দক্ষতা প্রভৃতি খাদ্য ব্যবস্থাপনার অন্তর্ভূক্ত। খাদ্য খরচ মোট উৎপাদন ব্যয়ের প্রায় ৬০-৭৫% এবং খাদ্যের গুনাগুণ ও মূল্যের ওপর লাভলোকসান নির্ভর করে। সেজন্য খামার ব্যবস্থাপনায় খাদ্যের গুরুত্ব অনেক বেশি। কিন্তু বাসস্থানের পরিবেশ অনুকূল ও আরামদায়ক না হলে শুধু খাদ্য দিয়ে তার অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। তেমনি খামার রোগমুক্ত না হলেও তা লাভজনক হবে না। তাই খাদ্য সংগ্রহ করা সহজ কি না এবং খাদ্যের মূল্য ন্যায্য কি না তা বিবেচনা করে খামার স্থাপন করতে হবে।

লেয়ার মুরগির সংখ্যা অনুসারে প্রতিটি মুরগির জন্য দৈনিক ১১০-১২০ গ্রাম খাদ্যের প্রয়োজন হিসেবে কমপক্ষে ২ মাসের খাদ্য সংরক্ষণাগার তৈরি করতে হয়। প্রতিটি ব্রয়লার ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত ৪ কেজি খাদ্য খাবে। তাই এ পরিমাণকে ব্রয়লারের মোট সংখ্যা দিয়ে গুণ করে যে ফল দাঁড়াবে সে পরিমাণ খাদ্য ধারণক্ষমতাসম্পন্ন গুদাম তৈরি করতে হবে। বয়সভেদে ব্রয়লারের জন্য ২.৫-১০ সেন্টিমিটার লম্বা খাদ্যের পাত্র বা ফিড ট্রাফের প্রয়োজন। সাধারণত ৫০টি বাচ্চার জন্য একটি খাদ্যের লম্বা ট্রে বা পাত্র এবং তদনুযায়ী পানির পাত্র প্রতি ১০০টি বাচ্চার জন্য প্রবহমাণ পানির ১টি ড্রিংকার প্রয়োজন হয়।
মুলধনের অবস্থা কী? নিজের টাকা আছে না কি এসব হিসাব করে ব্যাংক থেকে ঋণ করতে হবে। মূলধনের উপর ভিত্তি করেই খামার স্থাপনের জমি, বাসস্থানের আকার ও সংখ্যা, প্রয়োজনীয় খাদ্যের পরিমাণ অনুসারে গুদামের ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পানির পাত্র, ব্র“ডিং যন্ত্রপাতি, খামার পরিচালনার লোকজনের জন্য অফিসসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করতে হবে।


খামার স্থাপন ও পরিচালনার হিসাব
খামার স্থাপন ও পরিচালনার খরচ দুইভাগে বিভক্ত। যথা-

ক) স্থায়ী খরচঃ স্থায়ী খরচের খাতওয়ারী হিসেব নিম্ন্নরূপ-

খামারভুক্ত জমির মূল্যঃ
এলাকা অনুযায়ী প্রতি বিঘা জমির মুল্য কমবেশি হয়ে থাকে।

মুরগির গৃহায়ণ ব্যবস্থা বাবদ খরচঃ ঘর তৈরির সাজসরঞ্জাম বিভিন্ন রকমের হতে পারে। যথা-বাঁশ, টিন বা বিচালী, মাটির ঘর, ইট, সিমেন্ট বা পাকা দালান ঘর। ঘর তৈরির সাজসরঞ্জাম অনুযায়ী প্রতি বর্গফুট ঘর তৈরির খরচ, তা যেভাবেই ঘর তৈরি করা হোক না কেন প্রতি বর্গফুট হিসেবে খরচ ধরে ঘরের মোট খরচ বের করতে হবে।

ম্যানেজারের অফিস, ডিম/মাংস সংরক্ষণাগার, খাদ্য গুদাম, খাদ্য ছাড়া অন্যান্য জিনিসপত্র রাখার স্থান, শ্রমিকদের বিশ্রাম ঘর, অসুস্থ ও মৃত মুরগি রাখার জায়গা নির্মানবাবদ খরচ।

আসবাবপত্র ক্রয় বা তৈরি ও যানবাহন ক্রয়বাবদ খরচ, খাবার ও পানির পাত্রের দাম, ডিম পাড়ার বাক্সের দাম ও ডিম রাখার ঝুড়ি কেনার জন্য খরচ।

খ) আবর্তক বা চলমান বা চলতি খরচঃ আবর্তক খরচের খাতওয়ারী হিসেব নিম্নরূপ-

মুরগি সংক্রান্ত খরচঃ ডিমের ব্যবহার অনুযায়ী ডিমপাড়া মুরগির খামার দু’প্রকার। যথা-নিষিক্ত বা বাচ্চা ফুটানোর ডিম উৎপাদন খামার এবং অনিষিক্ত বা খাবার ডিম উৎপাদন খামার। খাবার সাদা বা বাদামি খোসার ডিম বা বাচ্চা ফুটানোর ডিম উৎপাদনকারী মুরগি বা বাচ্চা কোথায় পাবেন, আপনি সেগুলো আনতে পারবেন কি না সে ব্যাপারেও নিশ্চিত হতে হবে। নিষিক্ত ডিম বা ডিমের জন্য প্রজননক্ষম পুলেট ও ককরেলের মূল্য, অনিষিক্ত বা খাওয়ার ডিম উৎপাদনের জন্য উন্নতমানের হাইব্রিড পুলেটের মূল্য অথবা একদিন বয়সের ব্রয়লার বাচ্চা ক্রয়ের খরচ।

সুষম খাদ্যের মূল্যঃ মাথাপিছু দৈনিক ১১০-১২০ গ্রাম হিসাবে।
লিটার কেনাবাবদ খরচ। খাঁচায় মুরগি পালন করলে মেঝে পাকা হলেই ভালো।
প্রতিষেধক টিকা এবং চিকিৎসায় ওষুধপত্রের মূল্য।
খামার পরিচালনায় জনবলের বেতনভাতা খরচ, ম্যানেজারের বার্ষিক বেতনভাতা, অফিস স্টাফের বার্ষিক বেতনভাতা ও শ্রমিকদের বার্ষিক বেতনভাতা।
পরিবহন ও যাতায়াত খরচ, বিভিন্ন কাজে ম্যানেজারের যাতায়াত খরচ এবং খাদ্য সংগ্রহ, ডিম বাজারজাতকরণ ও ডিমপাড়া শেষে মুরগি বিক্রির জন্য পরিবহন খরচ।

মুলধনের সুদঃ ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে মূলধনের উপর বার্ষিক সুদ।

ডিপ্রিসিয়েসন বা অপচয় খরচঃ জমিবাদে স্থায়ী খরচের অপচয়ের শতকরা হার ইত্যাদি যত খরচ হয় সব যোগ করে বার্ষিক খরচ/ মোট খরচের হিসেব রাখতে হবে।

মেরামত খরচ এবং বিদ্যুৎ ও পানির বিল বাবদ খরচ

এডভারটাইজিং বা বিজ্ঞাপন বাবদ ব্যয়

নষ্ট বা বাদ যাওয়া ডিমের মূল্য, ডিম বাছাই ও ছাঁটাই খরচ, যতগুলো ডিম বিক্রির অনুপযুক্ত হলো তার মূল্য।

অসুস্থ বা মৃত মুরগির মূল্য

খামার হতে সম্ভাব্য বার্ষিক আয়

ডিম বিক্রিঃ
লেয়ার খামারের ক্ষেত্রে বার্ষিক গড়ে ৭০-৭৫% হারে উৎপাদন ধরে বর্তমান বাজার দরে ডিমের মোট মূল্য।

ডিম পাড়া শেষে মুরগির মূল্যঃ
শতকরা ৮৮টি মুরগি সুস্থ অবস্থায় বেঁচে থাকার ক্ষমতা আছে এ হিসেবে ডিম পাড়া শেষে বাজার দরে মোট মূল্য।

ব্রয়লার খামারের ক্ষেত্রে গড়ে ৮ সপ্তাহ পর পর মাংসের জন্য মুরগি বিক্রি। প্রতিটি মুরগি থেকে বছরে প্রায় ৩০ কেজি বিষ্ঠা পাওয়া যেতে পারে। এভাবে হিসেব করে বর্তমান বাজার দরে মোট বিষ্ঠা বা সারের মূল্য। অকেজো আসবাবপত্র বিক্রিবাবদ মোট আয়।

খামার হতে বার্ষিক কত টাকা লাভ হতে পারে তা নির্ধারণ করতে হবে। অনুমেয় অর্থ মুনাফা করতে হলে খামারজাত পণ্য হতে শতকরা ১০-১২ হারে টাকা হারে লাভে মোট কত টাকা আয় হতে পারে তা হিসেব করতে হবে। বর্তমান বাজার দরে কতগুলো ডিম বিক্রি করলে এ নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আয় করা যায় তা হিসেব করতে হবে। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। যেমন-বার্ষিক গড়ে ৭০-৭৫% হারে খাবার ডিম বা অনিষিক্ত ডিম উৎপাদন এবং ৬০-৬৫% হারে বাচ্চা ফুটানো বা নিষিক্ত ডিম উৎপাদন ধরে, প্রতিটি ডিম গড়ে ২.৫০-৩.০০ টাকা হিসেবে বিক্রি করা গেলে এবং বছর শেষে ৮৮% মুরগি নীরোগ ও স্বাস্থ্যবান থাকলে আর অবশিষ্ট অনুৎপাদনশীল মুরগি বিক্রি করে ও উৎপাদন খরচ বাদে ১০-১২% লাভ থাকবে। এ জাতীয় হিসেব করে পরিকল্পনা করতে হবে। এভাবে মোট আয় থেকে মোট ব্যয় বাদ দিয়ে প্রকৃত লাভ-লোকসান নির্ধারণ করতে হবে। উপরোক্ত বিষয়সমূহ ভালোভাবে চিন্তাভাবনা করে খামার স্থাপনের পরিকল্পনা করা উচিত।

লেখক: ডাঃ মোঃ মোস্তফা কামাল
ভেটেরিনারি সার্জনউপজেলা পশুসম্পদ অফিসফুলছড়ি, গাইবান্ধা।

http://www.somewhereinblog.net/blog/foundation/29380884

সৃজনশীল পেশা ভিডিও এডিটিং

আমরা টেলিভিশনে যেসব সংবাদ, নাটকও সিনেমা দেখি, সেগুলো কিন্তু প্রচারের আগে এত পরিপাটি থাকে না। নাটক, সিনেমা, টেলিফিল্ম, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান কিংবা কোনো অনুষ্ঠানের ধারণ করা ভিডিও অথবা মিউজিক ভিডিও, যা-ই দেখি না কেন, সবই ধারণ করা হয় অনেক বড় আকারে। কিন্তু দেখানো হয় শুধু প্রয়োজনীয় অংশটুকু। অপ্রয়োজনীয় অথবা তুলনামূলক কম ভালো অংশ ফেলে দিয়েই তৈরি হয় একটি ভালো ভিডিও ফুটেজ। ভিডিও ধারণের পর পরিপাটি করে সাজিয়ে একটি দৃশ্যের পর আরেকটি দৃশ্য সাজিয়ে তবেই দর্শকের দেখার উপযোগী করে তোলা হয়। যেটাকে বলা হয় ভিডিও এডিটিং।আর এ কাজটি করার জন্য দরকার একজন দক্ষ ভিডিও এডিটরের, যিনি তাঁর সৃজনশীলতা দিয়ে একটি ভিডিওকে করে তোলেন উপভোগ্য। পেশা হিসেবেও দেশে দিন দিন এর চাহিদা বাড়ছে।
মিডিয়া একাডেমি পাঠশালার প্রশিক্ষক ও ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান ভিডিও সম্পাদক ইয়াকুব আলী মিঠু বলেন, ‘প্রতিটি টিভি চ্যানেলে ২০ থেকে ২৫ জন ভিডিও এডিটর দরকার। সেটা যদি শুধু সংবাদ চ্যানেল হয়, তবে তার সংখ্যা আরও বেশি হয়। এ ছাড়া প্রোডাকশন হাউসগুলোতেও ভালো মানের ভিডিও এডিটরের চাহিদা অনেক।’ সৃজনশীল মেধার লোকজন ভালো কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ক্রমবর্ধমান চাহিদাসম্পন্ন এ পেশায় যোগ দিয়ে, অর্থাৎ দক্ষ ভিডিও এডিটর হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে পারেন।
ভিডিও এডিটরের কাজ: চিত্রগ্রাহকের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজের অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত অংশ কাটছাঁট, ভিডিও ফুটেজের ধারাবাহিকতা ঠিক রেখে নতুনভাবে ভিডিওটি উপস্থাপন করাই একজন ভিডিও এডিটরের প্রধান কাজ। একজন ভিডিও এডিটর ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যারের সাহায্যে কারিগরি জ্ঞান ও সৃজনশীলতার মিশেলে একটি ভালো ভিডিও উপহার দেন।
এ পেশায় যাঁরা আসতে পারেন: কারিগরি দিক থেকে ভালো ও সৃজনশীল মেধার অধিকারী যে কেউ এ পেশায় আসতে পারেন বলে মনে করেন ইজিওয়ে কমিউনিকেশনের প্রধান নির্বাহী ইনামুল করিম। কম্পিউটারে কাজের ভালো ধারণা আছে এমন ব্যক্তিদের জন্য কাজটি অনেক সহজ হয়ে যায়। তবে সাউথ এশিয়ান মিডিয়া একাডেমি ‘পাঠশালা’র ফ্যাকাল্টি মডারেটর মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন মনে করেন, যে কেউ এ পেশায় আসতে পারেন। তবে এ মাধ্যমে তাঁদের প্রচুর আগ্রহ থাকতে হবে।
কাজের চাহিদা ও ক্ষেত্র: মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন বলেন, ‘প্রশিক্ষণ শেষে একজন সহজেই এ পেশায় যুক্ত হতে পারেন। কারণ, আমাদের দেশে দক্ষ ভিডিও এডিটরের চাহিদা প্রচুর। ভালো ভিডিও এডিটরের প্রায় শতভাগই চাকরি পেয়ে থাকেন।’
প্রশিক্ষণ শেষে টিভি চ্যানেলে যেমন কাজ করার সুযোগ আছে, তেমনি ঘরে বসেও এ কাজ করা যায়। আবার অনেকেই যুক্ত হতে পারেন প্রোডাকশন হাউসগুলোতেও। এ ছাড়া রয়েছে অনেক এডিটিং ফার্ম, যেখানে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। দেশের বাইরেও কাজ করার অনেক সুযোগ আছে।
এ পেশায় ভালো করতে হলে: একজন ভিডিও এডিটরের অবশ্যই দেশ-বিদেশের সমসাময়িক অনুষ্ঠান সম্পর্কে স্বচ্ছ ও সম্যক জ্ঞান থাকতে হবে। একটি ভিডিও ফুটেজে কী ধরনের বৈচিত্র্য আনলে ছবির মান আরও ভালো হবে, সে বিষয়েও ভাবতে হবে।
যোগ্যতা: প্রশিক্ষণার্থীদের ন্যূনতম মাধ্যমিক পাস হতে হবে। তবে এ পেশায় ভালো করতে হলে আরও বেশি পড়াশোনা থাকলে বা স্নাতক পাস হলে ভালো হয় বলে জানান ইয়াকুব আলী মিঠু। তিনি আরও বলেন, ‘গণমাধ্যম সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকাও এ পেশার জন্য জরুরি।’
আয়: সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, সাধারণত কাজের শুরুতে একজন ভিডিও এডিটরের মাসিক বেতন ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা হয়ে থাকে। কাজে দক্ষতা দেখাতে পারলে তা দ্রুত বেড়ে যায়। এভাবেই একজন দক্ষ ভিডিও এডিটর এক লাখ টাকা কিংবা তারচেয়েও বড় অঙ্কের বেতন পেতে পারেন।
কোথায় শিখবেন: জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটসহ দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানেই এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের মেয়াদ এক মাস কিংবা তারও বেশি হতে পারে। প্রশিক্ষণ ফি ছয় হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা কিংবা তারও বেশি হতে পারে।

যোগাযোগ
জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট: ১২৫/এ দারুস সালাম এ ডব্লিউ চৌধুরী রোড, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬। ফোন: ৮০৩৫৯৫৮, পিএবিএক্স: ৯০০৭৪১০-৪, ফ্যাক্স: ৯০০৫৫৮০।
পাঠশালা: সাউথ এশিয়ান মিডিয়া একাডেমি, ১৬ শুক্রাবাদ, পান্থপথ, ঢাকা-১২০৭, ফোন: ৮৮-২-৯১২৯৮৪৭, ৯১৩৬৮৯৫, http://www.pathshala.net,/ http://www.drik.net।/
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া (বিজেম): ২৫৭/৮, এলিফ্যান্ট রোড, কাঁটাবন ঢাল, ঢাকা-১২০৫। ফোন: ৮৬১৭৯১২, ০১৭১৫-৮২২৭৭৮।
সেন্টার ফর অ্যাডভান্স মিডিয়া: নূরজাহান টাওয়ার, চতুর্থ তলা, ২ লিংক রোড, বাংলামোটর, ঢাকা।
ইজিওয়ে কমিউনিকেশন: ১৮০-১৮১ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি (ষষ্ঠ তলা), বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০, ফোন: ০১৯১১০১৪১৮০, ০১৬৭৮০২৯৭২৪।
ইমেজ মিডিয়া ট্রেনিং সেন্টার: ৫২ নিউ ইস্কাটন, টিএমসি বিল্ডিং (পঞ্চম তলা), মোবাইল: ০১৭১৩৩৩৯৬৯৬।
Click This Link

ফার্মেসি ব্যবসা করতে চাইলে...

Sajjat Hossain :- প্রতিষ্ঠিত ও সম্মানজনক ব্যবসার মধ্যে ফার্মেসি ব্যবসা অন্যতম। এখানে পুঁজি বিনিয়োগ করে সহজেই লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফার্মেসি ব্যবসা করে সফল হওয়ার স্বপ্ন অনেকেই দেখেন। কিন্তু ইচ্ছা করলেই যে কেউ ফার্মেসি ব্যবসা শুরু করতে পারবে না। একটা দোকানে কিছু ওষুধ নিয়ে বসে পড়া বেশ সহজ, কিন্তু প্রক্রিয়াটা অবৈধ। এ জন্য আপনাকে অবশ্যই ব্যবসার অন্যান্য আনুসাঙ্গিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সাথে আরো অতিরিক্ত করতে হবে ফার্মাসিস্টের ট্রেনিং এবং ড্রাগ লাইসেন্স। ওষুধ তিনিই বিক্রি করতে পারবে যার ফার্মাসিস্ট ট্রেনিং আছে এবং যিনি ড্রাগ লাইসেন্স পেয়েছেন। ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়া ওষুধের ব্যবসা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং আইনগতভাবে এটি একটি দন্ডনীয় অপরাধ।
আর ওষুধ ব্যবসার জন্যে অতি প্রয়োজনীয় এই ড্রাগ লাইসেন্সটি ইস্যু করে বাংলাদেশ সরকারের 'ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর'।
এবং উক্ত ড্রাগ লাইসেন্সটি অর্জন করতে হলে 'বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল' থেকে আপনাকে ছয় মাসের একটি ফার্মাসিষ্ট ট্রেনিং কোর্স সম্পন্ন করতে হবে।
ড্রাগ লাইসেন্সের জন্যে আবেদন করতে যা প্রয়োজনঃ
১। ট্রেড লাইসেন্স
২। টি.আই.এন সনদপত্রের ফটোকপি
৩। পাসপোর্ট সাইজের ছবি
৪। ব্যাংক একাউন্ট এবং ব্যাংক সচ্ছলতার সনদপত্র
৫। দোকান ভাড়ার রসিদ/চুক্তিপত্র
(নিজস্ব দোকানের ক্ষেত্রে দলিলের সত্যায়িত ফটোকপি)
৬। ফার্মাসিস্ট ট্রেনিয়ের সনদপত্রের ফটোকপি
৭। নাগরিকত্বের সনদপত্র/ভোটার আই.ডি কার্ডের ফটোকপি
৮। ফার্মাসিস্টের অঙ্গীকারপত্র [ফরম নম্বর-৭] (যথাযথ ভাবে পূরণকৃত)
যোগাযোগের ঠিকানাঃ
বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর
১০৫-১০৬ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০।
http://www.dgda.gov.bd/


Anick Chowdhury :- ঔষধের ব্যবসাটা নির্ভর করে প্লেইসমেন্টের উপর। আপনি যদি খুচরা বিক্রয়ের জন্য ফার্মেসি খুলতে চান তাইলে সবচেয়ে লাভজনক হল যেকোন মেডিক্যালের আশেপাশে দোকান নিয়ে বসা।(দোকান খুলতে যা যা প্রয়োজন সব Sajjat ভাই আপনাকে বলেছেন) তবে এক্ষেত্রে আশেপাশের ব্যবসায়ীদের সাথে পাল্লা দিতে হলে খুব উঁচু মানের ক্যাপিট্যাল লাগবে। শুধুমাত্র মেডিসিনের জন্য আপনার হয়তঃ লাখ পনেরোর মত লাগতে পারে।(যদি সাচ্ছ্যন্দে টিকে থাকতে চান)। আর যদি মেডিক্যালগুলোর আশেপাশে না হয়ে আপনার সুবিধামত স্থানে ফার্মেসি নিয়ে বসতে চান তাহলে আপনার হয়তঃ পুঁজি খুব বেশি লাগবে না। তবে ঔষধের ফার্মেসিতে কাস্টোমার তার চাহিদামত ঔষধ না পেলে আপনার ব্যবসা লাটে উঠতে পারে। ধরেন কেউ চাইল নাপা। আপনি বললেন নাপা নেই। তবে এইচ স্কয়ারের। এইচ নিয়ে যেতে পারেন। এইসব করে কাস্টোমার ধরে রাখা যাবে না।


Akm Sayeed আমি ইদানিং একটা ব্যাপার লক্ষ্য করেছি এখনকার ফার্মাসিগুলো তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর হচ্ছে । অনেক ফার্মাসিতে দেখছি POS মেশিন এবং বারকোড সিস্টেম চলছে । দিনশেষে হিসাব নিকাশ সফটওয়্যারেই করা হয়ে থাকে । আমার মতে এটি খুবই ভাল দিক উভয়ের জন্য ফার্মাসি ব্যবসায়ী এবং তথ্যপ্রযুক্তিবিদ । তবে একটি ব্যাপার এখনও হয়ে উঠেনি যা হল সুপারশপগুলো সেভাবে ঔষধের জন্য কোন বিশেষ সেকশান এখন করতে পারেনি । আর যারা পেরেছে তারা ডেটল স্যাভলন ফিনাইল বিক্রিতেই সীমাবদ্ধ ।


Anick Chowdhury ‎Akm Sayeed:- আপনাকে ১টা ধারণা দেই। পাইকারী ব্যবসার ধারণা। আমাদের ফার্মাসিতে যখন ১জন কাস্টোমার আসেন তখন তিনি প্রথমে তার প্রয়োজনীয় ঔষধগুলো লিখিয়ে নেন। এই কাজটা আমার বাবা খুব সহজে করতে পারতেন যদি সফটওয়্যারে কোন ড্রপডাউন বক্স থেকে সিলেক্ট করে দিতে পারতেন। কিন্তু যে ঔষধটা তিনি সিলেক্ট করবেন তা অবশ্যই ডেটাবেইজে থাকতে হবে এবং তার জন্য অবশ্যই একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর দরকার। ব্যবসায়ীরা এটাকে "অযথা" বলে আখ্যায়িত করবেন। তাছাড়া ঔষধের কোম্প্যানিগুলো এখনো তাদের ওয়েবসাইটে ইনফরম্যাশান দেয়ার মত ম্যাচ্যুরিটি লাভ করে নাই। তাই ঔষধের ইনফোর জন্য এম আরের উপর ডিপেন্ড করতে হয়। আমার মনে হয় না ব্যবসায়ীরা এতটা ঝামেলা পোহাতে চান। কারণ কাস্টোমারেরা শুধু ঔষধ চায়। তারপরেও অনেকে দিনশেষের হিসাব-নিকাশ হয়তো সফটওয়্যারেই করছেন। তবে সেটা খুব নগণ্য। এখানে এঞ্জিনিয়ারিং খাটাতে হলে অনেক ভিতর পর্যন্ত যেতে হবে।

Anick Chowdhury :- আর পাইকারি দোকান দিতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই ১টা নির্দিষ্ট স্থানে(যেখানে ঔষধের পাইকারি মার্কেট) দোকান দিতে হবে। পাইকারি ব্যবসাটা চালানোর জন্য অভিজ্ঞ লোকেরও দরকার। আমার বাবা ৩০ বছর ধরে পাইকারি ব্যবসার সাথে জড়িত। কক্সবাজারে আমাদের যত কাস্টোমার আছেন তাদের অনেকেরই দোকানের ট্রেড লাইসেন্স থেকে শুরু করে সমস্ত কাগজপত্রের ব্যবস্থা, তাদের ট্রেইনিং এর ব্যবস্থা করে দেন। ঢাকা হলে এক্ষেত্রে আমি নিজেই আপনাকে সাহায্য করতে পারতাম হয়তঃ। কিন্তু শুধু পুঁজি দিয়ে যেহেতু এই ব্যবসা ধরে রাখা যাবে না তাই আপনাকে অভিজ্ঞ লোকের সাহায্য নিতেই হবে।

Sajjat Hossain জায়গার অবস্থান, দোকানের আকার, ডেকোরেশনের খরচ ইত্যাদির উপর নির্ভর করে এই ব্যবসায় বিনিয়োগের পরিমাণ। এলাকার মধ্যে দোকান করতে গেলে প্রাথমিক ভাবে ৫-৭ লক্ষ টাকা নিয়ে শুরু করতে পারেন এবং আরো ৩ লক্ষ টাকা রিজার্ভ ফান্ডে রেখে দিবেন। চাহিদা এবং পরিস্থতি অনুয়ায়ী ধীরে ধীরে এই ৩ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করবেন। আর বড় রাস্তার ধারে বা কোনো হাসপাতালের আশেপাশে দোকান করতে চাইলে ১৫-৩০ লক্ষ এমনকি ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ লাগতে পারে।

নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় ফার্মেসি দিলে শুরুতে সেই এলাকায় বসবাসরত লোকজন যখন আপনার কাছে প্রেসক্রিপশন নিয়ে ওষুধ নিতে আসবে তখন আপনার কাছে যে সব ওষুধ নাই সেগুলো একটি খাতায় নোট করে রাখুন এবং কাষ্টোমারকে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে জানিয়ে দিন যে, ওষুধটি বর্তমানে আপনার কাছে নাই কিন্তু আপনি নোট করে রেখেছেন এবং খুব শীঘ্রই ওষুধটি আপনি তাঁর জন্যে এনে রাখবেন।

কাষ্টোমারকে আপনার দোকানের উপর নির্ভরশীল করে ফেলুন যেন তিনি আপনাকে বা আপনার দোকান ছাড়া অন্য কিছু না বুঝেন। কিভাবে করবেন তার কিছু পলিসিঃ

১। কাষ্টোমারকে সালাম দিন এবং হাসিমুখে কুশল জিজ্ঞেস করুন। তারপর প্রেসক্রিপশনটি নিয়ে তাঁর কি কি ওষুধ লাগবে জেনে নিন। প্রয়োজনীয় ওষুধগুলো বের করে তার সামনে রাখুন এবং তাঁকে ওষুধগুলো খাওয়ার নিয়ম ও সময় সম্পর্কে ভালোমত বুঝিয়ে দিন। এরপর ওষুধগুলো যথাযথ ভাবে প্যাকেট করে তাঁর হাতে তুলে দিন। এবং বলে দিন যে, কোনো সমস্যা হলে তিনি যেনো কষ্ট করে আবার আসেন।
২। বয়স্ক কাষ্টোমারদের জন্যে বসার ব্যবস্থা রাখুন। তবে খেয়াল রাখবেন দোকানে যেন আড্ডা না জমে যায় !
৩। আপনি, দোকানে অবস্থান করা অবস্থায় কোনো কাষ্টোমারের সাথে রাজনীতি, ধর্ম বা দেশের সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে কোনো কথা বলবেন না। কাষ্টোমার এ সকল বিষয়ে কথা তুললেও আপনি হাসিমুখে তাকে সমর্থন করে যাবেন মাত্র।
৪। সকালে এবং সন্ধ্যায় এলাকার বয়স্ক এবং একটু অসচ্ছল রোগীদের বিনামূল্যে ব্লাড সুগার, ব্লাড প্রেসার ইত্যাদি পরীক্ষা করে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন।
৫। প্রতি মাসে একদিন বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন।
৬। প্রতি ২ মাসে একবার বিনা মূল্যে ২০/২৫ জনের রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করে দিতে পারেন।
৭। এলাকায় ব্যবসা করতে গেলে কিছু কিছু জায়গায় হয়তো বাকিতে বিক্রি করতে হবে। এক্ষেত্রে যিনি বাকিতে ক্রয় করবেন তিনি যদি পরপর তিন বার পাওনা পরিশোধে তার
কমিটমেন্ট ঠিক না রাখে তবে তাকে প্রথমে আপনার অপারগতা বুঝিয়ে বলবেন এবং তাতে কাজ না হলে তার কাছে বিক্রি বন্ধ করে দিবেন। মেইন রোডে বা কোনো হাসপাতালের সাথে দোকান হলে অবশ্য বাকি বিক্রির ঝামেলা নাই।
৮। যত মুনাফাই থাকুক না কেন; কোনো অবস্থাতেই মেয়াদবিহীন এবং আজে বাজে কোম্পানির ওষুধ বিক্রি করবেন না।

৪, ৫ এবং ৬ নং কাজগুলো করতে গেলে আপনার অতিরিক্ত কিছু অর্থ এবং সময় হয়তো ব্যায় হবে কিন্তু এর বিনিময়ে আপনি একটি নিয়মিত কাষ্টোমার সার্কেল পাবেন। দ্রুত আপনার ব্যবসার প্রচার, প্রসার এবং সুনামও বাড়বে বলে আমি মনে করি। সর্বোপরি একজন ব্যবসায়ীর হিসেবে সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গায়ও আপনি পাবেন পরিপূর্ণ মানসিক প্রশান্তি !

[আমার একসময় ফার্মেসি ব্যবসা করার ইচ্ছা হয়েছিল। তখন এই পরিকল্পনাগুলো করেছিলাম । আমি ফার্মেসি ব্যবসা শুরু করলে এই পয়েন্টগুলো আমার ব্যবসায় ইমপ্লিমেন্ট করতাম। তাই আপনাদের সাথেও শেয়ার করলাম]

Anick Chowdhury :- আমি যখন বাসায় গিয়ে মাঝে মাঝে বাবার ফার্মেসিতে বসি তখন কিছু জিনিস খেয়াল করি-
১। যারা প্রত্যন্ত অঞ্চল বা মফস্বলে ফার্মেসি খুলে বসেন তারা হয় কোন ডাক্তারের চেম্বার বানিয়ে নেন নতুবা তারা নিজেরাই ছোট-খাট ট্রেইনিং এর মাধ্যমে হাতুড়ে ডাক্তারি শিখে নেন(যদিও আমি এই ব্যাপার সাপোর্ট করিনা।)

২।এইসব খুচরা দোকানদার(আমি ফার্মেসি বলিনি) অধিকাংশ সময়ে তাদের নিজেদের পছন্দমত ঔষধ কিনে থাকেন। ব্যাপারটা উদাহরণ দিয়ে বলি।
আমরা প্রায় সবাই জানি নাপা, এইচ, প্যারাপাইরল এইগুলো সব প্যারাসিটামল। এখন কোন ছোটখাট কোম্প্যানি যদি অল্প দামে তাদের প্যারাসিটামল বাজারে ছাড়ে তাইলে এইসব দোকানদার সেই প্যারাসিটামলগুলো খুঁজে খুঁজে বের করেন। কারণ যেখানে তার দোকান সেখানে তিনি নিজেই ডাক্তার অথবা তার ডাক্তার এমনভাবে প্রেসক্রাইভ করেন যাতে করে সমস্ত ঔষধ ওই দোকানেই পাওয়া যায়। এসব ছোট-খাট কাস্টোমারদের জন্য হলেও আপনাকে অনামী, অল্পদামী কিছু প্রোডাক্ট রাখতে হবে।

৩। একবার কাস্টোমার ধরে ফেললে কিছুতেই হাতছাড়া করা যাবে না।
ধরেন আপনার কাস্টোমারের যে ঔষধটা এখন দরকার সেটা আপনার নেই। কিন্তু তার অন্যান্য অনেক ঔষধ আপনি তাকে দিতে পারবেন।সেক্ষেত্রে যেসব ঔষধ আপনার নেই সেগুলো আপনি আপনার কর্মচারীকে দিয়ে পাশের দোকান থেকে এনে দিতে পারেন। এ ব্যাপারে সৎ থাকা খুবই জরুরী। কারণ কাস্টোমার বাইরে যাচাই করে দেখলেন পার বক্স ঔষধ আপনি তার কাছ থেকে বেশ ভালরকমই বেশি নিয়েছেন। সেক্ষেত্রে আপনি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবেন।

৪।আরেকটা কথা না বললেই নয়। ঔষধ আপনার নিজের বানানো নয়। তাই আপনি যাচ্ছেতাই দাম নিতে পারবেন না। হ্যাঁ, আপনি হয়ত ঔষধের গায়ে যে দাম আছে ওই দামেই বিক্রি করছেন। কিন্তু আপনার পাশের দোকানে ওই ঔষধ আরো ২টাকা/বক্স কমে বিক্রি করা হচ্ছে। আপনি কিন্তু হেরে গেলেন। আপনি যদি আপনার ক্রয়মূল্যেও বিক্রি করতে না পারেন সেক্ষত্রে ঔষধটা তখন বিক্রি করবেন না। প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে বুদ্ধি খাটাতে হয়।

৫। পাইকারি ব্যবসায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় কোম্প্যানি যে দামে ঔষধ বিক্রি করে তার চেয়ে বাজারে অনেক কম দামে ওই ঔষধ পাওয়া যায়। আপনার উচিত তখন কোম্প্যানির কাছ থেকে না কিনে বাজার থেকে ওই ঔষধ কিনে মজুদ করে রাখা। তাতে দুটা লাভ। আপনার কাস্টোমারকে কম দামে বিক্রি করতে পারবেন। যেহেতু কোম্প্যানিতে ঔষধটার দাম বেশি, কিছুদিনের মধ্যেই বাজারেও দাম বাড়বে। সেক্ষত্রে আপনার লাভও বেড়ে যাবে।

(আমার ইউনি লাইফ শুরু করার আগে ৬ মাসের ১টা জটে পড়েছিলাম।প্রায় ৬ বছর আগে। তখন বাবার ফার্মেসিতে গিয়ে বসতাম। তাই আমার অধিকাংশ ধারণা-ই পাইকারি ফার্মেসি ভিত্তিক।)

http://www.somewhereinblog.net/blog/taileehang/29536555

ইউটিউব থেকে পছন্দের ভিডিও ডাউনলোড করুন খুব সহজে

ইউটিউব ভিজিট করেনা এমন নেট ব্যবহারকারী নেই বললেই চলে। আমরা প্রায় প্রতিনিয়ত ইউটিউবের দ্বারস্থ হয় কোন টিউটোরিয়াল, মুভি, নাটক, খেলাধুলা বা অন্যান্য যে কোন বিষয়ের ভিডিওর জন্য।
কিন্তু অনলাইনে বসে কি আর কোন ভিডিও দেখে মন ভরে। তখন মনে হয় যদি ভিডিওটি ডাউনলোড করে দেখতে পারতাম। হ্যা, আপনি চাইলে খুব সহজেই ইউটিউব থেকে ভিডিও ডাউনলোড করতে পারেন। আজ আমরা আলোচনা করবো এ বিষয়টি নিয়েই।
 তো চলুন দেখে নেওয়া যাক কিভাবে ইউটিউব থেকে ভিডিও ডাউনলোড করবেন।

ধাপ-1

আপনি যে ভিডিওটি ডাউনলোড করতে চান সে ভিডিওটি ইউটিউবে চালু করুন।

ধাপ-2 

এবার ব্রাউজারের ভিডিও লিঙ্কটাতে যান। এরপর youtube.com/. লেখাটির আগে 10 লিখুন। সুতরাং লেখাটি হবে 10youtube.com/.। এরপর Enter চাপুন।

ধাপ-3

নতুন একটি সাইট লোড হবে। সেখানে আপনার ঐ ভিডিওটির লিঙ্ক সহ একটি Downoad অপশন দেখতে পারবেন। এরপর Download বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ-4

এবার ভিডিওটির বিভিন্ন ফরম্যাটের ডাউনলোড অপশন প্রদর্শন করবে। যেমন FLV, MP4, 3GP ইত্যাদি। আপনি আপনার পছন্দমত ফরম্যাট অনুযায়ী Download বাটনে ক্লিক করে ভিডিওটি ডাউনলোড করুন।

অনেক হাই কোয়ালিটি ভিডিও রয়েছে যেগুলি ডাউনলোড ম্যানেজার অটোমেটিক্যালি ক্যাপচার করেনা। ফলে সেসব ভিডিও ডাউনলোড ম্যানেজার দিয়ে ডাউনলোড করা যায় না। কিন্ত আপনি এ পদ্ধতিতে ইউটিউবের যেকোন ভিডিও ডাউনলোড করতে পারবেন। তো বন্ধুগণ উপরোক্ত নিয়মানুযায়ী খুব সহজেই ডাউনলোড করে নিন আপনার প্রয়োজনীয় ইউটিউব ভিডিও।
মূল লিঙ্ক

সবজি তাজা রাখতে চান?

ঢাকা: আমরা প্রায়ই সারা সপ্তাহের বাজার একসঙ্গে করে রাখি। সেক্ষেত্রে দেখা যায় সপ্তাহের শেষ দিনগুলোতে সবজি আর তাজা থাকছে না। সবজি তাজা রাখতে জেনে নিন বিশেষ কিছু টিপস।

১. লেটুস, পালং শাক, সেলেরির মতো সবুজ সবজি পরিষ্কার করে ধুয়ে পোর্সেলিনের কন্টেনারে ভরে ফ্রিজে স্টোর করুন। একসপ্তাহের মতো ফ্রেশ থাকবে।  লেটুস পাতার তাজা ভাব বজায় রাখার জন্য ধোয়ার সময় পানির মধ্যে অল্প লেবুর রস মিশিয়ে নিন।

২. লেবু বেশিদিন তাজা রাখতে চাইলে লবণের কৌটার মধ্যে রাখুন।

৩. বাঁধাকপি, মটরশুঁটি, পালংশাকের মতো সবুজ সবজির ফ্লেভার বজায় রাখার জন্য রান্নার সময় আধা চামচ চিনি মেশান। রান্নার শেষের দিকে লবণ মিশিয়ে নিন।

৪. গোটা ফুলকপি রান্না করার সময় অর্ধেক লেবু ফুলকপির উপরের অংশে ঘষে নিন, কপির মাঝখানে ছুরি দিয়ে কোণাকুণি কেটে দিন, সহজে সিদ্ধ হবে।

৫. শশা কাটার একঘণ্টা আগে লবণ-পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সালাদ ড্রেসিং সহজে শশার মধ্যে অ্যাবজর্ব করবে।

৬. বাঁধাকপি ও ফুলকপির সতেজ ভাব বজায় রাখার জন্য রান্নার সময় এক চা-চামচ লেবুর রস মেশান। সবজির সুন্দর সাদা রং অক্ষুন্ন থাকবে।

৭. যে দিন রান্নায় রসুন ব্যবহার করবেন তার একদিন আগে রসুনের কোয়া আলাদা করে নিয়ে বোতলে ভরে ফ্রিজে রাখুন, পরের দিন সহজে রসুন ছাড়িয়ে নিতে পারবেন। একসঙ্গে অনেক রসুন পেস্ট করতে চাইলে আগের দিন রাতে রসুনের কোয়াগুলো পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন আলাদা করে রসুনের খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে না।

৮. রসুনের কোয়ার উপর সামান্য তেল ঘষে রোদে শুকনো করে নিন। সহজে রসুনের খোসা ছাড়িয়ে নিতে পারবেন।

৯. কাঁচামরিচের বোঁটা ছাড়িয়ে নিতে মাঝখানে সামান্য চিরে রাখুন, তারপর এতে লবণ-হলুদ মেখে রোদে শুকিয়ে নিয়ে স্টোর করুন। বেশিদিন তাজা থাকবে।

১০. মুলা রান্না করার আগে পাতলা করে মুলার খোসা ছাড়িয়ে নিন। মুলার গন্ধ কমে যাবে।

১১. ব্রাউন পেপার ব্যাগে টমেটো স্টোর করুন, ভালো থাকবে। একইভাবে মাশরুম স্টোর করতে পারেন।

১২. লেটুসের মতো সবুজ শাক-সবজি পাতাসহ প্লাস্টিকের ব্যাগে স্টোর করুন। সঙ্গে ভেজা পেপার টাওয়েল রাখুন। সবজির অতিরিক্ত ময়েশ্চার অ্যাবজর্ব করে সবজি তাজা রাখতে সাহায্য করবে। জিপ লক ব্যাগেও সবজি স্টোর করতে পারেন, এতে তাজা থাকবে।

১৩. আলু বেশি দিন ভালো রাখার জন্য আলুর সঙ্গে ব্যাগে ভরে একটা আপেল রাখুন। আলু সহজে পচে যাবে না।

১৪. পেয়াজ, বেগুন, স্কোয়াশের মতো সবজি ফ্রিজের বাইরে রাখুন। ভালো থাকবে, ফ্রিজের বাইরে পরিষ্কারে কন্টেনারে স্টোর করুন।

১৫. টমেটো ফ্রিজে পলিথিন প্যাকে স্টোর করবেন না। বাইরে স্টোর করতে পারেন। ভালো থাকবে।
১৬. কাঁচামরিচের বোঁটা ছাড়িয়ে রাখুন। আদা ফ্রিজে রাখতে পারেন। বেশিদিন তাজা থাকবে।

১৭. ফুলকপি ছোট ছোট করে কেটে এয়ারটাইট প্যাকে ভরে ফ্রিজে রাখতে পারেন।

১৮. ক্যাপসিকাম অর্ধেক কেটে ফেলে না রাখতে পারলেই ভালো। তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

১৯. গাজর ফ্রিজের বাইরে বেশিদিন ফেলে রাখবেন না।

২০. ফ্রিজে ভেজিটেবল স্টোর করার গাইডলাইন ভালো করে জেনে নিন। যেমন লেটুস, পেয়াজ, পালংশাক লো-হিউমিডিটি রয়েছে এমন ড্রয়ারে রাখতে হবে। আবার ফুলকপি, সেলেরি ত্রিস্তার ড্রয়ারে রাখতে পারেন।

ব্রেকিংনিউজ/অমৃ/এজেড

আমেরিকার ভিজিটর ভিসা অ্যাপ্লিকেশনের আদ্যোপান্ত


স্কিলড মাইগ্রেশন ভিসায় কানাডা আসার পর থেকেই একটা প্ল্যান ছিল আমেরিকায় ঘুরতে যাবো। কানাডিয়ান সিটিজেনদের জন্যে আমেরিকা ঘুরতে যাবার ক্ষেত্রে কোন প্রকার ভিসার প্রয়োজন হয়না। কিন্তু কানাডিয়ান পারমানেন্ট রেসিডেন্ট হিসেবে আমেরিকায় ঘুরতে যেতে হলে ভিজিটর ভিসার প্রয়োজন। আজকের এই লেখাটি মূলত: তাদের জন্যে যারা কানাডিয়ান পারমানেন্ট রেসিডেন্ট এবং আমেরিকার ভিজিট ভিসার জন্যে অ্যাপ্লিকেশন করতে ইচ্ছুক। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, আমি কোন ভিসা/ইমিগ্রেশন স্পেশালিস্ট নই এবং আমার এই লেখার কথাগুলো শুধুমাত্র আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতামাত্র।

পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, সাময়িকভাবে আমেরিকা ঘুরতে যাবার জন্যে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিজিটর ভিসার প্রয়োজন হয়। এই ভিসা দু’প্রকারের:
• Business Visitor Visas (B-1)
• Pleasure, Tourism, Medical Treatment - Visitor Visas (B-2)

আমার ক্ষেত্রে আমি Pleasure, Tourism, Medical Treatment - Visitor Visas (B-2) -তে অ্যাপ্লাই করেছিলাম। চলুন তাহলে ধারাবাহিকভাবে জেনে নেওয়া যাক আমেরিকার ভিজিটর ভিসার জন্যে অ্যাপ্লিকেশনের নিয়মাবলি:

স্টেপ-১
১. প্রথমেই আপনাকে Online Nonimmigrant Visa Electronic Application, Form DS-160 পূরণ করতে হবে। আপনার পাসপোর্ট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজাদি সাথে নিয়ে এই ওয়েবসাইটে ফরমটি পূরণ করা শুরু করুন। ফরমটি পূরণ করার সময় অনেক তথ্য আপনাকে দিতে হবে এবং এ জন্যে সময় প্রয়োজন। যদি একদিনে সব তথ্য আপনি দিতে না পারেন, তাহলে পরবর্তীতেও অসম্পূর্ণ ফরমটি পূরণ করতে পারবেন।
২. আপনি যে সময়ে আমেরিকা ভিজিট করবেন, তার কমপক্ষে দুই মাস আগে অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন করাটা ভালো।
৩. DS-160 পূরণকালীন সময়ে আপনার পাসপোর্ট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজাদি থেকে প্রাপ্ত তথ্যসমূহ ফরমে পূরণ করাটা খুব কঠিন কোন বিষয় নয়। তারপরেও নিম্নলিখিত কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইছি। যেমন:
ক. পাসপোর্ট বুক নম্বর: আমি নিজের ক্ষেত্রে এই ঘরটিতে কোন তথ্য পূরণ করি নাই। কারণ আমার বাংলাদেশি পাসপোর্টে আমি ’পাসপোর্ট বুক নম্বর’ বলে কোন কিছু খুঁজে পাই নাই।
খ. বাবার জন্ম তারিখ: আপনার বাবার জন্ম তারিখ উল্লেখ করুন।
গ. আপনার নিজের বিগত ৫ বছরের Work history বিস্তারিত উল্লেখ করুন। ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্স যা উল্লেখ করবেন, সেগুলোর পেপার কপি আপনার কাছে অবশ্যই থাকতে হবে যা পরবর্তীতে ইন্টারভিউয়ের সময় সাথে করে নিয়ে যেতে হবে।
ঘ. আমেরিকায় আপনি কার কাছে যাবেন, তার বিস্তারিত তথ্য (নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, তার সাথে আপনার সম্পর্ক ইত্যাদি) আপনাকে ফরমে উল্লেখ করতে হবে।
ঙ. জাতীয়তা এবং ন্যাশনাল আই.ডি: এক্ষেত্রে 'বাংলাদেশী' লিখুন এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক আপনাকে প্রদত্ত ন্যাশনাল আই.ডি কার্ড-এ (জাতীয় পরিচয়পত্রে) উল্লেখিত আই.ডি নম্বরটি লিখুন।

বাংলাদেশী জাতীয় পরিচয়পত্র (ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)

৪. অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন (DS-160) করার সময় আপনার ফটোগ্রাফের সফট কপির প্রয়োজন হবে যা অনলাইনে আপলোড করতে হবে। আমি নিজের ক্ষেত্রে ড্যানফোর্থ বাংলা পাড়ায় গিয়ে ’ঢাকা সফট’ থেকে ফটোগ্রাফের সফট কপি পেনড্রাইভে এবং দুই কপি হার্ড কপি সাথে করে নিয়ে এসেছিলাম। সেক্ষেত্রে আমার মাত্র ৫ ডলার খরচ হয়েছিল।
৫. অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন শেষ হবার পর আপনি একটি কনফার্মেশন পেজ পাবেন। এই পৃষ্ঠাটি আপনাকে প্রিন্ট আউট করে নিতে হবে। তৎক্ষণাৎ না পারলেও পরবর্তীতে আপনার ইমেইল অ্যাকাউন্ট থেকে আপনি সেটির প্রিন্ট নিতে পারবেন। এই কনফার্মেশন পেজটিতে একটি বার কোড থাকে। সুতরাং খুব ভালো প্রিন্টার থেকে প্রিন্ট করে নেয়াটাই ভালো।
৬. ইউ.এস.এ কেন যাবেন, তার খুব সংক্ষিপ্ত এবং সুনির্দিষ্ট কারণ আপনাকে উল্লেখ করতে হবে।

ডি.এস. ১৬০ ফরম পূরণ করার পর কনফার্মেশন পেজ (ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)

স্টেপ-১ সম্পূর্ণ করার পর এখন আপনাকে স্টেপ-২ -তে যেতে হবে।

স্টেপ-২:
এই স্টেপে আপনাকে আপনার ভিসা অ্যাপ্লিকেশনের জন্যে পেমেন্ট দিতে হবে এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউল ঠিক করতে হবে। বি-২ ভিসার জন্যে অ্যাপ্লিকেশন ফি ১৬০ ইউ.এস. ডলার + ট্যাক্স যা কানাডিয়ান ডলারে আমার এসেছিল আনুমানিক ১৭৫ ডলার। স্টেপ-২ - এ যেতে হলে আপনাকে এই ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রথমেই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

রেজিস্টার করার পর আপনার অ্যাকাউন্টে লগ ইন করে আপনার কিছু বেসিক ইনফরমেশন দেবার পর পে-পাল/ ভিসা কার্ডের মাধ্যমে ভিসা ফি পে করে দিন। ফি পেমেন্ট করার পর পেমেন্ট কনফার্মেশনের কপি প্রিন্ট করে নিন।

ইন্টারভিউ পরবর্তী সময়ে আপনার পাসপোর্ট কোথা থেকে কালেক্ট করবেন, তা স্টেপ-২ তে উল্লেখ করতে হবে। আমি নিজের ক্ষেত্রে যে ঠিকানা সিলেক্ট করে দিয়েছিলাম (এবং পরবর্তীতে আমার নিজের পাসপোর্ট কালেক্ট করেছিলাম), সেটি হলো:

Loomis Branch Address:
95 Micro Court
Markham , ON
L3R5N1

’লুমিস’ হলো একটি ডেলিভারী কোম্পানী, যারা আপনার পাসপোর্ট ডেলিভারী দেবে। আপনি চাইলে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে আপনার পাসপোর্ট নিজের ঠিকানাতেও পাসপোর্ট ডেলিভারী নিতে পারেন। স্টেপ-১ এবং স্টেপ-২ পূরণ করার পর আপনি আপনার ই-মেইল অ্যাকাউন্টে ইউ.এস কনস্যুলেট থেকে প্রয়োজনীয় ই-মেইল পাবেন।

ইন্টারভিউ:
স্টেপ-২ - তে ইন্টারভিউ শিডিউল (তারিখ এবং সময়) অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিনে আমেরিকান কনস্যুলেটে চলে যান। মনে রাখবেন, কোন প্রকার ইলেকট্রনিক ডিভাইস (সেল ফোন/ টেপ রেকর্ডার/ পকেট রেডিও/ পকেট গান শোনার যন্ত্র ইত্যাাদি) সাথে নেওয়া যাবেনা। আমার নিজের ক্ষেত্রে ইন্টারভিউ শিডিউল ছিল সকাল ৮.৩০ -এ এবং নিচের ঠিকানায়:

Consulate Address: U.S. Consulate General Toronto
225 Simcoe Street
Toronto, Ontario
M5G 1S4
Canada

ইন্টারভিউ-এর দিনে যে কাগজপত্রগুলো অবশ্যই নিয়ে যাবেন:
১. আপনার পাসপোর্ট যা ইউ.এস ভিসায় অ্যাপ্লিকেশন করার সময় পাসপোর্টের মেয়াদ নূন্যতম ৬ মাস আছে।
২. কানাডিয়ান পারমানেন্ট রেসিডেন্ট কার্ডের মূল কপি
৩. স্টেপ-১ এর কনফার্মেশন পেজ এর প্রিন্ট আউট (বার কোড সহ)
৪. স্টেপ-২ এর ভিসা পেমেন্ট ফিস এর প্রিন্ট আউট

অন্য যে কাগজগুলো সাথে নিয়ে যাবার পরামর্শ দিব:
১. ফটোগ্রাফ (হার্ড কপি) - ২ টা
২. আপনি যদি কানাডিয়ান কোন বিশ্ববিদ্যালয়/ কলেজের ছাত্র হন, তাহলে সেমিস্টার এনরোলমেন্টের প্রিন্ট আউট এবং অফার লেটার
৩. আপনি যদি ওন্টারিও স্টুডেন্ট অ্যাসিস্টেন্টশিপ প্রোগ্রাম (ওসাপ) -এ থাকেন, তাহলে ওসাপ থেকে প্রাপ্ত চিঠির কপি।
৪. ব্যাংক স্টেটমেন্ট - চেকিং অ্যাকাউন্ট (বিগত ১ বছরের)
৫. আপনি যদি বর্তমানে কর্মরত থাকেন অথবা পূর্বে কাজ করে থাকেন, তাহলে কর্মস্থল থেকে প্রাপ্ত এক্সপেরিয়েন্স লেটার অথবা পে-চেক
৬. ট্যাক্স রিটার্ন পেপার
৭. ল্যাণ্ডিং পেপার
৮. সিন কার্ড
৯. ড্রাইভার্স লাইসেন্স
১০. হেল্থ কার্ড
১১. আমেরিকা থেকে (যদি) প্রাপ্ত কোন অফার লেটার (বন্ধুর বিবাহ প্রোগ্রাম-এ উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণপত্র/ হাসপাতালে ভর্তি আছে এমন রোগীকে দেখতে যাবার আমন্ত্রণপত্র ইত্যাদি)
আজ এই পর্যন্তই। সবাই ভালো থাকবেন।