ভিটামিন ‘ই’ এর এ্যান্টি অক্সিডেন্ট ভূমিকাটা সুবিদিত। ডাক্তারের পরামর্শে বা অনেকসময় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই
আজকাল অনেকে ভিটামিন ‘ই’ সেবন করেন। ডাক্তাররা সাধারণত: বার্দ্ধক্য প্রতিরোধ এবং হৃদরোগের আক্রমণ থেকে
বাচাঁর জন্য ভিটামিন ‘ই’ সেবনের পরামর্শ দেন।
সম্প্রতি ভিটামিন ‘ই’ এর আর এক উপশমকারী গুণের কথা জানা গেছে। গবেষণায় জানা গেছে যে, ব্যায়াম পরবর্তী
পেশী বেদনা লাঘবে ভিটামিন ‘ই’ বেশ কার্যকর। এক্ষেত্রে ভিটামিন ‘ই’ এর ফ্রী র্যাডিক্যাল রোধী বা এ্যান্টি অক্সিডেন্ট
ভূমিকাই কাজ করে। এমনিতে ফ্রী র্যাডিক্যাল পেশীর ছোট-খাটো কাটাছেঁড়া মেরামত করে। কিন্তু ফ্রী র্যাডিক্যালের
সংখ্যা বেড়ে গেলে তা পেশীর জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়াঁয়। ভিটামিন ‘ই’ সেবনে ফ্রী র্যাডিক্যালের সংখ্যা কমে যায়
এবং পেশীর ব্যাথা নিরাময় হয়।
এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের র্হাভার্ড মেডিক্যাল স্কুল কর্তৃক প্রকাশিত এক হেলথ রিপোর্টে বলা হয় যে, ভিটামিন ‘ই’
এর ক্ষমতার মধ্যে আরও দুটো বৈশিষ্ট্য অর্ন্তভুক্ত করা যায় যেগুলো হৃদরোগের ক্ষেত্রে যথেষ্ট উপকারী ভূমিকা পালন
করে। এ দুটো বৈশিষ্ট্য হচ্ছে প্রদাহ নিবারণ ও মসৃণ মাংস পেশীর কোষ প্রবৃদ্ধিতে সাহায্য করা। মাংস পেশীর কোষ
উৎপাদন ক্ষমতার সংগে প্রদাহ নিবারণ ক্ষমতা এ দুটো গুণ রক্তনালীর সংকীর্ণ হওয়াকে প্রতিরোধ করে। এন্টি
অক্সিডেন্ট ক্রিয়া ছাড়াও এই দুই গুণাবলীর কারণে ভিটামিন ‘ই’ হৃদরোগ নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আরও
উল্লেখ্য যে, ভিটামিন ‘ই’ এর সাহায্য ছাড়া দেহে ভিটামিন ‘এ’র শোষণ ও মজুদ হওয়া কঠিন। অথচ ভিটামিন ‘এ’র
দেহে শোষিত হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন কারণ এই ভিটামিন কোষগুলোকে সুস্থ রাখে এবং দৃষ্টিশক্তির সুরক্ষা করে।
ভিটামিন ‘ই’ এর ক্যান্সাররোধী গুণাবলীর কথাও জানা গেছে।
ভিটামিন ‘ই’ এর উৎস হল উদ্ভিজ্জ তেলসমূহ যথা, পাম, রাইস ব্র্যান, সয়াবীন, কর্ণ, সানফ্লাওয়ার প্রভৃতি এবং বিভিন্ন
প্রকার বাদাম ও সবুজ শাকসবজী, হুইট জার্ম ইত্যাদি। এখানে উল্লেখ্য যে, খাদ্যে দু’ধরণের ভিটামিন ‘ই’ পাওয়া
যায় যথা, টোকোফেরল ও টোকোট্রায়েনল। এ দু’ধরণের মধ্যে টোকোট্রায়েনলের কার্যকারীতাই বেশী। ভিটামিন ‘ই’
এর উৎসগুলির মধ্যে শুধু পাম তেল ও রাইস ব্র্যান তেলের মধ্য্ ে টোকোট্রায়েনল ভিটামিন ‘ই’ পাওয়া যায় এবং
অন্যান্য উৎসগুলোতে পাওয়া যায় টোকোফেরল ভিটামিন ‘ই’। সয়াবীন তেলে ৯৫৮ পিপিএম ভিটামিন ‘ই’ রয়েছে
যার সবটুকুই টোকোফেরল। পাম তেলে প্রায় ১১৭২ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন) ভিটামিন ‘ই’ আছে। পাম তেলে
বিদ্যমান ভিটামিন ‘ই’ এর ৭০ শতাংশই হচ্ছে টোকোট্রায়েনল ও অবশিষ্ট ৩০% হচ্ছে টোকোফেরল।
টোকোট্রায়েনলের উৎস হিসেবে পাম তেল অনন্য। ক্যান্সারাক্রান্ত কোষগুলোর বৃদ্ধি প্রতিহত করার ক্ষেত্রে
টোকোফেরল ভিটামিন ‘ই’ এর চাইতে টোকোট্রায়েনল ভিটামিন ‘ই’ এর শারীরবৃত্তিক ক্ষমতা অনেক বেশী।
তবে একথা জানা দরকার যে, কৃত্রিম উপায়ে তৈরী ভিটামিন ‘ই’ অপেক্ষা প্রাকৃতিকভাবে খাদ্যের মাধ্যমে প্রাপ্ত ভিটামিন
‘ই’ অধিক উপকারী। কারণ বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ভিটামিন ‘ই’ তখনই অধিক কার্যকরী যখন শরীর তা
খাদ্যের মাধ্যমে পায়। কাজেই ভিটামিন ‘ই’ এর উপকারী গুণসমূহকে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগাতে হলে যে সব
খাদ্যের মধ্যে ভিটামিন ‘ই’ অধিক মাত্রায় রয়েছে তা খাদ্যতালিকায় অর্ন্তভুক্ত করতে হবে। আবার এসব খাদ্যের মধ্যে
টোকোট্রায়েনল ভিটামিন ‘ই’ যে খাদ্যে রয়েছে সে খাদ্যই হওয়া উচিত অধিক পছন্দনীয়। এদিক দিয়ে বিচার করলে
পাম তেলকে ভোজ্য তেল হিসেবে ব্যবহার করলে প্রয়োজনীয় পরিমাণ টোকোট্রায়েনল ভিটামিন ‘ই’ পাওয়া যেতে
পারে। রাইস ব্রান তেল সহজলভ্য হলে তাও ব্যবহার করা যেতে পারে। সয়াবীন তেল থেকে টোকোফেরল ভিটামিন
‘ই’ পাওয়া যাবে। সবুজ শাক-সবজির মধ্যে পালং শাক, মূলা, লীক (পেঁয়াজ জাতীয কন্দ) এগুলোও ভিটামিন ‘ই’ এর
উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
link
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন