বৃহস্পতিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৬

এজাহার বা এফআইআর কী ও কেন এবং কিভাবে করবেন ?

এজাহার বা এফআইআর কী ও কেন এবং কিভাবে করবেন ?
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নানা কারণে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। কিন্তু বর্তমানে বিষয়টি অনেকেই ভালোভাবে না জানার বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে । বেশ কয়েক দিন আগে আমার গ্রামের এক বন্ধু কে প্রতিপক্ষ হত্যার উদ্দেশে রাস্তায় আক্রমণ করে । ভাগ্য ভালো আশেপাশের মানুষ এগিয়ে আসলে বেশ আহত অবস্থায় বেচে যায় । আমি খবর পেয়ে ফোন দিলাম । সে অচেতন থাকায় তার ছোট ভাই রিসিভ করল আর জানতে চাইলো কি করবে এখন । আমি বললাম থানায় গিয়ে আক্রমণকারীদের নাম ঠিকানা নিয়ে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ সহ একটা এজহার দায়ের করতে । কিন্তু সে জানেনা কিভাবে তা করতে হয় বা তার কি করা উচিৎ থানায় গিয়ে । এরকম অবস্থার স্বীকার হয়ে থাকেন অনেকেই । পারিবারিক সহিংসতার পাশাপাশি রাজনৈতিক সহিংসতাও বেড়ে গেছে বহুগুণ । বাড়িঘর – দোকান- ব্যবসা বাণিজ্য – নিজের জীবন সব কিছুই যে কোন মূহুর্তে দূর্ঘটনার তথা হামলা- আক্রমণের স্বীকার হচ্ছে দেশজুড়ে । ঘটনা যদি ঘটেই যায় এবং আপনি যদি আইনের আশ্রয় নিতে চান তাহলে আপনাকে সর্বপ্রথম যে কাজটি করতে হবে সেটা হলো "এজহার" ।
বিস্তারিত :
* এজহার কি ? সহজ কথায়, অপরাধ বা অপরাধমূলক কোনো কিছু ঘটার পর সে বিষয়ে প্রতিকার পাওয়ার জন্য থানায় যে সংবাদ দেওয়া বা জানানো হয়, তাকে এজাহার বা এফআইআর(ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট) বলে। প্রকৃতপক্ষে, এজাহারের মাধ্যমে থানায় মামলা করা হয়। কারণ রাস্ট্র পক্ষের যে কোন মামলার আইনি প্রক্রিয়ার শুরু হয় এই এজহারের মাধ্যমে । অর্থাৎ যে কোন মামলার প্রথম ধাপ হল এই এজহার।
* এজাহার কাকে করতে হবে ?
√ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি নিজে;
√ তাঁর পরিবারের কেউ ; কিংবা
√ অন্য কোনো ব্যক্তি, যিনি ঘটনা ঘটতে দেখেছেন কিংবা ঘটনা সম্পর্কে অবগত আছেন।
* আবেদন কোথায় করতে হবে?
আবেদনটি দাখিল করতে হবে নিকটস্ত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অথবা ওসি র নিকট ।
* দেওয়ার পদ্ধতি কি ?
এজাহার লিখিত ও মৌখিক দুই ভাবে দেওয়া যায় । তবে লিখিত দেওয়াটাই ভালো । ঘটনার পূর্ণ বিবরণ, ঘটনার স্থান, সময় ,কীভাবে ঘটনা ঘটল, কেন ঘটল, দায়ী ব্যক্তি তথা আসামির নাম _ঠিকানা জানা থাকলে তার পূর্ণ বিবরণ স্পষ্টভাবে লিখতে হবে । এজাহারকারীর পূর্ণ ঠিকানা ও সই থাকতে হবে, যদি লিখিত বা কম্পোজ আকারে দেওয়া হয় । যদি মৌখিকভাবে থানায় এজাহার দেওয়া হয়,তাহলে এজহারকারীর বক্তব্য থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সঠিকভাবে লিখবেন। লিখিত আকারে নিয়ে এজাহারকারীকে তা পড়ে শোনাবেন । তারপর অভিযোগকারীর স্বাক্ষর নিবে। এবং যে কর্মকর্তা এজাহার লিখবেন, তিনিও সিল ও সই দেবেন। একটা বিষয় খেয়াল রাখা উচিত যে, কখনো এজাহার করতে যেন দেরি না হয়। অনেক সময় মামলার গ্রহণ যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে । কারণ দেরিতে এজাহার করলে মামলার গুণাগুণ নষ্ট করতে পারে। যার ফলে অভিযোগকারী ন্যায়বিচার না পাওয়ার সম্ভবনা বাড়ে। যদি কোনো কারণে এজাহার করতে দেরি হয়েই যায় তাহলে তার সুনির্দিষ্ট কারণসহ আবেদনে উল্লেখ করতে হবে।
* পুলিশ কি করবে ?
এজাহার করার পর যদি উল্লিখিত অপরাধ আমলযোগ্য কিংবা এমন কোনো ঘটনাসংক্রান্ত হয়, যা তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিলে আসামিদের ধরা যাবে বা শনাক্ত করা যাবে, বা করা উচিত ,সে ক্ষেত্রে পুলিশ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেবে বা ঘটনার তদন্ত করবে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়াই ( ধারা : 156 ) আর যদি,এজাহারে বর্ণিত অপরাধ বা বিষয়টি আমলযোগ্য না হয়, তবে পুলিশ এ- সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দাখিল করবে। সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বা তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে অনুমতি নেবে । (ধারা: 155) উভয় ক্ষেত্রে মামলার তদন্ত অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক নিয়োজিত কোন ব্যক্তি নিম্মোক্ত ধাপগুলো সাধারণত পালন করে থাকেন ; (ক) ঘটনাস্থলে যাওয়া । (খ) মামলার ঘটনা এবং অবস্থা । ascertain করা বা অবগত হওয়া । (গ) সন্দেহভাজন অপরাধী বা অপরাধীদের বের করা এবং গ্রেপ্তার করা । (ঘ) অভিযুক্ত অপরাধ সম্পর্কে সাক্ষ্য প্রমাণাদি সংগ্রহ করা । যেমন :- সংশ্লিস্ট ব্যক্তিসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের বিবৃতি নেয়া ও জিগ্গাসাবাদ করা ; জব্দ তালিকা তৈরি করা ; case ডায়েরি তৈরি করা ; 173 ধারা অনুযায়ী চার্জশিট তৈরির ব্যবস্থা করা ।
ফৌজদারি কার্যবিধির 154 , 190 ,200 ধারায় এজাহার সম্পর্কে বলা হয়েছে।
 লেখক : ছাত্র । আইন অণুষদ, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্রগ্রাম ॥

কিভাবে bkash wallet account করতে হয়?

সবাইকে সালাম ও শুভেচ্ছা। আশা করছি ভালো আছেন সবাই।আজ আমি bkash account নিয়ে আলোচনা করবো।বিকাশ হচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংকের একটি উদ্যোগ, যা বাংলাদেশ ব্যাংকে পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) হিসেবে নিবন্ধিত। দেশজুড়ে এর রয়েছে ১০,০০০ এরও বেশি প্রতিনিধি, যারা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবা প্রদান করে।কিভাবে নিবন্ধন করতে হবে নিবন্ধন এটি সহজ প্রক্রিয়া। এবার আপনি ও নিবন্ধীকৃত হয়।আপনি সমস্ত bKash পরিষেবা ব্যবহার করতে পাবেন।
মুহূর্তে নিবন্ধন করতে পারবে Robi ,বাংলালিংক এবং গ্রামীণফোন গ্রাহকরা।অন্যান্য অপারেটর থেকে গ্রাহক bKash ব্যবহার করতে পারবেন না। bKash সহজ ২টি পদ্ধিতিতে আপনি একটি গ্রাহক হিসেবে নিবন্ধন করার উপায় উপলব্ধ করতে পারবেন।কেবলমাত্র একটি ফরম পুরন করলে এজেন্ট আপনার দোরগোড়ায় আপনার নিবন্ধীকরণ গ্রহণের জন্য আসবে।
অথবা, আপনি নিচের কাজগুলো করতে পারেন -

01. আপনার কাছাকাছি bKash প্রতিনিধি কাছে যান। সাথে আপনার সক্রিয় Robi বা গ্রামীণফোন নাম্বার সঙ্গে মোবাইল ফোন নিয়ে যান।
খ. আপনার ফটো আইডি একটি অনুলিপি (জাতীয় পরিচয়পত্র / পাসপোর্ট / ড্রাইভিং লাইসেন্স / অন্যান্য বৈধ ফটো আইডি নিয়ে যেতে হবে।
গ. পাসপোর্ট সাইজ 2 কপি ছবি লাগবে।
02. নিবন্ধীকরণের পরে, আপনি আপনার wallet সক্রিয় করা প্রয়োজন
নিচে দেখুন -
bKash এজেন্ট প্রক্রিয়া চলাকালে আপনি নিবন্ধীকরণ সম্পূর্ণ করার জন্য সাহায্য করবে। আপনি আপনার ফোনে একটি SMS বিজ্ঞপ্তি নিবন্ধন প্রতিপাদক পাবেন।
এখন দেখুন কিভাবে আপনি আপনার wallet bkash একাউন্ট এ টাকা জমা করবেন। আপনার wallet টাকা জমা দেওয়ার জন্য, নীচের পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করুন: -

01. কোনো bKash এজেন্ট এ যান
02. তাকে জানান কত টাকা জমা করতে চান
03. আপনার wallet number এবং টাকার পরিমাণ এজেন্ট register লিখে রাখুন
04. অর্থের পরিমাণ জমা দিন এজেন্ট এর কাছে।
05. এজেন্ট টাকা পাটিয়ে দেবে আপনার wallet number এ
06. আপনি এবং প্রতিনিধি উভয় নিশ্চিতকরণ বার্তা পাবেন. কাউন্টার ছাড়ার আগে থেকে প্রতিনিধি রেজিস্টার আপনার স্বাক্ষর করে নিন মনে রেখবেন।
যদি আপনার bKash wallet টাকা থাকে আপনি যেকোন প্রান্ত থেকে যে কোনো সময় নগদ টাকা তুলতে পারবেন আপনার wallet থেকে ।
নীচের পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করুন: -

01. কোনো bKash এজেন্ট যান
02. টাকার পরিমাণ আপনি উঠাতে চান জানা
03. আপনার wallet number ও টাার পরিমাণ নিবন্ধন লিখে রাখুন
04. * 247#ডায়াল করুন bKash মেনু জন্য আপনার মোবাইল ফোনে
05. নির্বাচন করুন "আউট ক্যাশ"
06. From Agent নির্বাচন করুন
07. wallet numberলিখুন
08. পরিমাণ লিখুন
09. আপনার wallet পিন লিখুন
10. সম্পন্ন হলে আপনি এবং Update Agent-এ উভয় নিশ্চিতকরণ বার্তা পাবেন। কাউন্টার পেলে পরিমাণ গণনা এবং Update Agent-এ নিবন্ধন করুন আপনার স্বাক্ষর করুন।
আপনি আপনার wallet ব্যালেন্স চেক করতে পারবেন।
নিচে দেখুন -
যে কোনো সময় আপনি আপনারwallte পিন পরিবর্তন করতে পারবেন।
নিচে দেখুন -
টাকা পাঠাতে পারেন অন্যান্যর wallet numberএ নিম্নলিখিত ধাপগুলি অনুসরণ করুন -
এবার দেখুন ফি/চার্জ সম্পর্কে বিস্তারিত Service Charges/Other Service Charges/Transaction Limits






টিউন করেছেন :

বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০১৫

আঁচিল দূর করার ৩টি নিরাপদ ও কার্যকরী উপায়

টিবিটি লাইফস্টাইল ডেস্ক: ত্বকের
অত্যন্ত বিব্রতকর একটি সমস্যার নাম
হচ্ছে আঁচিল। এই আঁচিল সাধারণত হতে
দেখা যায় গলায়, স্তন বা শরীরের
স্পর্শকাতর ভাঁজে, আঙুলের ভাঁজে,
চোখের পাতায় ইত্যাদি স্থানে। অনেকে
আঁচিল দূর করতে হোমিওপ্যাথি খেয়ে
থাকেন। তবে সেটা বেশ সময় সাপেক্ষ
এবং আঁচিল এতে বেড়েও যায় অনেক
ক্ষেত্রে। চলুন, আজ জেনে নিই নিরাপদ
উপায়ে দ্রুত আঁচিল দূর করার ৩টি অত্যন্ত
কার্যকরী উপায়। এই উপায় গুলোতে
আঁচিল দূর করতে আপনার কোন কষ্টই হবে
না।
১. অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার: অ্যাপেল
সাইডার ভিনেগার অত্যন্ত পরিচিত একটি
নাম এখন। যে কোন সুপার শপে খুঁজলেই
পেয়ে যাবেন এই কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি।
Heinze কোম্পানির অ্যাপেল সাইডার
ভিনেগার অত্যন্ত সহজলভ্য।
তুলোয় ভিনেগার লাগিয়ে দিনে ২ বার
আঁচিলের ওপরে লাগান। চোখের পাতায়
লাগালে খেয়াল রাখবেন যেন ভেতরে
না যায়। এক্ষেত্রে আঙ্গুল দিয়েও
লাগাতে পারেন। একটু গন্ধ লাগতে
পারে। তবে লাগিয়ে রাখুন, পানি দিয়ে
ধোবেন না। ২ থেকে ৪ সপ্তাহের মাঝেই
আঁচিল ঝরে পড়বে। (আঁচিলের আকারের
ওপরে নির্ভর করে)
২. ক্যাস্টর ওয়েল ও বেকিং সোডা : এই
দুটি উপাদান মিসিয়ে একটা ঘন পেস্ট
তৈরি করুন। আঁচিলের ওপরে পেস্টটি
লাগিয়ে দিন। অপেক্ষা করুন শুকিয়ে
যাওয়া পর্যন্ত। তবে শুকিয়ে গেলে ধুয়ে
ফেলবেন না। কমপক্ষে ১০-১২ ঘণ্টা এটা
থাকতে দিন। সবচাইতে ভালো হয় যদি
রাতে লাগিয়ে ঘুমাতে যান। সকালে ধুয়ে
ফেলবেন। প্রতিদিন লাগান আঁচিল
মিলিয়ে যাওয়া পর্যন্ত।
৩. টি ট্রি ওয়েল: বিদেশী ওষুধের
দোকানে বা বড় কসমেটিকসের দোকানে
এই জিনিসটি কিনতে পারবেন। দ্রুত
আঁচিল দূর করতে এটা অত্যন্ত কার্যকরী।
খানিকটা তুলো ভিজিয়ে নিংড়ে নিন।
ভেজা তুলোতে কয়েক ফোঁটা টি ট্রি
অয়েল মাখান। তারপর তুলো দিয়েই
আঁচিলের ওপরে লাগিয়ে দিন। সম্ভব হলে
তুলোটি আঁচিলের ওপরে চেপে ছোট্ট
ব্যান্ডেজ করে রাখুন। প্রতিদিন লাগান।
১ থেকে দেড় সপ্তাহের মাঝেই আঁচিল
ঝরে পড়বে।

main link: thebangladeshtoday.com/bangla/আঁচিল-দূর-করার-৩টি-নিরাপদ/

সোমবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৪

কবুতর পালন ও চিকিৎসা

কবুতর পালন ও চিকিৎসা: প্রাথমিক তথ্য

আমাদের দেশে বিভিন্ন গৃহপালিত পাখির মধ্যে কবুতর সর্বাধিক জনপ্রিয়। কারণ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কবুতর পালন করা হয়- এর বাহ্যিক সৌন্দর্য্যগত দিকগুলোর কারণে। প্রাচীনকালে কবুতর পালন করা হতো চিঠি আদান প্রদানের কাজে। শোনা যায় প্রাচীনকালে রাজা বাদশাহ তাঁদের বিভিন্ন ধরনের বার্তা প্রেবণের জন্য বেছে নিতেন কবুতরকে। এছাড়া, সারা পৃথিবী জুড়ে কবুতরকে ধরা হয় শান্তির দূত হিসেবে। এই কারণে,বিভিন্ন গঠনমূলক কাজে ধর্মাধর্ম নির্বিশেষে কবুতরকে খাঁচামুক্ত করে উদ্বোধন করা হয়।

সবচেয়ে বড় কথা, কবুতর পালন করার জন্য অতিরিক্ত বা বাহুল্য কোন খরচ হয় না। কবুতরকে সহজেই পোষ মানানো যায়। বাড়ির যেকোন কোণ বা আঙিনা অথবা বাড়ির ছাদ কিংবা কার্নিশের মত ছোট বা অল্প জায়গাতে ও কবুতর পালন করা যায়। এমনকি ছাদের সাথে ঝুড়ি ঝুলিয়ে ও কবুতর পালন করা যায়।এই কারণে, শহরে কী গ্রামে অনেক বাড়িতেই কবুতর পালন করা যায়।


কবুতরের মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু এবং বলকারক বিশেষজ্ঞরা বলেন, কবুতরের মাংসে সাধারণ অন্যান্য পাখির মাংসের চাইতে প্রোটিনের পরিমান বেশি। ফলে আমিষের পাশাপাশি প্রটিনের বাড়তি চাহিদা পূবণের জন্য ও কবুতরের মাংস খাওয়া হয়ে থাকে। বানিজ্যিকভাবে কবুতর পালন করে অনেকেই অল্প সময়ে এটাকে লাভ জনক ব্যবসা হিসেবে দাঁড়া করাতে পেরেছেন। কবুতর সাধারণভাবে জোড়ায় বেঁধে বাস করে। প্রতি জোড়ায় একটি পুরুষ এবং একটি স্ত্রী কবুতর থাকে। এরা ১২ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। যতদিন বেঁচে থাকে_ ততদিন এরা ডিমের মাধ্যমে বাচ্চা প্রজনন করে থাকে।ডিম পাড়ার পর স্ত্রী ও পুরুষ উভয় কবুতরই পর্যায়ক্রমে উক্ত ডিমে তা দিয়ে থাকে। কবুতরের কোন জোড়া হঠাৎ ভেঙে গেলে সেই জোড়া তৈরি করতে কিছুটা বেগ পেতে হয়।নতুন জোড়া তৈরি করার জন্য স্ত্রী ও পুরুষ কবুতরকে একঘরে কিছুদিন রাখতে হয়।


কবুতর পালনের বিভিন্ন সুবিধা সমুহ

কবুতর পালন করলে অসুবিধার চেয়ে সুবিধার পরিমাণ বেশি। পরবর্তীতে কবুতর পালনের বিভিন্ন সুবিধাসমূহ উল্লেখ করা হলো।

(১) সাধারনত একটি ভাল জতের কবুতর বছরে ১২ জোড়া ডিম প্রদানে সক্ষম হয়ে থাকে। এই ডিম গুলোর প্রায় প্রতিটি থেকেই বাচ্চা পাওয়া যায়। এই বাচ্চা পরবর্তী ৪ সপ্তাহের মধ্যেই খাওয়া বা বিক্রির উপযোগী হয়।


(২) গৃহপালিত অন্যান্য পাখির মধ্যে কবুতরকে পোষ মানানো বা লালন করা যায়।


(৩) খুবই অল্প জায়গায় কবুতর লালন পালন করা যায়। এমনকি ঝোলানো ঝুড়িতেও কবুতর পালন করা সম্ভব। লালন পালনে কম জায়গা লাগে বলে কবুতর পোষায় খরচের পরিমাণ একেবারেই কম।


(৪) বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কবুতর নিজের খাবার নিজেই খুঁজে নিয়ে থাকে। এই কারণে কবুতরের খাবারের জন্য বাড়তি যত্ন বা খরচ খুব একটা হয় না বললেই চলে।


(৫) কবুতরের থাকার জায়গার জন্য বাড়তি যত্নের প্রয়োজন হয় না। বাড়ির আঙিনা, বা ছাদের ওপর কাঠের ঘর তৈরি করে অনায়াসেই কবুতর পালন করা যায়। প্রমাণ সাইজের ঝুড়িতে করে ও কবুতর পালন করা যায়।

(৬) একটি পূণাঙ্গ বয়সের কবুতর ডিম দেবার উপযোগী হতে ৫ থেকে ৬ মাস মসয় লাগে। এই অল্প সময় অতিক্রান্ত হবার পর থেকেই কবুতর বছরে প্রায় ১২ জোড়া ডিম প্রদানে সক্ষম। ২৬ থেকে ২৮ দিন বয়সেই কবুতরের বাচ্চা খাবার উপযোগী হয়ে থাকে বা এই বাচ্চাকে বাজারজাত করা যায়। সাধারণত কবুতরের বাচ্চা রুগীর পথ্য হিসেবেও অনেকে বেছে নেন।

(৭) কবুতরের ডিম থেকে মাত্র ১৮ দিনেই বাচ্চা সাধারণ নিয়মে ফুটে থাকে। এই বাচ্চা আবার পরবর্তী ৫ থেকে ৬ মাস পরে নিজেরাই ডিম প্রদান শুরু করে।ফলে কবুতর বংশ পরম্পরায় প্রাকৃতিক নিয়মে নিজেরাই বাড়াতে থাকে নিজেদের সংখ্যা।


(৮) কবুতরের মাংস প্রচুর চাহিদা রয়েছে।কারণ, কবুতরের মাংস খুবই সুস্বাদু ও বলকারক। তাছাড়া, বাজারের অন্যান্য মাংসের যোগান থেকে কবুতর কিছুটা সস্তাতে ও পাওয়া যায়।


একটি খুব ভালো প্রজাতির কবুতর লালন করলে পরবর্তী ১ বছরের মধ্যে সেই জোড়া থেকে কয়েক জোড়া কবুতর পাওয়া খুব বেশি আর্শ্চযজনক বিষয় নয়। এই কবুতরকে একটি লাভজনক ব্যবসা হিসেবে ধরা যেতে পারে। কারণ, কবুতর লালন-পালনের খরচ খুব একটা নেই। এমনকি কবুতরের রোগ ব্যাধি কম হয়। কবুতরের থাকার জায়গা নির্বাচনে ও অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন হয় না। এই কারণে ব্যবসায়িক ভিত্তিতে কবুতর পালন অবশ্যই লাভজনক।


ধারাবাহিক ভাবে কবুতর তার বংশবৃদ্ধি করে বলে অনেকেই আজকাল কবুতর পালনের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন।মুরগির মাংসের বিকল্প হিসেবে কিংবা অতিথি পাখির বিকল্প হিসেবে অনেকেই কবুতরের মাংস বেছে নিয়ে থাকেন।

লেখক: আবদুল্লাহ আল মামুন, উপ-পরিচালক, বংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট।

কবুতর প্রতিপালন ব্যবস্থাপনা: বিস্তারিত তথ্য

ভূমিকা
ইতিহাস থেকে জানা যায় বহু আদিকাল থেকে মানুষ কবুতর পালন করে আসছে। সে সময় মানুষ দেব-দেবীকে সন্তুষ্ট করার জন্য কবুতর উৎসর্গ করতো। এছাড়াও এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সংবাদ প্রেরণ, চিত্ত বিনোদন ও সুস্বাদু মাংসের জন্য কবুতরের বহুল ব্যবহার ছিল। বর্তমানে আমাদের দেশেও প্রধানত মাংস ও চিত্ত বিনোদনের জন্য কবুতর পালন করা হয়ে থাকে।

কবুতর প্রতিপালনের প্রয়োজনীয়তা

কবুতর প্রতিপালন এখন শুধু শখ ও বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং তা এখন একটি লাভজনক ব্যবসা হিসাবে পরিগণিত হয়েছে। কবুতর বাড়ি ও পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা ছাড়াও অল্প খরচে এবং অল্প ঝামেলায় প্রতিপালন করা যায়। কবুতরের মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু এবং বলকারক হিসেবে সদ্যরোগমুক্ত ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত উপযোগী। রোগীর পথ্য হিসেবে কবুতরের মাংস ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। আমাদের দেশে বর্তমানে অনেকে বাণিজ্যিকভিত্তিতে কবুতর পালন করছেন।

কবুতর প্রতিপালনের অর্থনৈতিক গুরুত্ব

বাংলাদেশে সাধারণত কবুতরকে মাংস উৎপাদনের জন্য পালন করা হয়। কবুতরের মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু, বলকারক ও রোগীর পথ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয় যা সাধারণ মানুষের নিকট অতি প্রিয়।
১। ন্যুনতম ব্যয়ে প্রতিপালন:

হাঁস-মুরগীর তুলনায় কবুতর পালন মোটেও ব্যয়বহুল নয়। স্বল্প পুঁজি, অল্প খরচ ও সীমিত স্থানে অতি সহজে কবুতর পালন করা যায়।
২। কবুতরের ঘর নির্মাণে ন্যুনতম ব্যয়:

গ্রামাঞ্চলে অত্যন্ত সাধারণ পদ্ধতিতে পারিবারিকভাবে কবুতর প্রতিপালন করা যায়। বাড়ির চালের বাড়তি অংশে কাঠ বা বাঁশের ঘর বা খোপের মতো করে দিলে এখানে আপনাআপনি কবুতর এসে বাসা বাঁধে এবং বংশবৃদ্ধি করে। এতে তেমন খরচ নেই বললেই চলে। এভাবে কবুতর প্রতিপালন করে অনেক পরিবার যেমন তাদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পারে তেমনি অন্যভাবে নিয়মিত কবুতরের বাচ্চা বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। বাণিজ্যিকভাবে কবুতর প্রতিপালনেও সীমিত ব্যয় হয়। এদের ঘরের অধিকাংশই কাঠ ও বাঁশের তৈরি হয়ে থাকে। সর্বোপরি এজন্য খুব কম জায়গার প্রয়োজন হয়।
৩। ডিম ফোটার হার:

কবুতরের ক্ষেত্রে ডিম ফোটার হার ৯৮%, যা মুরগির ক্ষেত্রে প্রায়শ ৮০-৮৫% হয়ে থাকে। এদের ডিম ফোটানোর জন্য ইনকিউবেটর বা এজাতীয় কোনো ব্যয়বহুল যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না।
জেনারেশন বিরতি

স্বল্প বয়সে এদের পুনরুৎপাদন শুরু হয়। তাই একজন উৎপাদনকারী অল্প সময়ের মধ্যে অর্থনৈতিক দিক থেকে লাভবান হতে পারে। একটি কবুতর সাধারণত বছরে ১০-১২ জোড়া বাচ্চা দেয়। ডিম থেকে বাচ্চা ফুটতে ১৬-১৮ দিন সময় লাগে।

কবুতরের জাত

বহুবিচিত্র ধরনের নানা জাতের কবুতর রয়েছে। আমাদের দেশে ২০ টিও অধিক জাতের কবুতর আছে বলে জানা যায়। নিম্নে প্রধান কয়েকটি জাত সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

১। গোলা

এই জাতের কবুতরের উৎপত্তিস্থল পাক-ভারত উপমহাদেশ। আমাদের দেশে এ জাতের কবুতর প্রচুর দেখা যায় এবং মাংসের জন্য এটার যথেষ্ট জনপ্রিয়তা রয়েছে। ঘরের আশেপাশে খোপ নির্মাণ করলে এরা আপনাআপনি এখানে এসে বসবাস করে। এদের বর্ণ বিভিন্ন সেডযুক্ত ধূসর এবং বারড-ব্লু রংয়ের। এদের চোখের আইরিস গাঢ় লাল বর্ণের এবং পায়ের রং লাল বর্ণের হয়।
২। গোলী

গোলা জাতের কবুতর থেকে গোলী জাতের কবুতর ভিন্ন প্রকৃতির। এ জাতের কবুতর পাকিস্তানের লাহোর ও ভারতের কলকাতায় বেশ জনপ্রিয় ছিল। এদের লেজের নীচে পাখার পালক থাকে। ঠোঁট ছোট হয় এবং পায়ে লোম থাকে না। এদের বর্ণ সাদার মধ্যে বিভিন্ন ছোপযুক্ত।
৩। টাম্বলার
এসব জাতের কবুতর আকাশে ডিগবাজী খায় বলে এদের টাম্বলার বলে। আমাদের দশে এই জাতটি গিরিবাজ নামে পরিচিত। এদের উৎপত্তিস্থল পাক-ভারত উপমহাদেশ। মনোরঞ্জনের জন্য আমাদের দেশে এদের যথেষ্ট কদর রয়েছে।
৪। লোটান

লোটন কবুতরকে রোলিং (rolling) কবুতরও বলা হয়। গিরিবাজ কবুতর যেমন শূন্যের উপর ডিগবাজী খায়, তেমন লোটন কবুতর মাটির উপর ডিগবাজী খায়। সাদা বর্ণের এই কবুতরের ঘুরানো ঝুঁটি রয়েছে। এদের চোখ গাঢ় পিঙ্গল বর্ণের এবং পা লোমযুক্ত।
৫। লাহোরী

আমাদের দেশে এই কবুতরটি শিরাজী কবুতর হিসেবে পরিচিত। এদের উৎপত্তিস্থল লাহোর। এদের চোখের চারদিক থেকে শুরু করে গলার সম্মুখভাগ, বুক, পেট, নিতম্ব, পা ও লেজের পালক সম্পূর্ণ সাদা হয় এবং মাথা থেকে শুরু করে গলার পিছন দিক এবং পাখা রঙ্গীন হয়। সাধারণত কালো, লাল, হলুদ, নীল ও রূপালী ইত্যাদি বর্ণের কবুতর দেখা যায়।
৬। কিং

কিং জাতের কবুতরের মধ্যে হোয়াইট কিং এবং সিলভার কিং আমেরিকাসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলিতে বিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। কিং জাতের কবুতর প্রদর্শনী এবং স্কোয়াব (ঝয়ঁধন বাচ্চা) উৎপাদনে ব্যবহার হয়। এছাড়াও রয়েছে ব্লু রেড এবং ইয়েলো কিং। এই জাতের কবুতর মূলত প্রদর্শনীতে ব্যবহৃত হয়।
৭। ফ্যানটেল

এটি অতি প্রাচীন জাতের কবুতর। ফ্যানটেল জাতের কবুতরের উৎপত্তি ভারতে। এ জাতের কবুতর লেজের পালক পাখার মত মেলে দিতে পারে বলে এদেরকে ফ্যানটেল বলা হয়। এদের রং মূলত সাদা তবে কালো, নীল ও হলুদ বর্ণের ফ্যানটেল সৃষ্টিও সম্ভব হয়েছে। এদের লেজের পালক বড় হয় ও উপরের দিকে থাকে। পা পালক দ্বারা আবৃত থাকে। এ জাতের কবুতর প্রদর্শনীতে ব্যবহৃত হয় এবং দেশ বিদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
৮। জ্যাকোবিন

এই কবুতরের মাথার পালক ঘাড় অবধি ছড়ানো থাকে যা বিশেষ ধরনের মস্তকাবরণের মত দেখায়। এদের উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা যায় না। তবে এদের আদি জন্মস্থান ভারত বলেই ধারণা করা হয়। এই কবুতর সাধারণত সাদা, লাল, হলুদ, নীল ও রূপালী বর্ণের হয়। এদের দেহ বেশ লম্বাটে। চোখ মুক্তার মত সাদা হয়।
৯। মুকি

এ জাতের কবুতরের গলা রাজহাঁসের মত পিছন দিকে বাঁকানো এবং কম্পমান অবস্থায় থাকে। মুকি জাতের কবুতরের উৎপত্তি ভারতে বলে ধারণা করা হয়। এদের উভয় ডানার তিনটি উড়বার উপযোগী পালক সাদা হয় যা অন্য কোনো কবুতরে দেখা যায় না। এ জাতের কবুতরের মাথা সাদা, বুক খুব একটা চওড়া নয় তবে উঁচু ও বেশ কিছুটা সামনের দিকে বাড়ানো থাকে। সাদা, কালো এবং নীল বর্ণের এই কবুতরের পায়ে লোম থাকে না।

কবুতরের প্রজনন, ডিম উৎপাদন ও ডিম ফুটানো

হাঁস-মুরগির মতো যে কোনো মর্দা কবুতর মাদী কবুতরের সাথে হজে জোড়া বাঁধে না। এদেরকে এক সাথে এক সপ্তাহ রাখলে জোড়া বাঁধে। মুরগীর ন্যায় কবুতরের জননতন্ত্রে ডিম উৎপন্ন হয়। তবে ডিম্বাশয়ে একসাথে সাধারণত মাত্র দু'টি ফলিকুল তৈরি হয়।
এ কারণে প্রতিটি মাদী কবুতর দু'টি ডিম পাড়ে। ডিম পাড়ার ৪০-৪৪ ঘন্টা পূর্বে ডিম্ব স্খলন হয় এবং ডিম পাড়ার কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা পূর্বে তা নিষিক্ত হয়। অর্থাৎ যে ১৬-২০ ঘন্টা পর্যন্ত ডিম ডিম্বনালীতে থাকে সে সময়ে তা নিষিক্ত হয়ে থাকে।
ডিম পাড়ার পর থেকে মর্দা ও মাদী উভয় কবুতর পর্যায়ক্রমে ডিমে তা দিতে শুরু করে। মাদী কবুতর প্রায় বিকেল থেকে শুরু করে পরের দিন সকাল পর্যন্ত ডিমে তা দেয় এবং বাকী সময়টুকু অর্থাৎ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মর্দা কবুতর তা দিয়ে থাকে। তা দেয়ার পঞ্চম দিনেই ডিম পরীক্ষা করে উর্বর বা অনুর্বর ডিম চেনা যায়। বাতির সামনে ধরলে উর্বর ডিমের ভিতর রক্তনালী দেখা যায়। কিন্তু অনুর্বর ডিমের ক্ষেত্রে ডিমের ভিতর স্বচ্ছ দেখাবে। সাধারণত ডিম পাড়ার ১৭-১৮ দিন পর ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। এভাবে একটি মাদী কবুতর সাধারণত ১২ মাসে ১০-১২ জোড়া বাচ্চা উৎপাদন করতে পারে। জন্মের প্রথম দিন থেকে ২৬ দিন বয়স পর্যন্ত কবুতরের বাচ্চার ক্রমবর্ধমান অবস্থা থাকে। প্রথমে সারা দেহ হলুদ পাতলা বর্ণের লোম দ্বারা আবৃত থাকে।

এই সময় নাক ও কানের ছিদ্র বেশ বড় দেখায়। প্রায় ৪-৫ দিন পর বাচ্চার চোখ খোলে বা ফুটে। পনের দিনে সমস্ত শরীর পালকে ছেয়ে যায়। প্রায় ১৯-২০ দিনে দু'টো ডানা এবং লেজ পূর্ণতা লাভ করে ও ঠোঁট স্বাভাবিক হয়। এই ভাবে ২৬-২৮ দিনে কবুতরের বাচ্চা পূর্ণতা লাভ করে। কবুতর সাধারণত ২০-৩০ বছর পর্যন্ত বাঁচে।

পিজিয়ন মিল্ক

কবুতরের খাদ্যথলিতে পিজিয়ন মিল্ক উৎপাদিত হয়। এই খাদ্য থলিতে দু'টি অংশ বা লোব (ষড়নব) থাকে। ডিমে তা দিতে বসার প্রায় অষ্টমদিন থেকে "পিজিয়ন মিল্ক" উৎপাদনের প্রস্তুতি শুরু হয়। এন্টিরিত্তর পিটুইটারী গ্রন্থির প্রোল্যাকটিন (Prolactin) হরমোনের প্রভাবে এই ' পিজিয়ন মিল্ক' উৎপন্ন হয়। এ কারণে কবুতর ছানার জন্য কোনো বাড়তি খাবারের প্রয়োজন হয় না। কারণ প্রায় ৭ দিন পর্যন্ত ছানা তার মাতা-পিতার কাছ থেকে প্রকৃতি প্রদত্ত খাবার পেয়ে থাকে। এটিকে পিজিয়ন মিল্ক বা কবুতরের দুধ বলা হয়। পিজিয়ন মিল্ক হলো পৌষ্টিক স্তরের কোষের মধ্যে চর্বির গুটিকা (globules of fat) যা পিতা মাতা উভয়ের খাদ্য থলিতে যথেষ্ট পরিমাণে মজুদ হয়। পিজিয়ন মিল্ক কবুতর ছানার জন্য একটি আদর্শ খাবার। এতে ৭০% পানি, ১৭.৫% আমিষ, ১০% চর্বি এবং ২.৫% বিভিন্ন খনিজ পদার্থ থাকে। মাতাপিতা উভয় কবুতরের খাদ্য থলির অভ্যন্তরীণ আবরণ থেকে পিজিয়ন মিল্ক উৎপন্ন হয়। কবুতরের জিহ্বা লম্বা ও সরু। মুখ গহ্বরের নীচের অংশ বেশ প্রশস্ত হয় যা ছানাকে খাওয়ানোর উপযোগী। মাতা ও পিতা কবুতর ছানার মুখের মধ্যে মুখ প্রবেশ করিয়ে খাবার সরাসরি অন্ননালীতে পৌছে দেয়।

কবুতরের ঘর

আমাদের দেশে বিশেষত গ্রামে টিন বা খড়ের চালা ঘরের কার্ণিশে মাটির হাড়ি অথবা টিন বেঁধে রেখে কবুতর পালনের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া কাঠের তৈরি ছোট ছোট খোপ তৈরি করেও কবুতর পালা হয়ে থাকে। মজার ব্যাপার হলে, কয়েক জোড়া কবুতরের ঘর করে এক জোড়া কবুতর পালন করলে কয়েক দিনের মধ্যে বাকী ঘরগুলোতে নতুন জোড়া কবুতর এসে বাসা বাঁধে। কবুতর পোষা খুব সহজ এবং লাভজনক তা বলাই বাহুল্য। অল্প-পরিসরে যা বাণিজ্যিকভিত্তিতে কবুতর পালনের জন্য অবশ্যই সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা থাকা বাঞ্ছনীয়। নিম্নে কবুতরের ঘর বা খোপ তৈরির বিশেষ ব্যবস্থাসমূহ আলোচনা করা হলো।

স্থান নির্বাচনঃ
কবুতরের খামারের জন্য উঁচু ও শুষ্ক সমতল ভূমি থাকা প্রয়োজন।
ঘরের উচ্চতাঃ
কুকুর, বিড়াল, ইঁদুর, বেজী ইত্যাদি যেন কবুতরের ঘর নাগালে না পায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে ঘর উঁচু করতে হয়। এ উদ্দেশ্যে কাঠ বা বাঁশের খুঁটি পুঁতে তার উপর ঘর নির্মাণ করা যেতে পারে।
ঘরের পরিসরঃ
প্রতি এক জোড়া কবুতরের জন্য একটি ঘর থাকা প্রয়োজন। এক জোড়া কবুতর যাতে ঘরের ভিতর স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরতে ফিরতে পারে তা লক্ষ্য রেখে ঘর নির্মাণ করতে হবে।
স্বাস্থ্য সম্মত ব্যবস্থাঃ
কবুতরের ঘর বা খোপ এমনভাবে নির্মাণ করতে হবে যেন সেখানে পোকা-মাকড়, কৃমি, জীবাণু ইত্যাদির উপদ্রব কম থাকে এবং ঘর সহজেই পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা যায়।
সূর্যালোকঃ
ঘরে যাতে সূর্যের পর্যাপ্ত আলো প্রবেশ করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ সূর্যের আলো যেমন পাখির দেহে ভিটামিন-ডি সৃষ্টিতে সাহায্যে করে তেমনি পরিবেশও জীবাণুমুক্ত রাখে।
বায়ু চলাচলঃ
কবুতরের ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কারণ দূষিত বাতাস বা পর্যাপ্ত আলো বাতাসের অভাবে পাখির স্বাস্থ্যহানি ঘটতে পারে।

কবুতরের খাদ্য

হাঁস-মুরগির ন্যায় কবুতরের খাদ্যে শ্বেতসার, চর্বি, আমিষ, খনিজ ও ভিটামিন প্রভৃতি থাকা প্রয়োজন। কবুতর তার দেহের প্রয়োজন এবং আকার অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ করে থাকে। প্রতিটি কবুতর দৈনিক প্রায় ৩০-৫০ গ্রাম পর্যন্ত খাবার গ্রহণ করে থাকে। কবুতর প্রধানত গম, মটর, খেশারী, ভুট্টা, সরিষা, যব, চাল, ধান, কলাই ইত্যাদি শস্যদানা খেয়ে থাকে। মুক্ত অবস্থায় পালিত কবুতরের জন্য সকাল-বিকাল মাথা পিছু আধ মুঠ শস্যদানা নির্দিষ্ট পাত্রে
খাদ্য উপাদান পরিমাণ (%)
ভুট্টা
৩৫
মটর
২০
গম
৩০
ঝিনুকের গুঁড়া/চুনাপাথর চূর্ণ/অস্থিচূর্ণ
০৭
ভিটামিন/এমাইনো এসিড প্রিমিক্স
০৭
লবণ
০১
  মোট = ১০০
রেখে দিলে প্রয়োজন মত তারা খেতে পারবে। বাণিজ্যিকভিত্তিতে কবুতর উৎপাদনের জন্য নিম্নে প্রদত্ত খাদ্য মিশ্রণ ব্যবহার করা উত্তম।

কবুতরের খাদ্য তালিকা

এই সাথে কবুতরের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে হবে। এক পাত্রে কবুতরের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার ও অন্য পাত্রে প্রয়োজন মত পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ ঠান্ডা পানি রাখতে হবে।
কবুতরের শারীরবৃত্তিক তথ্যাদি
* দেহের তাপমাত্রা = ৩৮.৮-৪০০ সে
* দৈহিক ওজন = (ক) হালকা জাতঃ ৪০০-৪৫০ গ্রাম
(খ) ভারী জাতঃ ৪৫০-৫০০ গ্রাম
* পানি পান = (ক) শীতকালঃ ৩০-৬০ মিলি প্রতিদিন
(খ) গ্রীষ্মকালঃ ৬০-১০০ মিলি প্রতিদিন
* খাদ্য গ্রহণ = ৩০-৬০ গ্রাম প্রতিদিন (গড়)
* ডিম ফুটানোর সময়কাল = ১৭-১৮ দিন।
কবুতরের গুরুত্বপূর্ণ রোগের লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

রোগের নাম কারণ
লক্ষণ
চিকিৎসা
প্রতিরোধ
সালমেনেলোসিস/ প্যারাটইফোসিস
সালমোনেলা টাইফিমিউরিয়াম
শ্লেষ্মাযুক্ত আঠালো, ফেনা ও দুর্গন্ধযুক্ত ডায়রিয়া দেখা দেয়। দেহ ক্রমাগত শুকিয়ে যায়। ভারসাম্য হীনতা ও পক্ষাঘাত পরিলক্ষিত হয়।
এন্টিবায়োটিক সেনসিটিভিটি টেস্ট করে সঠিক এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ করতে হবে। এই সাথে ভিটামিনস ও মিনারেলস খাওয়াতে হবে।
১। জীব নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে।
২। টিকা প্রদান করতে হবে।

১। জীব নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে।
২। টিকা প্রদান করতে হবে।

পাসটিউরেলা মালটোসিডা
ডাইরিয়া, জ্বর (৮২-৮৩০ ঈ) কোন লক্ষণ ব্যতীত ২৪-৪৮ ঘন্টা মধ্যে কবুতর মারা যায়
এন্টিবায়োটিক সেনসিটিভিটি টেস্ট করে সঠিক এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ করতে হবে। এই সাথে ভিটামিনস ও মিনারেলস খাওয়াতে হবে।
১। জীব নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে।
২। টিকা প্রদান করতে হবে।

করাইজা অথবা আউল'স হেড
হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা
সর্দি, চোখের পাতাদ্বয় ফুলে প্যাঁচার মাথার ন্যায় দেখায়, অক্ষিঝিলি্ল প্রদাহের ফলে চোখ দিয়ে (muco-purulent) পদার্থ নির্গত হয়।
এন্টিবায়োটিক সেনসিটিভিটি টেস্ট করে সঠিক এন্টিবায়োটিক প্রয়োগ করতে হবে। এই সাথে ভিটামিনস ও মিনারেলস খাওয়াতে হবে।
১। জীব নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে।
২। টিকা প্রদান করতে হবে।

মাইকোপ্লাজমোসিস
মাইকোপ্লাজমা কলাম্বিনাম
সর্দি, চোখ ও নাক দিয়ে প্রথমে পানি এবং পরে muco-purulent পদার্থ নির্গত হয়। মুখ ও কন্ঠ অত্যধিক প্রদাহে স্ফীত থাকে এবং দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। শ্বাসকষ্ট হয়।
টিয়ামুলিন, টাইলোসিন এনরোফ্লুক্সসিন, স্পাইরামাইসিন, লিনকোমাইসিন গ্রুপের ঔষধ
১। জীব নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে।
২। টিকা প্রদান করতে হবে।

ক্ল্যামাইডিওসিস অথবা অরনিথোসিস
ক্ল্যামাইডিয়া সিটাসি
চোখ ও নাক দিয়ে পানি পড়ে, স্বাস্থ্যহানি ঘটে এবং রোগ ভোগের পর মরা যায়
ক্লোরটেট্রাসাইক্লিন, টাইলোসিন, লিনকোমাইসিন, স্পাইরামাইসিন ইত্যাদি
১। জীব নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে।
২। টিকা প্রদান করতে হবে।

নিউক্যাসল অথবা প্যারামিক্সো ভাইরাস-১
প্যারামিক্সো ভাইরাস টাইপ-১
সবুজ রংয়ের ডায়রিয়া, শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট, মুখ হাঁ করে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করে। ভারসাম্যহীনতা, মাথা ঘোরা, পাখা ও পায়ের পক্ষাঘাত ইত্যাদি।
এন্টিবায়োটিক, এমাইনো এসিড, ভিটামিন, ইমিউনো স্টিমুলেটর
* জৈব নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে।
* টিকা প্রদান করতে হবে।

ডিফথেরো স্মল পক্স (বসন্ত রোগ)
বোরেলিয়া কলাম্বরী ভাইরাস
পালকহীন ত্বক বিশেষ করে চোখ, ঠোঁটের চারপাশে এবং পায়ে ক্ষত বা পক্স দেখা যায়
এন্টিবায়োটিক, এমাইনো এসিড, ভিটামিন এ এবং সি, ইমিউনো স্টিমুলেটর, টপিক্যাল আইওডিন
* জৈব নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে।
পরজীবী রোগ
আইমেরিয়া, এসকারিস, ক্যাপিলারিয়া, ট্রাইকোমোনা
দুর্বলতা, খাদ্য গ্রহণে অনীহা, শুকিয়ে যাওয়া, ডাইরিয়া (মলে রক্ত থাকে ককসিডিয়া), পুষ্টিহীনতা ও অবশেষে মৃত্যু ঘটে।
কৃমিনাশক, ভিটামিন ও মিনারেল প্রিমিক্স, এমাইনো এসিড
* জৈব নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে।
অপুষ্টিজনিত ও বিপাকীয় রোগসমূহ

ভিটামিন এ এর ঘাটতি
দেহে ক্ষত হয়, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পায় এবং অক্ষিঝিলি্লর প্রদাহ দেখা দেয়, ক্ষুধা কমে যায়, দৈহিক বৃদ্ধি ও পালকের গঠণ ব্যাহত হয়, উৎপাদন ও হ্যাচাবিলিটি হ্রাস পায়
২০০ আই ইউ প্রতিদিনের প্রয়োজন
নিয়মিত ভিটামিন, প্রিমিক্স ও মিনারেল প্রদান অথবা ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাদ্য প্রদান করতে হবে।
ভিটামিন ডি এর ঘাটতি
অস্থি নরম ও বাঁকা হয়ে যায়, ডিম উৎপাদন ও হ্যাচাবিলিটি হ্রাস পায়, ডিমের খোলস পাতলা হয়।
৪৫ আই ইউ প্রতিদিনের প্রয়োজন
ভিটামিন ডি ও মিনারেল প্রিমিক্স প্রদান, ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার (কডলিভার অয়েল, ফিস মিল) প্রদান করতে হবে।
ভিটামিন ই
এনসেফালোম্যালাশিয়া রোগ হয়, পক্ষাঘাতের ফলে চলতে অসঙ্গতি দেখা দেয়। বুক ও পেটের নীচে তরল পদার্থ জমে, ইডিমা হয়। ডিমের উর্বরতা কমে যায়।
১ মিগ্রা
সেলিনিয়াম সহ ভিটামিন ই প্রদান করতে হবে। ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার (শস্য দানা, গম, চাউলে কুড়া, শুটকি মাছ) খাওয়াতে হবে।
ভিটামিন কে
রক্তক্ষরণের কারণে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।

------
ভিটামিন কে প্রিমিক্স ও মিনারেল প্রদান। ভিটামিন কে সমৃদ্ধ খাদ্য প্রদান (সবুজ শাকসবজি ও মাছের গুঁড়া)।
ভিটামিন বি১
পা, ডানা ও ঘাড়ে পক্ষাঘাত হয়। ঘাড়ের পক্ষাঘাতের ফলে ঘাড় পেছন দিকে করে আকাশের দিকে মুখ করে থাকে, চলনে অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়।
০.১ মিগ্রা
ভিটামিন বি১ সমৃদ্ধ প্রিমিক্স ও মিনারেল প্রদান (চাউলের কুড়া, গমের গুঁড়া, শাক সবজি)
ভিটামিন বি২
ছানার পা পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়। পরে নখ বা আঙ্গুল বাঁকা হয়ে যায়। ছানার দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
০.১২ মিগ্র
ভিটামিন বি২ সমৃদ্ধ প্রিমিক্স ও মিনারেল (সবুজ শাক সবজি, ছোলা, খৈল, আলফা-আলফা, ঈষ্ট)
ভিটামিন বি৬
ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়। ছানার বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। প্যারালাইসিস ও পেরোসিস হতে পারে।
০.১২ মিগ্রা
ভিটামিন বি৬ সমৃদ্ধ প্রিমিক্স ও মিনারেল (শস্য, মাছের গুঁড়া, আলফা-আলফা, ঈষ্ট ইত্যাদি)
ভিটামিন বি১২
বৃদ্ধি ব্যাহত হয় ও রক্তশূন্যতা দেখা দেয় ডিমের উর্বরতা হ্রাস পায়।
০.২৪ মিগ্রা
ভিটামিন বি১২ সমৃদ্ধ প্রিমিক্স ও মিনারেল প্রদান। ভিটামিন বি১২ সমৃদ্ধ খাদ্য প্রদান (যকৃত, মাংস ফিসমিল ইত্যাদি)
ফলিক এসিড
রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। বৃদ্ধি ব্যাহত হয় ও পালক কম গজায়।
০.০১৪ মিগ্রা
ফলিক এসিড সমৃদ্ধ প্রিমিক্স ও সাথে ম্যানগানিজ (সহ) প্রদান করতে হবে। ফলিক এসিড সমৃদ্ধ খাদ্য প্রদান (যকৃত, ঈষ্ট)
ম্যানটোথেনিক এসিড
বৃদ্ধি ব্যাহত হয় ও চর্ম রোগ হয়। পা ও চোখের চারিপাশে নেক্রোসিস হয়। ডিমের উর্বরতা হ্রাস।
০.৩৬ মিগ্রা
প্যানটোথেনিক এসিড সমৃদ্ধ ভিটামিন প্রদান (চীনাবাদাম, আখের গুড়, ঈষ্ট, চাউলের কুড়া, গমের ভূষি ইত্যাদি)
বায়োটিন
পেরোসিস, ডিমের উর্বরতা হ্রাস ও চর্ম প্রদাহ দেখা দেয়।
০.০০২ মিগ্রা
বায়োটিন সমৃদ্ধ ভিটামিন ও খাদ্য প্রদান।
খনিজ পদার্থ (সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়োডিন, ম্যানগানিজ, কপার এন্ড কোবাল্ট, আয়রন
হাড় গঠন ও বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। ডিমের খোসা নরম হয়। রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। পেরোসিস ও প্যারালাইসিস হয়।


-----
পাখিকে নিয়মিত ভিটামিন, খনিজ সমৃদ্ধ প্রিমিক্স ও খাদ্য প্রদান করতে হবে।
এমাইনো এসিড
আমিষ বিভিন্ন প্রকার এমাইনো এসিড সরবরাহ করে যা দেহ গঠনের জন্য অত্যাবশ্যক। যে সব এমাইনো এসিড পাখির দেহে সংশ্লেষণ হয় না তাকে অত্যাবশ্যকীয় এমাইনো এসিড বলে। সুতরাং পাখিকে এমাইনো এসিড সমৃদ্ধ খাদ্য (শুটকি মাছের গুড়া, সরিষা, তিল ও চীনাবাদামের খৈল) সরবরাহ করতে হবে।
অত্যাবশ্যকীয় এমাইনো এসিডের নাম
মথিওনিন
লাইসিন
ভ্যালিন
লউসি
আইসো-লিউসিন
ফিনাইল অ্যালানিন
ট্রিপটোফেন
আরজিন
হিসটিডিন
ফ্রিওনিন

প্রতিদিনের প্রয়োজন
০.০৯ গ্রাম
০.১৮ গ্রাম
০.০৬ গ্রাম
০.০৯ গ্রাম
০.০৫৫ গ্রাম
০.০৯ গ্রাম
০.০২ গ্রাম

আয় ও লাভ
এক জোড়া কবুতর থেকে বছরে প্রায় ১২ জোড়া বাচ্চা বাজারে চড়া দামে বিক্রি হয়। এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির সৌখিন কবুতর উৎপাদন করতে পারলে তা থেকে যথেষ্ট অর্থ উপার্জন করা যায়। কবুতর সাধারণত ৪ সপ্তাহ বয়সে বিক্রির উপযুক্ত হয়। এদের পালক ও বিষ্ঠা বিক্রি করেও অর্থ রোজগার করা যায়।

উপসংহার

কবুতরের সাধারণত মুরগির থেকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। এক জোড়া কবুতরের গড় উৎপাদন ক্ষমতা ৫-১২ বছর অথচ সেখানে মুরগির মাত্রা ১-১২ বছর হয়ে থাকে।
এ সমস্ত দিক বিবেচনা করে এটা সহজেই বলা যায় যে কবুতর পালন একটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা। মুরগির ন্যায় যদি কবুতরকে পারিবারিকভিত্তিতে ব্যাপকভাবে পালন করা যায় তাহলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড অনেক বেশি সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা যায়। অবশ্য এই উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে প্রচারণা চালানোর প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া বিশেষ প্রয়োজন।

লেখক: ডাঃ নাজমিনা আক্তার

সিনিয়র সায়িন্টিফিক অফিসার,এ্যাডভান্স ল্যাবরেটরিজ
তথ্যসূত্র: পোলট্রি, পশুসম্পদ ও মৎস্য বিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘খামার’
এগ্রোবাংলা ডটকম

বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০১৪

বি আর টি সি বাস সার্ভিস

বি আর টি সি বাস সার্ভিস একটি সরকারী পরিবহন ব্যবস্থা। এই বাস সার্ভিসের ধরণগুলো হলো যথাক্রমে সিটি সার্ভিস, স্কুল সার্ভিস, আন্তনগর সার্ভিস, স্টাফ বাস সার্ভিস এবং আন্তর্জাতিক বাস সার্ভিস। বিআরটিসি বাসগুলো সাধারনত দ্বিতল বিশিষ্ট, একতল বিশি­ষ্ট এবং আর্টিকুলেটেড ধরনের হয়ে থাকে। বি আর টি সি বাস সার্ভিস সম্পর্কে জানতে ওয়েব সাইট ব্রাউজ করতে পারে। বি আর টি সি বাস সার্ভিসের ওয়েব সাইটের ঠিকান www.brtc.gov.bd
 
 
বিআরটিসি বাসের সংখ্যা এবং মডেল
ক্রমিক নং
বাসের মডেল
চলাচলকারী বাস
ভারী মেরামত
মোট
০১.
ভলভো ডাবল ডেকার
১০টি
৪০টি
৫০টি
০২.
অশোক লে-ল্যান্ড ডাবল ডেকার
১০৯টি
২০টি
১২৯টি
০৩.
টিসি বাস ১৩১৬/৫৫
২৮৪টি
৩১টি
৩১৫টি
০৪.
মিনি বাস
৮টি
৩টি
১১টি
০৫.
সিএনজি বাস (এফএডব্লিউ চায়না)
২০টি
৪টি
২৪টি
০৬.
চায়না সিএনজি বাস
২৪৩টি
-
২৪৩টি
০৭.
কোরিয়ান সিএনজি বাস
২৫৩টি
-
২৫৩টি
০৮.
বিভিন্ন মডেলের পুরাতন বাস
৪৬টি
৪৫টি
৯১টি
 
বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসের সংখ্যা
ক্রমিক নং
রুট
সংখ্যা
০১.
ঢাকা সিটির মধ্যে
৩৫২ টি
০২.
লেজি কর্তৃক পরিচালিত বাস
১১৫টি
০৩.
রুটে চলাচলকারী ডাবল ডেকার বাস
৩৪টি
০৪.
রুটে চলাচলকারী সিঙ্গেল ডেকার বাস
৪৮৭টি
০৫.
স্টাফ বাস ডবল ডেকার (ঢাকার মধ্যে)
৭১টি
০৬.
স্টাফ বাস সিঙ্গেল ডেকার (ঢাকার মধ্যে)
৫৫টি
০৭.
স্টাফ বাস ডাবল ডেকার (ঢাকার বাইরে)
০৭টি
০৮.
স্টাফ বাস সিঙ্গেল ডেকার (ঢাকার বাইরে)
১২টি
০৯.
প্রশিক্ষণকাজে ব্যবহৃত বাস
১৫টি
১০.
আন্তনগর চলাচলকারী বাস
৩৪৫টি
 
সিটি সার্ভিসএর রুটগুলো
বিআরটিসি বাস সার্ভিসের সিটি রুট মোট ১১টি। নিম্নে রুটগুলো বর্নিত হলো:
০১. আব্দুল্লাহপুর-মতিঝিল ভায়া ফার্মগেট
০২. বালুঘাট-ক্যান্টনমেন্ট-মতিঝিল ভায়া ফার্মগেট
০৩. আব্দুল্লাহপুর-আজিমপুর ভায়া মানিক মিয়া এভিনিউ
০৪. গাজীপুর-গুলশান ভায়া ফার্মগেট
০৫. মিরপুর ১২-মতিঝিল ভায়া ফার্মগেট
০৬. গাবতলী-গুলশান ভায়া ফার্মগেট
০৭. গাবতলী-খিলগাঁও ভায়া গুলশান ১
০৮. রুপনগর- মতিঝিল ভায়া ফার্মগেট
০৯. মোহাম্মদপুর-বাড্ডা ভায়া মহাখালী
১০. নবীনগর-গুলিস্থান ভায়া ফার্মগেট
১১. মোহাম্মদপুর-গুলশান ২ ভায়া ফার্মগেট পুলিশ বক্স।
 
স্কুল সার্ভিস
স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতের জন্য ইতিমধ্যে ১৪ টি সিঙ্গেল ডেকার বাস ঢাকার মিরপুর ১২ থেকে আজিমপুর রুটে চলাচল করছে।
 
আন্তনগর বাস সার্ভিস (ডিপো)
ডিপো
রুট
মতিঝিল বাস ডিপো
ঢাকা-কলমাকান্দা, ঢাকা-মদন, ঢাকা-মোহনগঞ্জ, ঢাকা-মাওয়া, মতিঝিল-নরসিংদী, ঢাকা-ব্রাহ্মনবাড়ীয়া, ঢাকা-চাঁদপুর, ঢাকা-কোম্পানীগঞ্জ।
ডাবল ডেকার বাস ডিপো
কল্যাণপুর-মেহেরপুর-কুষ্টিয়া, মহাখালী-চামড়াঘাট-গাজীপুর-কিশোরগঞ্জ
জোয়ার সাহারা বাস ডিপো
শিববাড়ি-ফুলবাড়িয়া, গুলিস্থান-বান্দুরা, ঢাকা-মাওয়া, শালবন-রংপুর
রংপুর বাস ডিপো
হরিপুর-চাপাই, পঞ্চগড়-চাপাই, পঞ্চগড়-খুলনা, রংপুর-পঞ্চগড়, রংপুর-তেতুলিয়া, পঞ্চগড়-গাইবান্ধা, রংপুর-চিলাহাটি, রংপুর-রানিসংকইল, রংপুর-বুড়িমারি, টোনিরহাট-গাইবান্ধা, চিলমারি-দেবীগঞ্জ, রংপুর-সুন্দরগঞ্জ-গাইবান্ধা, পঞ্চগড়-লক্ষীপাশা, পঞ্চগড়-নেত্রকোনা, সাটিবাড়ি-গাইবান্ধা, রংপুর-সামনাগঞ্জ, রংপুর-বরিশাল, রংপুর-চিলমারি, রংপুর-দহগ্রাম, রংপুর-দায়খাওয়া, রংপুর-ডামোইরহাট, রংপুর-ঢাকা।
কুমিল্লা বসা ডিপো
কুমিল্লা-সুনামগঞ্জ, লক্ষীপুর-সিলেট, কিশোরগঞ্জ-বেনাপোল, কুমিল্লা-পাঞ্চরি, কুমিল্লা-ঢাকা।
পাবনা বাস ডিপো
পাবনা-ডিনাজপুর, পাবনা-পিরোজপুর, পাবনা-চাপাই, খলিলপুর-চাপাই, মংলা-নেত্রকোনা, পঞ্চবটি-পাবনা, নওগাঁ-পাবনা, রাজশাহী-দেবীগঞ্জ, রাজশাহী-আমুয়া, চাপাই-পাথরঘাটা, মুজিবনগর-রাজশাহী, রাজশাহী-পঞ্চবটি, রাজশাহী-নওগাঁ, রাজশাহী-সুন্দরগঞ্জ, রাজবাড়ি-রংপুর, রাজশাহী-সাপাহার, রাজশাহী-বুড়িমারি, দিনাজপুর-গোপালগঞ্জ, পাবনা-রাজশাহী।
নারায়ণগঞ্জ বাস ডিপো
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ-কুলিয়ারচর,
নরসিংদী বাস ডিপো
আখাউড়া-ঢাকা, নরসিংদী-ঢাকা, কুটিচৌমুহনী-ঢাকা
খুলনা বাস ডিপো
খুলনা-কাঠালিয়া, খুলনা-কিশোরগঞ্জ, খুলনা-বরিশাল, খুলনা-পাথরঘাটা, খুলনা-রায়েন্দা, খুলনা-শ্যামনগর, যশোর-বরগুনা, যশোর-কুয়াকাটা, খুলনা-কাকচিড়া।
সিলেট বাস ডিপো
সিলেট-চাদঁপুর, সিলেট-জাফলং।
বরিশাল বাস ডিপো
বরিশাল-রংপুর, বরিশাল-চাপাই, কুয়াকাটা-খুলনা, বরিশাল-মুন্সীগঞ্জ, বরিশাল-বেনাপোল, চরফ্যাশন-যশোর, বরিশাল-আমুয়া, বরিশাল-পাথরঘাটা, বরিশাল-বরগুনা, বরিশাল-ঝালকাঠ-কুয়াকাটা, বরিশাল-খালিশপুর, কুয়াকাটা, কুয়াকাটা-কুষ্টিয়া, বরিশাল-কেওরাকান্দি।
চট্টগ্রাম বাস ডিপো
চট্টগ্রাম-কোম্পানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রাম-চরজব্বার, চট্টগ্রাম-চরফ্যাশন, ট্টগ্রাম-সৈয়দপুর।
বগুড়া বাস ডিপো
পঞ্চগড়-বরিশাল, কুড়িগ্রাম-গোপালগঞ্জ, বগুড়া-খুলনা, বগুড়া-ঝালকাঠি, বগুড়া-রোহনপুর, বগুড়া-জয়পুরহাট, বগুড়া-নওগা, বগুড়া-কানসাট, বগুড়া-সাপাহার, রাজশাহী-বুরুঙ্গামারি, রাজশাহী-সাফারা, দিনাজপুর-রংপুর, দিনাজপুর-চিলমারি, দিনাজপুর-ভুরুঙ্গামারি, বগুড়া-দিনাজপুর, সুন্দরগঞ্জ-চট্টগ্রাম, কুড়িগ্রাম-পিরোজপুর, বগুড়া-তেতুলিয়া, নিটপুর-রাজশাহী, রোহনপুর-ভোলারহাট, বগুড়া-মৌবাজার, বগুড়া-বস্তাবর, রাজশাহী-গাইবান্ধা, বগুড়া-ঢাকা, বগুড়া-জয়পুরহাট।
 
গুলিস্তান টার্মিনাল থেকে আন্ত:জেলা বাস সার্ভিস এবং ভাড়ার হার
রুট
ভাড়া
ষ্ট্যান্ড
সিট সংখ্যা
দাঁড়ানো যাত্রী
সময়
ঢাকা- পাটুরিয়া
১২০ টাকা
মানিকগঞ্জ
৪০
না
প্রতি ঘন্টা
ঢাকা-মানিকগঞ্জ
৭০ টাকা
মানিকগঞ্জ
৪০
না
প্রতি ঘন্টা
ঢাকা-ভৈরব
১৬০ টাকা
----
৪০
না
১০ মিনিট অন্তর
ঢাকা-পিরোজপুর
২২০ টাকা
----
৪০
না
সকাল ৭.১৫ মিনিট
সকাল ৭.৪৫ মিনিট
ঢাকা-মাওয়া
৬০ টাকা
শ্রীনগর
৪০
না
 
প্রতি ১০ মিনিট অন্তর
 
অগ্রিম টিকেটের নিয়মাবলী
ক) মাসিক টিকেটের জন্য (বিআরটিসি) গুলিস্তান অফিস থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে তা জমা দিয়ে ৭ দিনের মধ্যে টিকেট পাওয়া যাবে। আবেদন পত্র ফি ৫০ টাকা।
খ) ছাত্র কার্ড- আবেদন পত্রের মূল্য ২০ টাকা। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার ৩ দিনের মধ্যে কার্ড পাওয়া যায়। এই কার্ডের মূল্যায়ন ৫০% ছাড়ে কার্যকর হবে।
 
স্টাফ বাস সার্ভিস
ক্রমিক নং
ডিপোর নাম
স্টাফ বাস
মোট
সিঙ্গেল ডেকোর
ডাবল ডেকোর
০১.
ডাবল ডেকোর বাস ডিপো
৯টি
১২টি
২১টি
০২.
কল্যাণপুর বাস ডিপো
২৬টি
৫২টি
৭৮টি
০৩.
জোয়ারসাহারা বাস ডিপো
১৮টি
২টি
২০টি
০৪.
মতিঝিল বাস ডিপো
২টি
৫টি
৭টি
এছাড়া ঢাকার বাইরেও বিআরটিসি এর বাস সার্ভিস রয়েছে। যেমন:
  • চট্টগ্রাম বাস ডিপো-ডাবল ডেকার বাস ৩টি।
  • খুলনা বাস ডিপো-ডাবল ডেকার বাস ১টি।
  • পাবনা বাস ডিপো-ডাবল ডেকার বাস ৩টি।
  • সিলেট বাস ডিপো-সিঙ্গেল ডেকার বাস ১২টি।
 
ষ্টাফ বাসের রুট ও অন্যান্য
ক্রঃ নং
জোয়ারসাহারা বাস ডিপো
সংখ্যা
মতিঝিল বাস ডিপো
সংখ্যা
কল্যাণপুর বাস ডিপো
সংখ্যা
দ্বিতল বাস ডিপো
সংখ্যা
সর্বমোট
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
১০
অগ্রণী ব্যাংক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৩১
জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়
----
উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২০৬
ব্র্যাক
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
১০
বিসিআইসি
----
সোনালী ব্যাংক
  মহিলা সার্ভিস
সচিবালয়
১০
অগ্রণী ব্যাংক
----
----
----
জয়দেবপুর ষ্টাফ বাস
সুপ্রীম কোট
সুপ্রীম কোট
----
----
----
----
----
শিক্ষা বোর্ড
ইডেন কলেজ
----
----
----
----
----
বিআরডিবি
বিএডিসি
----
----
----
----
----
তিতুমীর কলেজ
----
----
----
  মোট বাস সংখ্যা =
১৮
----
----
৬৬
----
২২
১১৫
 
আন্তর্জাতিক বাস সার্ভিস
বিআরটিসি এর এক্ষেত্রে দুই ধরনের বাস সার্ভিস রয়েছে। যেমন; (ক) ঢাকা-কোলকাতা আন্তর্জাতিক সার্ভিস এবং (খ) ঢাকা-আগরতলা বাস সার্ভিস।
 
ঢাকা কোলকাতা আন্তর্জাতিক বাস সার্ভিস
  • দুটি বাস ঢাকা-কোলকাতা রুটে চলাচল করে। প্রতিটি বাসে ৪০ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারে। বাসদুটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং আন্তর্জাতিক মানের সুপার ডিলাক্স বাস।
  • যাত্রী প্রতি ভাড়া ৩০০০ টাকা (মা:ড: ২২) উভয়দিক।
  • সপ্তাহের রবিবার দিন বাসদুটির ঢাকা-কোলকাতা রুটে চলাচল করে না।
  • ঢাকা থেকে কোলকাতার উদ্দেশ্যে প্রথম বাসটি ছেড়ে যায় বাংলাদেশ সময় সকাল ৭.০০ টায় এবং দ্বিতীয় বাসটি ছাড়ে সকাল ৭.৩০ টায়।
  • কোলকাতা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে প্রথম বাসটি ছেড়ে যায় ইন্ডিয়া সময় সকাল ৬.৩০ টায় এবং দ্বিতীয় বাসটি ছেড়ে যায় সকাল ৭টায়।
  • বাংলাদেশে বাসগুলো পরিচালিত হয় সোমবার, বুধবার এবং শুক্রবার।
  • ইন্ডিয়ায় বাসগুলো পরিচালিত হয় শনিবার, মঙ্গলবার এবং বৃহস্পতিবার।
  • প্রতিটি যাত্রী নিজের সংগে ২০ কেজি ওজনের মালামাল বহন করতে পারবেন।
 
ঢাকা আগরতলা আন্তর্জাতিক বাস সার্ভিস
  • একটি বাস ঢাকা-আগরতলা রুটে চলাচল করে। বাসে ৪০ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারে। বাসদুটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং আন্তর্জাতিক মানের সুপার ডিলাক্স বাস।
  • যাত্রী প্রতি ভাড়া ৬০০ টাকা (মা:ড: ১০) উভয়দিক।
  • এই সার্ভেসের বাসে পরিবহনের সময়সূচী জানতে ৮৩৬০২৪১ নম্বরে ডায়াল করুন।
 
বুকিং এবং টিকেট ক্রয়
  • অনলাইনে ঢাকার ভিতরে টিকেট কাটার ব্যবস্থা রয়েছে।
  • টিকিট বুকিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ফোন নং ৯৩৫৩৮৮২।
  • টিকিট ক্রয়ে পাসপোর্ট দেখাতে হয়না।
  • টিকিট ক্রয়ের ৩৬ ঘন্টার মধ্যে ফেরত দিতে হয়। টিকিট ফেরত দেয়ার সময় মোট মূল্যের ১০% কেটে রেখে অবশিষ্ট টাকা ফেরত দেয়া হয়।
  • টিকিট লাইন ধরে ক্রয় করতে হয়।
  • রিটার্ন টিকিট ক্রয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।
 
-টিকেটিং সিস্টেম
বিআরটিসিতে ই-টিকেটিং সিস্টেম চালু করেছে। ঢাকা মহানগরীর ০৩টি ডিপোর নিয়ন্ত্রণে ০৭টি রুটে ই-টিকেটিং সিষ্টেম পরিচালিত হচ্ছে।
  • কল্যাণপুর বাস ডিপো নিয়ন্ত্রণে মোহাম্মদপুর-বাড্ডা ও গুলিস্তান-নবীনগর রুট।
  • দ্বিতল বাস ডিপো নিয়ন্ত্রণে মিরপুর১২-মতিঝিল
  • জোয়ার সাহারা বাস ডিপোর নিয়ন্ত্রণে বালুঘাট-ক্যান্টনমেন্ট ও শিববাড়ী-গুলিস্তান রুট পরিচালিত হচ্ছে।
 
যাত্রী সার্ভিস
  • সকালের নাস্তা, খাবার পানি এবং শীতের দিনে কম্বলের ব্যবস্থা রয়েছে।
  • সিডি ক্যাসেট প্লেয়ার এবং এলসিডি মনিটর রয়েছে।
  • ওয়েটিং রুমে ৬০ জন লোক বসতে পারে।
  • বিনোদনের জন্য টেলিভিশন দেখার ব্যবস্থা রয়েছে।
  • পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য পৃথক টয়লেট ব্যবস্থা রয়েছে।
  • বাসের ভিতর ধুমপান করা যায় না।
  • ট্রাভেল ট্যাক্স, ইমিগ্রেশন বা বোর্ডারে কুলি ইত্যাদির জন্য বিআরটিসি কোন সার্ভিস প্রদান করে না।
 
যাত্রী কোথায় নামানো হয় / কাউন্টার
  • কলকাতাগামী বাস ভারতে করুনাময় এবং সল্ট লেকে যাত্রী নামানো হয়।
  • আগরতলাগামী বাস বিআরটিসি বাস ডিপোতে যাত্রী নামানো হয়।
  • ভারতে করুনাময়, সল্টলেক, আগরতলা বিআরটিসি ডিপোতে কাউন্টার রয়েছে।
 
যেভাবে নিয়ে যাওয়া হয়
  • সীমান্তে কলকাতা যাওয়ার সময় বাংলাদেশের বেনাপোল এবং ভারতের হরিদাসপুরে এবং আগরতলা যাওয়ার সময় বাংলাদেশের আখাউড়া এবং ভারতের ত্রিপুরায় কাস্টম চেকআপ করানো হয় এবং সেখানে ১ ঘন্টা করে দুটি স্থানে ২ ঘন্টা সময় লাগে।
  • সীমান্তে বাস বদল করা হয় না।
  • বেনাপোল ও আখাউড়া বন্দর দিয়ে বাসে ভারতে যাওয়ার সার্ভিস চালু রয়েছে।
  • শহরের ভেতরে কাউন্টার থেকে যাত্রী সংগ্রহ করা হয়।
  • মিনিবাস, মাইক্রোবাসের ব্যবস্থা নেই।
  • যাত্রা শুরুর পূর্বে ভিডিও চিত্র নেয়া হয় না।
  • গাড়ির সকল যাত্রী ভিসা করা হয় না এবং দূর্ঘটনা ঘটলে ক্ষতিপূরণ দেয়া হয় না।
 
মালপত্র পরিবহন
  • প্রতিটি যাত্রী নিজের সাথে ২০ কেজি ওজনের মালামাল বহন করতে পারবে।
  • অতিরিক্ত ওজনের কোন মালামাল বহন করা হয় না।
  • যাত্রাকালে কোন লাগেজ বা ব্যাগ হারালে কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।
  • লাগেজ পরীক্ষা করা হয়।
 
যাত্রা বিরতি
  • প্রতিটি যাত্রী নিজের সাথে ২০ কেজি ওজনের মালামাল বহন করতে পারবে।
  • অতিরিক্ত ওজনের কোন মালামাল বহন করা হয় না।
  • যাত্রাকালে কোন লাগেজ বা ব্যাগ হারালে কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।
  • লাগেজ পরীক্ষা করা হয়।
 
অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য
  • কোন যাত্রী অসুস্থ হলে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
  • শিশু/মহিলা/প্রতিবন্ধীদের জন্য পৃথক কোন সিট বরাদ্দ থাকে না।
  • গাড়ির অভ্যন্তরে এয়ার ফ্রেশনার  ব্যবহার করা হয়।
  • যাত্রাকালে নামাজের বিরতি দেয়া হয়।

শুক্রবার, ৪ জুলাই, ২০১৪

কিভাবে পাবেন ভারতের ভিসা?

আমাদের সুবিশাল প্রতিবেশী দেশ ভারতে বিভিন্ন কারণেই আপনাকে যেতে হতে পারে। চিকিৎসা, ব্যবসা, পড়াশোনা, চাকুরী ইত্যাদি অতীব প্রয়োজনীয় কারণের পাশাপাশি পর্যটনও একটা বড় কারণ, যে জন্যে আজকাল অনেক বাংলাদেশীর কাছেই ভারতগমন বা ভারতভ্রমণ একটি সাধারন বিষয়। কিন্তু এই অতি সাধারণ বিষয়ের মাঝে মূলত জানার অভাবের কারণে অনেকের কাছেই ভারতের ভিসা পাওয়া একটি ‘অ-সাধারন’ এবং জটিল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপরন্তু নানা জনের নানা মতামত, দালাল শ্রেণীর অত্যাচার অথবা শুধুমাত্র নিজের অজ্ঞতাও অনেক সময় ভারতের ভিসা পাওয়ার বিষয়টিকে চরম বিভ্রান্তিকর করে তোলে, আর সাধারণ মানুষ হয় বিড়ম্বনার শিকার। তাই আসুন জেনে নেয়া যাক কীভাবে অতি সহজ উপায়ে আপনি নিজেই পারেন নিজের জন্য ভারতীয় ভিসা যোগাড় করতে।
ভিসার ধরণঃ
ভারতীয় দূতাবাস আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী যেসকল ধরণের ভিসা দেয় সেগুলো হলঃ
  • বিজনেস ভিসা
  • কনফারেন্স ভিসা
  • কূটনৈতিক ভিসা
  • চাকুরী ভিসা
  • এন্ট্রি ভিসা
  • চিকিৎসা ভিসা
  • জরুরী ভিসা
  • সাংবাদিক ভিসা
  • মিশনারিস ভিসা
  • ২ মাসের মধ্যে পুনরায় প্রবেশের অনুমতিজনিত ভিসা
  • স্টুডেন্ট ভিসা
  • গবেষণা ভিসা
  • পর্যটক ভিসা
  • ট্রাঞ্জিট ভিসা।
ভিসার ধরণ অনুযায়ী আপনাকে বিভিন্ন ধরণের প্রয়োজনীয় কাগজ দেখাতে হতে পারে। ভিসার মেয়াদও নির্ভর করে ভিসার ধরনের উপর। এর মধ্যে ট্রাঞ্জিট ভিসা হচ্ছে ভারতের মাটি দিয়ে অন্য কোন দেশে যেতে যে ভিসার লাগে। উদাহরণস্বরূপ, বাসে চড়ে বিকেলে নেপালে জলযোগ করতে চাইলে সকালে ভারতের মাটিতেই প্রাতঃরাশ সারতে হবে।
ভিসা প্রক্রিয়াঃ
প্রথম ধাপঃ অনলাইনে ভিসার এপ্লিকেশন
প্রথমেই অনলাইনে আপনাকে ভিসা এপ্লিকেশন ফর্ম পূরণ করতে হবে।   indianvisaonline.gov.in/visa ওয়েব ঠিকানায় গিয়ে বামপাশে অনলাইন ভিসা এপ্লিকেশন অপশনে ক্লিক করলেই সেখানে পেয়ে যাবেন অনলাইন এপ্লিকেশন লিঙ্ক। অনলাইন এপ্লিকেশন ফর্মে আপনার কিছু সাধারণ তথ্য যেমনঃ জন্মতারিখ,  আপনার পাসপোর্টের তথ্য, পেশা, কোন ধরনের ভিসা চাচ্ছেন, কেন চাচ্ছেন, ভারতে আগে গিয়েছিলেন কিনা ইত্যাদি জানতে চাওয়া হবে। এই ধাপে মনে রাখতে হবেঃ
Screenshot of the First Page of the Indian Visa Form
Screenshot of the First Page of the Indian Visa Form
  • চট্রগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগের মানুষজন তাদের নিজ নিজ বিভাগের ভারতীয় মিশনে ভিসার জন্য আবেদন করবেন এবং অন্যান্য সকল বিভাগের মানুষজন ঢাকাস্থ ভারতীয় মিশনে আবেদন করবে। সোজা কথা, পটুয়াখালীর একজন ভারত যেতে চাইলে আবেদন করতে হবে ঢাকার ভারতীয় মিশনে, নোয়াখালীর মানুষকে আবেদন করতে হবে চট্রগ্রামের ভারতীয় মিশনে।
  • টেম্পোরারি এপ্লিকেশন আইডি এবং ওয়েব রেজিস্ট্রেশন নাম্বার নামের দুটো নাম্বার দেয়া হবে। এপ্লিকেশন ফর্ম পূরণের সময় সেগুলো অবশ্যই সেভ করে রাখতে হবে, এগুলো অনেক ক্ষেত্রেই দরকার হবে।
  • ভুল তথ্য দেয়া হলে ভিসা নাও পেতে পারেন, যদিও “মানুষ মাত্রই ভুল-man is mortal”, তাও নির্ভুল থাকার চেষ্টা করুন।
  • তবে ভুল তথ্য একবার দেয়া হয়ে গেলে ঐ এপ্লিকেশন ফর্ম বাতিল ধরে পুণরায় এপ্লিকেশন ফর্ম পূরন করতে হবে।
  • ফর্মে জানতে চাওয়া হবে আপনি কিভাবে ভারতে যেতে চান, আকাশপথে গেলে এক হিসাব আর স্থলপথে গেলে অন্য হিসাব। স্থলপথে যেতে চাইলে জানতে চাওয়া হবে কোন স্থলবন্দর দিয়ে ভারত প্রবেশ এবং ভারত থেকে আবার বাংলাদেশে ফেরত আসতে চান। মনে রাখতে হবে যে বন্দর দিয়ে আপনি ভারত প্রবেশ করলেন ঠিক একই বন্দর দিয়ে আপনাকে দেশে ফিরতে হবে।
  •  ফর্ম পূরণের সময়ই তারা আপনার কাছে জানতে চাইবে আপনি কবে ইন্ডিয়ান ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টারে এসে ভিসার জন্য দেখা করতে পারবেন। তাদের প্রস্তাবিত তারিখগুলো সাধারণত ফর্ম পূরণের ৭ থেকে ১০ দিনের মত সময়ের মধ্যে হয়। চেষ্টা করুন আপনার সুবিধামত যত আগে সম্ভব সেই তারিখটি বাছাই করতে, কারণ একবার চেষ্টা করে ভিসা না পেলে আবার আপনাকে পুরো প্রক্রিয়া প্রথম থেকে শুরু করতে হবে, যাতে আপনার ভিসা প্রাপ্তি অন্তত পক্ষে ১০-২০ দিন পিছিয়ে যেতে পারে।
  • কেউ যদি দেখা করার সম্ভাব্য তারিখ না পান তবে এপ্লিকেশন ফর্মে আবার গিয়ে  ডান কোণে রি-প্রিণ্ট অপশনে গিয়ে জন্ম তারিখ এবং ওয়েব রেজিস্ট্রেশন নাম্বার দিয়ে পুনরায় চেক করে নিন।
  • এপ্লিকেশন ফর্ম পূরণ করা শেষে পূরণকৃত ফর্মটি প্রিন্ট করুন, প্রিন্ট করতে না পারলে রি-প্রিন্ট অপশনে গিয়ে প্রিন্ট করুন।

দ্বিতীয় ধাপঃ ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টার ভ্রমণ
এবার এপ্লিকেশন ফর্মে উল্ল্যেখিত তারিখে ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টার দর্শন। আপনাকে নির্দিষ্ট ভারতীয় ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টারে ঢুঁ মেরে আসতে হবে। তবে শুধু মুখ প্রদর্শন করে আসলেই চলবে না, পাশাপাশি কিছু প্রয়োজনীয় কাগজ প্রদর্শন এবং প্রদান, উভয়ই করতে হবে। ভারতীয় ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টারের (Indian Visa Application centre, IVAC) বাইরে ভিড় দেখে দমে যাবেন না, কারণ আপনার কাজ জলবৎ তরলং ঃ
Screenshot of www.ivacbd.com
Screenshot of www.ivacbd.com
  • রাজশাহী, সিলেট এবং চট্রগ্রাম বিভাগের মানুষজন তাদের নিজ নিজ বিভাগীয় শহরে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টারে (IVAC Rajshahi, IVAC Sylhet অথবা IVAC Chittagong) যাবেন। বাদবাকি সকল বিভাগের মানুষজনকে ঢাকাস্থ গুলশান বা মতিঝিলের ভারতীয় ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টারে (IVAC Gulshan অথবা IVAC Motijheel) উপস্থিত হতে হবে। www.ivacbd.com ওয়েবসাইটে পেয়ে যাবেন সবগুলো IVAC এর পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা।
  • IVAC এর ত্রিসীমানার আশেপাশে গিয়ে সর্ব প্রথম কাজ, দালালদের এড়িয়ে চলুন। বাপের বেটা হয়ে নিজের এই এতটুকুন কাজ নিজেই করুন।
  • পূরণকৃত এপ্লিকেশন ফর্মটি এদিন জমা দিতে হবে। আপনার এক কপি ছবি লাগবে যা আপনি ফর্মটির সাথে আঠা দিয়ে এঁটে দিবেন। উল্লেখ্য, পাসপোর্ট বা অন্য কোন আকারের ছবি চলবে না। ছবিটির আকার একটু ভিন্ন; তা অবশ্যই ২” × ২” হতে হবে।
  • ফর্মের সাথে আরো লাগবেঃ আপনার পাসপোর্টের ফটোকপি এবং পাসপোর্ট, মানি এন্ডোর্সমেন্ট এর কাগজ, আপনার স্থায়ী নিবাসের কাগজপত্র, বাসার Utility Bill এর কাগজ (এটা হতে পারে আপনার বাসার টেলিফোন বিল, ইলেকট্রিসিটি বিল, গ্যাস বিল অথবা পানির বিল, যেকোনটা), আপনি যেই পেশায় আছেন তার প্রমাণ ( যেমনঃ আপনি শিক্ষার্থী হলে আপনার Student ID card এর ফটোকপি ), আপনার ভোটার আইডি বা জন্ম সনদের ফটোকপি। এছাড়া ভিসার ধরণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমনঃ কনফারেন্স ভিসার জন্য কনফারেন্সে যোগদানের আমন্ত্রণ পত্র বা স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে ভারতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি সংক্রান্ত কাগজপত্র ইত্যাদি প্রয়োজন।
  • ভিসা প্রসেসিং ফি বাবদ ৪০০ টাকা দিতে হবে।
  • তারা আপনাকে একটি স্টিকার দিবে এবং পুনরায় দেখা করার তারিখ জানিয়ে দিবে, যেদিন আপনি এসে আপনার পাসপোর্ট ফেরত নিতে যাবেন।
এটা দীর্ঘদিনের অভিযোগ যে ভারতীয় ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টারগুলোতে অত্যাধিক চাপ ও অন্যান্য কারণে বাংলাদেশীরা আশানুরূপ সেবা পায় না। কাজেই সেখানে গিয়ে তাদের সাহায্যের আশা না করে যাওয়ার আগেই গুছিয়ে ফেলুন সকল কাগজপত্র।  এক্ষেত্রে আরেকটি উল্ল্যেখ্য বিষয় হল, IVAC  কাগজপত্র জমা রাখা সহ আরো অনেক কাজ করলেও ভিসা দেয়ার মূল ব্যাপারটি ভারতীয় দূতাবাসের হাতে।
তৃতীয় ধাপঃ অপেক্ষা এবং ফলাফল
পাসপোর্ট IVAC এ জমা দানের পর তাদের জানানো পাসপোর্ট ফেরত নেয়ার তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে আপনার ভিসা পাওয়ার কতদূর কি হল তা আপনি ঘরে বসেই জানতে পারবেন www.ivacbd.com এ গিয়ে বামপাশে Track Your Visa Application এ ক্লিক করে। তাদের প্রদত্ত স্টিকার নাম্বার আর ওয়েব রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ব্যবহার করে আপনার ভিসার কাজের অগ্রগতি জেনে নিন। Processing দেখালে বুঝবেন কাজ চলছে, Not processed দেখালে বুঝবেন তারা আপনার ভিসার কাজ শুরু করেনি, Processed দেখলে বুঝবেন আপনার ভিসা নিয়ে তারা কাজ শেষ করেছে। আপানাকে পাসপোর্ট উঠিয়ে আনার একটি তারিখ দেয়া হলেও ভিসা এপ্লিকেশন Track করে যতদিন না দেখবেন Processed লেখা হয়েছে, ততদিন IVAC এ পুনরায় যাওয়া বোকামি। গেলে তারা আপনাকে একটি কথাই বলবেঃ “পরে আসেন, এখনো আপনার ভিসার কাজ শেষ হয়নি।” তবে খেয়াল রাখতে হবে, ৩ মাস এর মধ্যে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে। নতুবা পাসপোর্টের দায়ভার IVAC  নিবে না। সবশেষে Processed লেখা দেখে আপনি IVAC এ গিয়ে আপনার পাসপোর্ট ফিরিয়ে আনবেন, পাসপোর্টের পাতা উল্টিয়ে দেখবেন কাঙ্খিত ভারতের ভিসা পাসপোর্টে লেগেছে কিনা।
Indian Visa, Photo Courtesy: www.embassy-dhaka.yogsutra.net
Indian Visa, Photo Courtesy: www.embassy-dhaka.yogsutra.net
না লাগলে কপাল খারাপ, শুরু থেকে আবার শুরু করুন।
আর ভিসা একবার লেগে গেলে বাড়ি গিয়ে লাগেজ গোছান। ভারতের কাঁটাতার আর কোন বাঁধাই না।
August 31, 2013 in Visa Processing