রবিবার, ১৬ মার্চ, ২০১৪

আয়কর পরিশোধ পদ্ধতি

যাদের জন্য আয়কর প্রদান বাধ্যতামূলক
একজন ব্যক্তি করদাতা ,যার বার্ষিক আয় এক লাখ ৬৫ হাজার টাকারও বেশি, তাঁকে অবশ্যই তাঁর সকল খাতের আয় প্রদর্শন করে আয়কর বিবরণী দাখিল করতে হবে। তবে মহিলা করদাতা, প্রতিবন্ধী এবং ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সের করদাতার আয় যদি বছরে এক লাখ ৮০ হাজার টাকার বেশি হয় তাহলে তাকে ববরণী দিতে হবে। আরো কিছু লোককে বিবরণী দিতে হবে তাদের আয়ে পরিমান যাই হোক না কেন। যেমন-

১. সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, বিভাগীয় বা জেলা সদরে অবস্থানকারী কোনো ব্যক্তির যদি -
ক. একতলার অধিক বাড়ি থাকে এবং প্রতিতলার আয়তন একহাজার ৬০০ বর্গফুটের অধিক হয় ;
খ. যদি একটি মোটরগাড়ি থাকে;
গ. যদি একটি টেলিফোন থাকে;
ঘ. যদি মূল্য সংযোজন কর আইনে রেজিস্ট্রিকৃত একটি ক্লাবের সদস্যপদ থাকে।

২. ট্রেড লাইসেন্স এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে এমন ব্যবসায়ী।
৩. চিকিত্সক (দন্ত চিকিত্‍সকসহ), প্রকৌশলী, আইনজীবী, চাটার্ড এ্যাকাউটেন্ট, কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট এ্যাকাউটেন্ট  কিংবা অনুরুপ কোন পেশাজীবী সয়স্থার সদস্য।
৪. চেম্বার অব কমার্স আ্যন্ড ইন্ডস্ট্রিজ বা ট্রেড এ্যাসোসিয়েশনের সদস্য।
৫. ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন বা জাতীয় সংসদের কোন পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী।
৬. সরকারী, আধাসরকারী বা স্বায়ত্বমাসিত সংস্থা বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আহবানকৃত টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী।
৭. যদি কোন ব্যাক্তি টিআইএনধারী হন।
৮. বিবেচ্য আয় বছরের পূর্ববর্তী তিন বছরের কোন একটিতে যার আয় করযোগ্য হয়েছিল। যাদের জন্য মোট আয়ের পরিমাণ নির্বিশেষে রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক।

৯. যিনি করদাতা হওয়ার ইচ্ছা পোষন করেন।

১। ২০০৮-২০০৯ কর বছরের জন্য প্রযোজ্য কর হার :

চলতি ২০০৮-২০০৯ কর বছরের জন্য ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা। এর বাইরে করদাতা যদি মহিলা, প্রতিবন্ধী এবং ৭০ বছরের বেশি হন তবে তাদের জন্য আয়করমুক্ত আয়ের সীমা আর ও ১৫ হাজার টাকা বেশি, অর্থাত্‍ এক লাখ ৮০ হাজার টাকা।

করের স্তর ও হার : প্রথম এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা পর্যন্ত মোটআয়েরউপর করহার শূণ্য, পরবর্তী দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী তিন লাখ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ১৫ শতাংশ, এরপর তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ২০ শতাংশএবং অবশিষ্ট মোটআয়ের উপর ২৫ শতাংশ।

ধরা যাক, কোনো করদাতার আয় ১২ লাখ টাকা। তার জন্য আয়করের পরিমান হবেএ রকম-
 যাদের আয় এক লাখ ৬৫ হাজার টাকার বেশি
 মোট আয়     হার     কর (কর টাকা)
 ক. প্রথম ১,৬৫,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর     শূণ্য     শূণ্য
 খ. পরবর্তী ২,৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর     ১০%     ২৭,৫০০
 গ. পরবর্তী ৩,২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর     ১৫%     ৪৮,৭৫০
 ঘ. পরবর্তী ৩,৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর     ২০%     ৭৫,০০০
 ঙ. অবশিষ্ট ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর
    ২৫%     ১৫,০০০
 ১২ লাখ টাকার উপর মোট আয়করের পরিমান
         ১,৬৬,২৫০

  মহিলা, প্রতিবন্ধী ও ৭০ বছরের বেশি বয়সী-
 মোট আয়     হার     কর (কর টাকা)
 ক. প্রথম ১,৮০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর     শূণ্য     শূণ্য
 খ. পরবর্তী ২,৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর     ১০%     ২৭,৫০০
 গ. পরবর্তী ৩,২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর     ১৫%     ৪৮,৭৫০
 ঘ. পরবর্তী ৩,৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর     ২০%     ৭৫,০০০
 ঙ. অবশিষ্ট ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর     ২৫%     ১১,২৫০
 ১২,০০,০০০ টাকার উপর মোট আয়করের পরিমান
         ১৬১,৫০০

যেসব আয়ে আয়কর দিতে হয় না

বিবরনী দিতে হলেও সব আয়ই করারোপ যোগ্য নয়। অনেকগুলো খাত বা আয় আছে যা আয়করমুক্ত। ফলেএসব খাত থেকে আয় হলেও আয়কর দিতে হয় না।

যেমন-

১. চাকরি করার সময় কোনো বিশেষভাতা, সুবিধা বা আনুতোষিক পেলে।

২. পেনশন।

৩. সরকারি সিকিউরিটিজ থেক প্রাপ্ত সুদ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত।

৪. ডিবঞ্চার থেকে প্রাপ্ত সুদ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে সরকারি সিকিউরিটিজ ও ডিবেঞ্চার উভয়খাত থেক প্রাপ্ত সুদ থাকলে সবমিলিয়ে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত করমুক্ত।

৫. অংশিদারি ফার্ম থেকে মূলধনী মুনাপার অংশ।

৬. গ্র্যাচুইটি।

৭. প্রভিডেন্ট ফান্ড (আ্যাক্ট ১৯২৫ অনুযায়ী) থেকে পাওয়া অর্থ।

৮. স্বীকৃত প্রফিডেন্ট ফান্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থ।

৯. স্বীকৃত সুপার আ্যানুয়েশন ফান্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থ।

১০. কোম্পানিজ প্রফিট (ওয়ার্কার্স পার্টিসিপেশন) আ্যাক্ট ১৯৬৮ এর আওতায় ওয়ার্কার্স পার্টিসিপেশন ফান্ড থেকে পাওয়া অর্থ।

১১. মিউচুয়াল ফান্ড অথবা ইউনিট ফান্ড থেকে পাওয়া লভ্যাংশ ২৫ হাজার টাকা পর্র্যন্ত ।

১২. সরকারি নিরাপত্তা জামানতের সুদ যা সরকার করমুক্ত বলে ঘোয়না করেছে।

১৩. রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার পাহাড়ি অধিবাসীর দ্বারা এই জেলাগুলোয় পরিচালিত আথিক কর্মকান্ডের ফলে প্রাপ্ত আয়।

১৪.রপ্তানি-ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত আয়ের ৫০ শতাংশ।

১৫. আয়ের একমাত্র উত্‍স কৃষিখাত হলে এই খাত থেকে আয়ের ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

১৬. সঞ্চয়পত্রের সুদ ২৫ হাজার টাকার বেশি না হলে।

১৭. কম্পিউটার সফটোয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সেবা ব্যবসার আয়।

১৮. মত্‍স্য খামার, গবাদিপশুর খামা, হাঁস-মুরগীর খামার, তুঁতগাছের চাষ, রেশমগুটি পোকা পালনের খামার, ব্যাঙ উত্‍পাদন খামার, ফুল ও লতাপাতার চাষ, ছত্রাক উত্‍পাদনখামার, উদ্যান খামার প্রকল্প, বীজ উত্‍পাদ, স্থানীয়ভাবে উত্‍পাদিত বীজ বিপণন এবং দুগ্ধজাত দ্রব্যের খামার থেকে অর্জিত আয়। তবে এ ক্ষেত্রে অর্জিত আয় দেড় লাখ টাকার বেশি হলে অর্জিত আয়ের ১০ শতাংশ সরকারি বন্ড ক্রয়ে বিনিয়োগ করতে হবে।

১৯. স্টক একচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেযার বিক্রি থেকে অর্জিত মুলধনী মুনাফা।

২০. হস্তশিল্পজাত দ্রব্যাদি রপ্তানি থেকে আয়।

২১. জিরো কুপন বন্ড থেকে আয়।

২২. বাংলাদেশের বাইরের আয় প্রচলিত আইনের অধীনে বাংলাদেশে আনা হলে এই আয়।

২৩. সরকার অনুমোদিত সঞ্চয়ী পেনশন স্কিম থেকে অর্জিত সুদ আয়, ওয়েজ আর্নার্র্র্র্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড থেকে অর্জিত আয়।


link

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন