শুক্রবার, ২৮ মার্চ, ২০১৪

মানুষের দাঁত কিভাবে দীর্ঘস্হায়ী করা যায়

কথায় আছে দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বোঝে না। অর্থাত্ দাঁতের তীব্র যন্ত্রণা না হওয়া পর্যন্ত   আমরা দাঁতের সঠিক গুরুত্বও উপলব্ধি করতে পারি না। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা দাঁতকে যে নিয়মিত পরিষ্কার ও পরিচর্যা করতে হয় সেটা বুঝতে চান না। তাহলে দৈনন্দিন জীবনে কি কি নিয়মিত অভ্যাস আর পরিচর্যার মাধ্যমে দাঁতকে সুস্থ, সুন্দর ও দীর্ঘস্থায়ী করা যায়, আসুন তাহলে আমরা জেনে নেই ডাক্তাদের দেয়া কয়েকটি পরামর্শ।

এক. অনেকে জানেন, উচ্চ কলেস্টেরল মোটা হওয়া মূল কারণ। কিন্তু বেশি কলেস্টেরল খেলে একধরনের দাঁতের রোগ যাকে পেরিওডন্টাল বলে তা দ্বারা সহজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে।


দুই. স্বাস্থ্যকর দাঁত থাকলেও বছরে অন্তত দুবার দন্তচিকিৎকের কাছে যাওয়া উচিত।


তিন. দাঁতের স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট করে দাঁত ব্রাশ করা উচিত। কিন্তু বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মাত্র ২-৩ মিনিট এবং শিশুদের ক্ষেত্রে আরও কম সময় ব্যয় করতে দেখা যায়।


চার. ইলেক্ট্রিক টুথব্রাশ দাঁত পরিষ্কারে সাধারণ টুথব্রাশের তুলনায় অধিক কার্যকর। এই টুথব্রাশ সহজেই দাঁতের মাড়ির নিচে ও ফাঁকে প্রবেশ করে পরিষ্কার করতে পারে।


পাঁচ. চটকদার বিজ্ঞাপনে এমন অনেক টুথপেস্ট পাওয়া যা দাঁতের ঔজ্জ্বল্য বাড়ানো, দাঁতের রোগ প্রতিরোধ এবং দাগ নির্মূলে কার্যকর হয় না। তাই কেনার সময় অবশ্যই দাঁতের রোগ প্রতিরোধে সহায়ক এমন টুথপেস্ট কেনার প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত।


ছয়: মুখের দুর্গন্ধ এবং জীবাণু প্রতিরোধে মাউথওয়াশের ব্যবহার হয়ে থাকে। তবে মনে রাখা উচিত মাউথওয়াশের কার্যকারিতা মাত্র ৩০ মিনিট এবং এরপর মুখে আগের মতো দুর্গন্ধ ও জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হবে।

সাত. দন্তচিকিৎসক স্পার্কলিং ওয়াটারকে বুদ বুদ ওঠা খাবার পানিকে তরল করাত হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। কারণ এই পানিতে থাকা চিনি এবং অম্ল দাঁত ক্ষয়ের দ্রুত কার্যকর হয়।

আট. প্রতিটি দাঁতের চারপাশে জীবাণু মিশ্রিত লালা থাকে। সেজন্য সকলের উচিত বেশি বেশি করে দাঁত পরিষ্কার রাখা।


নয়. গত কয়েক দশক ধরে দন্তচিকিৎসকরা বাবা মা'র সঙ্গে শিশুকে দুধ খাওয়ানো ফিডারে নিপলের ব্যবহার ও দাঁতে ক্ষয়রোগ বিষয়ে আলোচনা করে আসছেন। চিকিৎসকরা প্রায়ই ফিডারে দুধ খেতে খেতে বাচ্চাদের ঘুমাতে না দেওয়া জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু এ পরামর্শ খুব বেশি একটা কার্যকর হয়নি।

দশ. দাঁত পরিষ্কারের সময় যদি রক্ত বের হয়, তাহলে আপনি হয়তো তখনই ডাক্তারের কাছে যাবেন। কিন্তু দাঁত ব্রাশের সময় রক্ত বের হলে অনেকে খেয়াল করেন না। আসলে মাড়ি থেকে রক্ত বের হওয়ার মানে আপনার দাঁত রোগে আক্রান্ত হয়েছে।


এগার. অনেকেই আছেন যাদের ভিতরের দাঁত খুব খারাপ, কিন্তু সামনের দাঁত সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর।এর কারণ সামনের দাঁত সহজে লোকে দেখতে পায়। তাই ভিতরের দাঁত পরিষ্কারে বেষি নজর দেয়া হয় না।


বারো. দাঁতের ডাক্তাররা সব সময়ে রোগীদের প্রতিবার দাঁত পরিষ্কার শেষে বিশেষ সূতা- ফ্লোজ ব্যবহার করে দাঁতের ক্ষয়রোধ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

তেরো. সাধারণত একজন মানুষ অপর একজনের মুখমণ্ডলের মধ্যে প্রথমে তাকায় চোখ, তারপর দাঁত এবং এরপর চুলের দিকে খেয়াল করে। কিন্তু চুলের পরিচর্যায় যে সময় ব্যয় করা হয় তা দাঁতের তুলনা অনেক অনেক বেশি। তাই এখন থেকে দাঁতে পরিচর্যার ক্ষেত্রেও যথাযথ নজর দেয়া প্রয়োজন। সূত্র: ওয়েবসাইট।


নতুন বার্তা/এসএফ

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন